০৩:১৯ পি.এম
পানি নামতে শুরু করায় পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছিল। বন্যা আক্রান্ত ৮ জেলায় বর্তমানে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, বন্যার্ত এলাকায় তিনি যাবেন। বন্যায় কত টাকার ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। এদিকে, পাহাড়ের পাদদেশে অথবা পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য সমতলে বসবাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান ত্রাণমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উল্লেখ করেন ত্রাণমন্ত্রী। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এদিনের সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় ধানের বীজ ডুবে গেছে। তিনি জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জমিতে বীজতলা তৈরি করা হবে। সেখান থেকে উপযুক্ত বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
কৃষিমন্ত্রী এ সময় গৃহপালিত পশুর খাদ্য ও সুস্থতার ব্যাপারেও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, গোখাদ্য এবং গো-রোগের বিষয়ে আমরা সচেতন আছি। তিনি এটাও জানান যে, দু’দিনের মধ্যে খড় ও ভূষিজাতীয় খাবার দেয়া শুরু করবে মন্ত্রণালয়। দুর্গত এলাকায় ক্ষুরা রোগের ভ্যাক্সিন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মৎস্যচাষীদের জন্য যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সহায়তা করার কথাও জানান তিনি।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রতিটি ভুক্তভোগী মানুষের ওপর নজর রাখছে স্বাস্থ্যকর্মীরা। সাপের কামড়ে কেউ মারা যায়নি এবং প্রসূতি মায়েদের স্পিডবোটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যা মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সব মন্ত্রণালয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাসাধ্য সীমিত সম্পদ দিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তারা বন্যা সংকটকে সুন্দরভাবে মোকাবিলা করছেন, এর কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী দুর্গত এলাকায় যাওয়ার সুযোগ হলে যাবেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার সঙ্গে কর্মের সম্পর্ক নেই। তারা অলস বসে নেই এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে টিমের সদস্যরা সকলে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
আনুষঙ্গিকভাবে, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন যে, দুই একদিনের মধ্যে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসবে। চট্টগ্রামে পানি সম্পদ একটি প্রজেক্টের কাজ চলমান রয়েছে, যা এ বছরের শেষে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এতে চট্টগ্রাম সিটিতে জলাবদ্ধতার বিষয় থাকবে না বলেও তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন