১১:০৮ পি.এম
মাদক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক ক্ষতির বিবেচনায় মাদক একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এই মন্তব্যটি তিনি শুক্রবার (১৭ জুলাই) বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ কর্তৃক আয়োজিত সুধী সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য হিসেবে করেন, যেখানে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, 'বাংলাদেশ যে জনমিতি লভ্যাংশ পেয়েছিলো তা কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা যেতো। তবে এজন্য দরকার ছিলো জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তরিত করে সেই উদ্বৃত্ত জনশক্তিকে রপ্তানি করা এবং দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কিন্তু অতীতের কোনো সরকারই এই পদক্ষেপ নেয়নি, বরং উদ্বৃত্ত জনশক্তিকে নষ্ট করতে মাদককে প্রশ্রয় দিয়েছে। ফলে আমাদের জনসম্পদ নিস্ক্রিয় হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ধ্বংস মধ্যেও পড়েছে। এখন জাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো মাদক প্রতিরোধ করা। আর মাদক প্রতিরোধের জন্য চাহিদা ও যোগান উভয় দিক নির্মূল করতে হবে।'
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
চরমোনাই পীর বলছেন, 'আমরা মাদকের চাহিদা কমানোর প্রচেষ্টা করতে পারি, কিন্তু মাদকের সরবরাহ লাইন নির্মূল করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।'
তিনি এসময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'মাদক সরবরাহের সাথে দেশের অনেক রথি-মহারথিদের সংযোগ থাকে। শর্ষের মধ্যে ভূত থাকে। তাই মাদকের সরবরাহ লাইন নির্মূল করতে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে একক দায়িত্ব নিতে হবে।'
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ জিয়াউল করীম। চরমোনাই পীর মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, চরমোনাই ইউনিয়নসহ দেশের সর্বত্র মাদকমুক্ত করার জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক আন্দোলনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়েরসহ স্থানীয় প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন