বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১১ পি.এম
গোপালগঞ্জে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ধানের মিলের ঘরের জানালার সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মরদেহটি।
নিহত ইমাম রেজার (১৮) বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার উলপুর পূর্বপাড়া গ্রামে মামা বাড়ির এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার বাবার নাম জহিরুল মৃধা। ইমাম রেজা গোপালগঞ্জ শহরের একটি শাড়ির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
স্বজনদের অভিযোগ, ইমামকে হত্যা করে পরিত্যক্ত ঘরের জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তের দাগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক শফিউল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্তন ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারগুলোর একটি। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক নারী এই রোগে আক্রান্ত হন এবং অনেকেই মারা যান। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যদি বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রতিবছর নতুন স্তন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ৩২ লাখ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১১ লাখে পৌঁছাতে পারে।
বাংলাদেশেও নারীদের জন্য স্তন ক্যান্সার একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর নারীদের মধ্যে সাড়ে নয় হাজারের বেশি নতুন স্তন ক্যান্সারের ঘটনা শনাক্ত করা হয়।
যখন স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন রোগটি শরীরের কতটা অংশে ছড়িয়েছে তা জানা চিকিৎসার ধরন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিউমারের আকার, কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়িয়েছে কি না এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে রোগের পর্যায় নির্ধারণ করা হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্তন ক্যান্সারকে সাধারণত পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়—শূন্য থেকে চার। শূন্য পর্যায়ে ক্যান্সার কোষ নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে, আর চতুর্থ পর্যায়ে তা শরীরের দূরবর্তী অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।
যেভাবে স্তন ক্যান্সারের পর্যায় নির্ধারণ করা হয়
স্তন ক্যান্সারের পর্যায় নির্ধারণের জন্য টিউমার, লসিকাগ্রন্থি ও শরীরের অন্য অংশে ক্যান্সার ছড়িয়েছে কি না—এই তিনটি বিষয় বিশেষভাবে দেখা হয়।
এছাড়া ক্যান্সারের হরমোন গ্রহণকারী অংশের অবস্থা, এইচইআর২ নামের একটি বিশেষ প্রোটিনের উপস্থিতি, ক্যান্সারের প্রকৃতি এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্যভিত্তিক পরীক্ষার ফলও বিবেচনা করা হয়।
শূন্য পর্যায়: ক্যান্সার নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ
শূন্য পর্যায়ে ক্যান্সার কোষ সাধারণত স্তনের দুধ বহনকারী নালির মধ্যে থাকে। তবে তা আশপাশের স্তন টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে না। এই অবস্থাকে দুধনালির ভেতরে সীমাবদ্ধ ক্যান্সার বলা হয়।
প্রথম পর্যায়: ক্যান্সার ছড়ানো শুরু
প্রথম পর্যায় হলো আক্রমণাত্মক স্তন ক্যান্সারের শুরুর পর্যায়। এই সময় ক্যান্সার কোষ স্তনের স্বাভাবিক টিস্যুতে ছড়াতে শুরু করে।
প্রথম পর্যায় ক: টিউমারের আকার ২ সেন্টিমিটার বা তার কম থাকে। এই সময় স্তনের বাইরে বা কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়ায় না।
প্রথম পর্যায় খ: কখনো স্তনে স্পষ্ট কোনো টিউমার নাও থাকতে পারে। টিউমার থাকলে সেটি ২ সেন্টিমিটার বা তার কম হতে পারে। একই সঙ্গে কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে অল্প পরিমাণ ক্যান্সার কোষ পাওয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয় পর্যায়: কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ছড়াতে পারে
দ্বিতীয় পর্যায় ক: স্তনে টিউমার নাও থাকতে পারে। টিউমার থাকলে তা ২ সেন্টিমিটারের কম হতে পারে এবং বগলের নিচে বা স্তনবোনের কাছাকাছি সর্বোচ্চ তিনটি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়াতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের আকার ২ থেকে ৫ সেন্টিমিটার হতে পারে। তবে তখন কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়ানোর প্রমাণ থাকে না।
দ্বিতীয় পর্যায় খ: টিউমারের আকার ২ থেকে ৫ সেন্টিমিটার হতে পারে। এই সময় কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে অল্প পরিমাণ ক্যান্সার কোষ পাওয়া যেতে পারে। আবার বগলের নিচে বা স্তনবোনের কাছাকাছি সর্বোচ্চ তিনটি লসিকাগ্রন্থিতেও ক্যান্সার ছড়াতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে টিউমার ৫ সেন্টিমিটারের চেয়েও বড় হতে পারে। তবে তখন কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়ানোর প্রমাণ থাকে না।
তৃতীয় পর্যায়: স্তন ও আশপাশে বেশি ছড়িয়ে পড়ে
তৃতীয় পর্যায়ে ক্যান্সার স্তনের আশপাশের টিস্যু ও লসিকাগ্রন্থিতে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তৃতীয় পর্যায় ক: টিউমার দৃশ্যমান নাও হতে পারে। টিউমার থাকলে সেটি যেকোনো আকারের হতে পারে এবং বগলের নিচে বা স্তনবোনের কাছাকাছি চার থেকে নয়টি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়াতে পারে।
অন্য ক্ষেত্রে টিউমার ৫ সেন্টিমিটারের বেশি হতে পারে এবং সর্বোচ্চ তিনটি কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়াতে পারে।
তৃতীয় পর্যায় খ: টিউমার যেকোনো আকারের হতে পারে। এই সময় ক্যান্সার স্তনের বুকের দেয়াল, ত্বক অথবা উভয় জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। বগলের নিচে সর্বোচ্চ নয়টি লসিকাগ্রন্থি বা কলারবোনের আশপাশের লসিকাগ্রন্থিতেও ক্যান্সার ছড়াতে পারে।
তৃতীয় পর্যায় গ: টিউমার যেকোনো আকারের হতে পারে এবং বুকের দেয়াল বা স্তনের ত্বকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বগলের নিচে বা স্তনবোনের কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থি, কলারবোনের আশপাশের লসিকাগ্রন্থি কিংবা বগলের নিচে ১০ বা তার বেশি লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চতুর্থ পর্যায়: শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়ে
চতুর্থ পর্যায়কে ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যান্সারও বলা হয়। এই পর্যায়ে ক্যান্সার স্তন ও কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থির বাইরে শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
স্তন ক্যান্সার সাধারণত হাড়, মস্তিষ্ক, যকৃৎ ও ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্যান্সার শরীরের কোন অংশে ছড়িয়েছে, তার ওপর উপসর্গও নির্ভর করে।
সাধারণভাবে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, অনিচ্ছাকৃত ওজন কমে যাওয়া এবং ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া জায়গার আশপাশে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ ব্যক্তি ও রোগের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। কারও আবার শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে।
তবে সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি হলো স্তনে ব্যথাহীন গাঁট। এ ছাড়া বগলের নিচে বা কলারবোনের কাছে লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। স্তন বা বোঁটায় ব্যথা, স্তনের কোনো অংশ ফুলে যাওয়া, ত্বকে গর্তের মতো হয়ে যাওয়া, ত্বক মোটা বা লালচে হওয়া এবং খসখসে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বোঁটা দিয়ে রক্তমিশ্রিত তরল বের হওয়া কিংবা বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়াও স্তন ক্যান্সারের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
কোন পর্যায়ে বেঁচে থাকার হার কত
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের তথ্যভান্ডারে স্তন ক্যান্সার শরীরে কতটা ছড়িয়েছে, তার ভিত্তিতে তিনটি ভাগ করা হয়—স্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কাছাকাছি অংশে ছড়ানো এবং শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়ানো।
তথ্য অনুযায়ী, স্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার হার ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ। কাছাকাছি লসিকাগ্রন্থি বা টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়লে এই হার ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ। আর শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়লে পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার হার ৩১ শতাংশ।
সব ধরনের স্তন ক্যান্সার মিলিয়ে পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার গড় হার ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ।
তবে এসব পরিসংখ্যান বড় জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। একজন নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে বয়স, সামগ্রিক স্বাস্থ্য, ক্যান্সারের ধরন এবং চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্তন ক্যান্সারের পর্যায় জানা রোগটি কতটা ছড়িয়েছে এবং চিকিৎসার ধরন সম্পর্কে ধারণা পেতে সাহায্য করে। তবে একই পর্যায়ের সব রোগীর অবস্থা এক রকম নয়। তাই স্তনে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।
সূত্র: হেলথলাইন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলা কিউআর ব্যবহার করে আগামী নভেম্বর মাস থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে। এই সেবার মাধ্যমে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ছবি আপলোড করে টাকা আদান-প্রদান করতে সক্ষম হবেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এ সময় সরকারি মুখপাত্রসহ পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেন, দেশে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে এই পদ্ধতিতে লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। একই সময়ে লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ। এই পরিস্থিতিতে মার্চেন্টদের খরচ কমানো, তাৎক্ষণিক অর্থ জমা এবং গ্রাহকদের লেনদেনকে আরও সহজ করার জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরিফ হোসেন খান আরও জানান, গত জুন মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ লেনদেন সম্পন্ন হতো, যার আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা। বর্তমানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখে, এবং প্রতিদিনের লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
বর্তমানে দেশের ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহকরা অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন।
দেশে ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি বাড়ানো এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে সর্বজনীন বাংলা কিউআর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনকে উৎসাহিত করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিছু নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্চেন্টদের হিসাবে তাৎক্ষণিক অর্থ জমা, লেনদেনের খরচ কমানো এবং আর্থিক প্রণোদনা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিশোধ করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টদের হিসাবে জমা হবে। পাশাপাশি অ্যাকোয়ারার প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) তুলে দেওয়া হয়েছে। ইস্যুইং প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ ফি (আইআরএফ) শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে মার্চেন্টদের কিউআরভিত্তিক লেনদেনের খরচ কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো বিনা খরচে অথবা কম খরচে এ সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে।
এছাড়া মার্চেন্ট পয়েন্টে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুইং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির (পিটুপি) লেনদেনও শুরু হতে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
অন্যদিকে, লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিরোধ দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলা কিউআর লেনদেন সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে গ্রাহকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের অভিযানের জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনার জন্য নির্দেশনা পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এইচএম শাহাদাত হোসাইন এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, গত মার্চ মাস থেকে পুলিশ অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযানগুলো অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র আরও বলেন, যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও পুলিশ প্রস্তুত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন মাদরাসার ১০ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন এবং কারণ দর্শানোর নোটিশে তাদের এমপিও স্থগিত, ইনডেক্স কর্তনসহ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা জানার জন্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সহকর্মী খাইরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি খাইরুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’-এর ১৮.২ (ক) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
একই ঘটনায় মাদরাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার যোগসাজশ এবং দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা ও অযোগ্যতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে অধিদপ্তর থেকে।
এছাড়া, কুমিল্লার দাউদকান্দি মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীনের বিরুদ্ধেও শোকজ করা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ চরআইচা রাব্বানিয়া আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেনের নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার এমপিও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘন হয়েছিল কিনা, তা যাচাই করছে অধিদপ্তর।
নীলফামারীর জলঢাকার গোলনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে তার নিয়োগ তৎকালীন এমপিও জনবল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এই কারণে প্রথম এমপিওভুক্তি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি অর্থে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি তার এমপিও বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একই মাদরাসার প্রভাষক হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সরকারি কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অধিদপ্তরের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তার এমপিও স্থগিতের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এমপিও নেওয়ার অভিযোগে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিবেদনে তাদের নিবন্ধন সনদ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর অধিদপ্তর থেকে ইনডেক্স কর্তনের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়ার বিবাদীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. আফজাল হোসেনের ১৬তম নিবন্ধন এবং একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক লুৎফুন নাহারের ১৩তম নিবন্ধন সনদ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এমপিও ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের বীররামপুর জান্নাতুল উলুম আলিম মাদরাসার ইবতেদায়ী প্রধান শামিমা নাছরিনের ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন সনদও ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে এনটিআরসিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চেয়েছে অধিদপ্তর।
নোটিশে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ