বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৩৪ পি.এম
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় টানা অতিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মধ্যে সরকারি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, যার মাধ্যমে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিনব্যাপী মান্দা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আয়োজনে মৈনম ও পরানপুর ইউনিয়নে পৃথক দুটি স্থানে এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, দুপুরে মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর আশ্রয়ণ পল্লী ও আদর্শ গ্রামে প্রথম দফায় ২০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী এবং প্রধান অতিথি হিসেবে ত্রাণ বিতরণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মকলেছুর রহমান মকে, বিএনপি নেতা ফরহাদ হোসেন চকদার এবং প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান। এছাড়া মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুৎ, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে একই দিন বিকেলে সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু পরানপুর ইউনিয়নের হাটোইর গ্রামে গিয়ে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
ত্রাণ বিতরণ শেষে সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, "প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের এই দুর্যোগকালীন সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এলাকার একটি মানুষও যেন খাদ্যসংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ছবি-সংবলিত একটি ব্যানার নিয়ে এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সুলতানপুর ইউনিয়নের কুরছাপ এলাকায় মিছিল বের করেছিলেন।
তারা স্লোগান দিয়ে জানান যে, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবি করছেন। মিছিলটি মহাসড়কে কিছু সময় ধরে চলে।
এছাড়া, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের পক্ষে স্লোগান দেন। দেবিদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আসাদুর রহমান রনির নেতৃত্বে মিছিলে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেছেন।
এদিকে, সন্ধ্যায় মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের একটি ভিডিও তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় অভিযুক্ত শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ আদালত দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চার দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাসকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা আসামি হরিদাসকে কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন জানান।
তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জানান যে, তার ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) হিসাবে জমা হওয়া অর্থ লেনদেন ও স্থানান্তরের বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছেন, বর্তমানে যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামির জামিন হলে তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে, এমন মর্মে আবেদন করা হয়।
অপর দিকে, হরিদাসের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিনের জন্য আবেদন জানান। এই সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।
শুনানির সময় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আসামির পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে, হরিদাস নিজেকে চাল ও ডালের ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। তিনি আদালতকে জানান, তার ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে এবং এলাকার একটি মন্দিরকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৩ জুলাই আদালত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এই মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, শ্রী হরিদাস চন্দ্র একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি হুন্ডি ও মুদ্রা পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি এমএফএস হিসাবে সন্দেহজনক উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা হয়েছে। অপরাধলব্ধ এই অর্থের লেনদেন ও হস্তান্তরের অভিযোগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাম জানান, ২০০০ সালে ‘ঘর এক মন্দির’ ধারাবাহিকের সেটে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। তিনি ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, গৌতমী তাঁর প্রথম বিয়েতে সুখী নন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লঘুচাপের প্রভাবে আগুনমুখা, দারছিড়া, বুড়াগৌরাঙ্গ এবং রাবনাবাদ নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ার ফলস্বরূপ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে জোয়ারের সময় চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েক ঘণ্টা পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগের শিকার হন।
অন্যদিকে, সকাল থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলায় কখনো রোদ অতিথি হয়েছে, কখনো মেঘলা আকাশ দেখা গেছে, আবার কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে দেখা গেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে মাছ ধরা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, গোলবুনিয়া এবং বিবির হাওলা গ্রাম। জোয়ারের পানিতে এই এলাকার বসতবাড়ির আঙিনা, রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার বাড়ি থেকে বের হতে সমস্যা অনুভব করে। কোথাও কোথাও উঠানের সঙ্গে ঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠতে দেখা গেছে।
এদিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধের মাধ্যমে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, পরবর্তী জোয়ারেও একই পরিস্থিতি হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের পানি অনেক বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। এতে বাড়িঘরের পাশাপাশি কৃষিজমি, পুকুর এবং চলাচলের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুপুর দেড়টার দিকে ভাটা শুরু হলে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করে। বিকেলের দিকে অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও স্থানীয়রা ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার এবং স্থায়ী, টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চালিতাবুনিয়া এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা এলাকার বাঁধ ভেঙে থাকার পরেও তা স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জোয়ার এলেই বারবার উপকূলের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ