সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৪ পি.এম
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচনের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষভাবে সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশোধনী এনে একটি খসড়া প্রবিধানমালা প্রস্তুত করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হবে যদি প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
খসড়া প্রবিধানমালার আওতায়, গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারাও সভাপতি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সভাপতির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সভায় প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর সংশোধিত প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। তবে এর আগে খসড়াটি নিয়ে আরও আলোচনা ও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রবিধানমালার অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটির বিভিন্ন ক্যাটাগরির সদস্য পদে প্রথমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সদস্য নির্বাচন শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে সভাপতি নির্বাচনের জন্য সভা আহ্বান করতে হবে।
সভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার সভাপতিত্ব করবেন। নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
তবে সভাপতি নির্বাচনের সভায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে সভাপতির পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে।
সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতায়ও বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালায় থাকা ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রির শর্তই বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, সভাপতি প্রার্থীকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।
তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক বা কর্মচারী ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না।
একই ব্যক্তি একই ধরনের দুইটির বেশি এবং মেয়াদভিত্তিক ধরনের তিনটির বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না, এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।
গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রবিধানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান ছিল।
পরবর্তী ২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানে ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার বিধান যুক্ত করা হয়। সেখানে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের সুযোগ রাখা হয়।
এবার ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত প্রবিধানে গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নামের তালিকায় আগে বা পরে থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে না বলেও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়া প্রবিধানমালায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির নির্বাচিত সভাপতির কিছু ক্ষমতা রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা।
পাশাপাশি একজন সভাপতি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিধি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ করবে। প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতিও দেওয়া যাবে।
আগের সংশোধিত প্রবিধানে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবে এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগ বা পদোন্নতির সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত প্রবিধানমালার আরও কয়েকটি স্থানে ‘শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান’ শব্দের পরিবর্তে নতুন পরিভাষা ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। এরপর শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিলে তা চূড়ান্ত করা হবে এবং নীতিমালা আকারে জারি করা হবে।
তিনি বলেন, ফলে এটি এখনই চূড়ান্ত হয়েছে, তা বলা যাবে না। আলোচনার মাধ্যমে আরও সংশোধনী আনা হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘সু-খবর, সু-খবর, সু-খবর...’। ফকিরহাট উপজেলার বাসিন্দাদের প্রতিদিন মাইকের উচ্চ শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। কখনো বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা ও সুযোগ-সুবিধার সুখবর প্রচার করা হয়, কখনো ভর্তি কোচিং, দোকান, হোটেল ও শোরুম উদ্বোধনের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের অফার, কম দামে ডিম-মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রচারও চলছে মাইকিংয়ের মাধ্যমে। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কোথাও রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ।
প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারের নামে শব্দদূষণের কারণে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ছেন। ‘সু-খবরের’ নামে শব্দদূষণের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভোর হলেই বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং শুরু হয়। বিশেষ করে বেসরকারি ক্লিনিকের ডাক্তারদের প্রচার, কোচিং সেন্টারের ভর্তি ও ভ্রাম্যমাণ দোকানে পণ্যের বিজ্ঞাপনে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষও দুর্ভোগে পড়ছেন।
জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রায় ১৫টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আসেন। তাদের আসার খবর জানাতে রোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাইকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মাইকিংয়ের জন্য তাদের দৈনিক ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যান ও ইজিবাইকে একাধিক মাইক লাগিয়ে তারা প্রচার করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও শোরুমের প্রচারেও উচ্চ শব্দে মাইকিং চলে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানভির হাসান অনিক জানান, সাধারণত মানুষের শ্রবণের জন্য শব্দের ৪৫ ডেসিবেল সহনীয় মাত্রা। তবে তা ৬৫ থেকে ৭০ ডেসিবেল অতিক্রম করলে ক্ষতিকর এবং ১৩০ ডেসিবেল হলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর ভয় থাকে।
ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত যে হারে মাইকিং করা হচ্ছে, তাতে শব্দের মাত্রা প্রায়ই ৭০ ডেসিবেলের উপরে থাকে, যা শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে মাইকিংয়ের শব্দ ৫৫ সেকেন্ড ধরে মোবাইলের সাউন্ড মিটার অ্যাপের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। এতে গড় শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ৭৮ দশমিক ১ ডেসিবেল এবং সর্বোচ্চ ১০২ দশমিক ৫ ডেসিবেল।
শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৫০ এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপরিসরে মাইক, লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় বিধিনিষেধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান জানিয়েছেন, শব্দদূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগী আকৃষ্ট করতে কোনো চিকিৎসক বা ক্লিনিক মাইকিংয়ের মাধ্যমে শব্দদূষণ করতে পারবে না। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। শব্দদূষণে ভুক্তভোগী কোনো নাগরিক অভিযোগ করলে প্রচলিত আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই শোবিজের পরিচিত মুখ, গায়ক ও অভিনেতা মুকুল জামিল আর নেই। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে আকস্মিকভাবে তার মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুতে সহকর্মী এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুকুল জামিলের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছে নাটকের অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সম্মানিত সদস্য মুকুল জামিলের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
শোবিজের আরও অনেক শিল্পী ও কলাকুশলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন তার মৃত্যুতে। গায়ক ও সুরকার মোহাম্মদ মিলন এক আবেগঘন পোস্টে মুকুল জামিলকে স্মরণ করে জানান, তার এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, দেখা হলেই মুকুল তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতেন এবং স্নেহের সঙ্গে কপালে চুমু দিতেন।
মোহাম্মদ মিলন আরও জানান, যদিও মুকুল জামিল মূলত একজন সংগীতশিল্পী, তবে তার ‘সেলফি’ গানে প্রথমবার মজার ছলে তাকে মডেল হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। এরপর মিলনের আরও বেশ কয়েকটি গানে অভিনয় করেছেন মুকুল।
শৈশব থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল মুকুল জামিলের। তার বোনের হাত ধরেই সংগীতজগতে প্রবেশ করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩০টিরও বেশি মিক্সড অ্যালবামে কাজ করার পাশাপাশি প্রকাশ করেছেন সলো অ্যালবাম ‘আমি তো এমনই’।
সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন মুকুল। তিনি বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি নাটক ও সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একটি সমিতি ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে একটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে। ডেভেলপমেন্ট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এই বিনিয়োগের বিপরীতে তিনি সমিতিকে তার লভ্যাংশের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লাভ দেবেন। অর্থাৎ, ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ প্রদান করা হবে। এই নির্দিষ্ট অঙ্কের লাভ গ্রহণ করা কি সুদ হিসেবে গণ্য হবে?
ঢাকার পল্লবীর জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের মুফতি মুহাম্মাদ আশরাফুল আলমের মতে, সমিতি ৩ লাখ টাকা একটি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে এবং কোম্পানিও এতে তার নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এর মানে হলো, উভয় পক্ষের মূলধন একই ব্যবসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কারণে এটি মূলত শিরকাত বা অংশীদারিত্বের ব্যবসা হিসেবে গণ্য হবে।
এ ধরনের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রকল্প থেকে যে প্রকৃত লাভ হবে, তা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত অনুপাতে অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে। তবে, ৩ লাখ টাকার বিপরীতে পূর্বনির্ধারিত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ নিশ্চিত করা জায়েজ হবে না। কারণ, শিরকাতের ক্ষেত্রে লাভ নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক হিসেবে নয়, বরং প্রকৃত লাভের একটি অংশ বা শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করতে হয়।
ব্যবসায় লোকসান হলে কী হবে?
এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, শিরকাতের ক্ষেত্রে যদি ব্যবসায় প্রকৃত লোকসান ঘটে, তাহলে প্রত্যেক অংশীদারকে তার মূলধনের অনুপাত অনুযায়ী সেই লোকসান বহন করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো প্রকল্পে মোট মূলধন ১০ লাখ টাকা হয় এবং সমিতির বিনিয়োগ ৩ লাখ টাকা হয়, তাহলে সমিতির অংশ হবে ৩০ শতাংশ। এই অবস্থায় প্রকৃত ব্যবসায়িক লোকসানের ৩০ শতাংশ সমিতিকে এবং ৭০ শতাংশ কোম্পানিকে বহন করতে হবে।
এ কারণে এমন শর্ত আরোপ করা যাবে না যে, সমিতি লাভ পাবে, কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হলে তার মূলধনে কোনো ক্ষতি হবে না।
তিনি আরও জানান, যদি প্রকল্পে অংশীদার হিসেবে নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে সেটি শিরকাত হিসেবে গণ্য হবে। এই ক্ষেত্রে প্রকৃত লাভের নির্ধারিত শতাংশ বণ্টন করা জায়েজ এবং এতে সুদ হবে না। তবে, ৩ লাখ টাকার বিপরীতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিশ্চিত লাভ দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হলে তা বৈধ শিরকাত হিসেবে গণ্য হবে না। এইভাবে মূলধনের ওপর নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। একইভাবে, ব্যবসায় লোকসান হলে তা মূলধনের অনুপাত অনুযায়ী উভয় পক্ষকে বহন করতে হবে।
من المستندات الشرعية
** «بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع» (৭/৫১৪):
«(ومنها) : أن يكون الربح معلوم القدر، فإن كان مجهولا تفسد الشركة؛ لأن الربح هو المعقود عليه، وجهالته توجب فساد العقد كما في البيع والإجارة.
** مجلة الأحكام العدلية» (ص২৫৪):
«الْمَادَّةُ (1329) شَرِكَةُ الْعَقْدِ عِبَارَةٌ عَنْ عَقْدِ شَرِكَةٍ بَيْنَ اثْنَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ عَلَى كَوْنِ رَأْسِ الْمَالِ وَالرِّبْحِ مُشْتَرَكًا بَيْنَهُمْ.»
** «مجلة الأحكام العدلية» (ص২৫৬):
«الْمَادَّةُ (১৩৩৬) يُشْتَرَطُ بَيَانُ الْوَجْهِ الَّذِي سَيُقْسَمُ فِيهِ الرِّبْحُ بَيْنَ الشُّرَكَاءِ ، وَإِذَا بَقِيَ مُبْهَمًا وَمَجْهُولًا تَكُونُ الشَّرِكَةُ فَاسِدَةً.
الْمَادَّةُ (১৩৩৭) يُشْتَرَطُ أَنْ تَكُونَ حِصَّةُ الرِّبْحِ الَّذِي بَيْنَ الشُّرَكَاءِ جُزْءًا شَائِعًا كَالنِّصْفِ وَالثُّلُثِ وَالرُّبْعِ فَإِذَا اُتُّفِقَ عَلَى أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِ الشُّرَكَاءِ كَذَا دِرْهَمًا مَقْطُوعًا مِنْ الرِّبْحِ تَكُونُ الشَّرِكَةُ بَاطِلَةً.
** «الهداية في شرح بداية المبتدي» (৩/১১):
«قال: "ولا تجوز الشركة إذا شرط لأحدهما دراهم مسماة من الربح" لأنه شرط يوجب انقطاع الشركة فعساه لا يخرج إلا قدر المسمى لأحدهما، ونظيره في المزارعة.
** «حاشية ابن عابدين = رد المحتار» (৪/ ৩০৫):
«(وشرطها) أي شركة العقد (كون المعقود عليه قابلا للوكالة) فلا تصح في مباح كاحتطاب (وعدم ما يقطعها كشرط دراهم مسماة من الربح لأحدهما) لأنه قد لا يربح غير المسمى
والله اعلم بالصواب
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। চলতি বছরে সিলেট বিভাগের হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বর্তমানে ১৬৪ জনে পৌঁছেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ, একজন সুনামগঞ্জের এবং একজনের বাড়ি হবিগঞ্জে অবস্থিত। তাদের মধ্যে তিনজন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সবাই অপুষ্টিসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১৫৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৪৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৯৫ জন।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে কারও শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ