০৯:৩২ পি.এম
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানিয়েছেন, দেশে গ্যাসের অনেক উৎস বিদ্যমান। সরকার এসব উৎসকে কাজে লাগানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছে। এ লক্ষ্যে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৩০টি কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে তিনটি কূপ খননের কাজ চলছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থলভাগে (অনশোরে) মোট ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রাঞ্চলে (অফশোরে) গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকার এ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইবি) বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি এসব তথ্য প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি খাতের উদীয়মান শিল্প নিয়ে পরিকল্পনাগত দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে সুনীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনোমি) আওতায় নতুন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সুনীল অর্থনীতি সেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণশিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন।
তিনি আরও জানান, দেশের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সরকারের আরেকটি অগ্রাধিকার। এই ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল ও নৌপথের উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি খাত, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাও জরুরি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি জানান, আইইবি ও বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্র এ বিষয়ে কাজ করছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাভেদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ চট্টগ্রাম বন্দরে সম্পন্ন হয়। ২১ হাজার টন জ্বালানি তেলবাহী একটি জাহাজ থেকে তেল খালাস করতে দেশে তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে, অথচ সিঙ্গাপুরে একই কাজ করতে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম। তিনি বঙ্গোপসাগর, সুনীল অর্থনীতি এবং এ খাতের উদীয়মান শিল্পগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইবির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. বখতিয়ার আহমেদ। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়াম বিনতে হাসান ফারিন। সূত্র: বাসস
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন