ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাই হোপের দুর্দান্ত ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে ধবলধোলাই এড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ


শাই হোপের দুর্দান্ত ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে ধবলধোলাই এড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন পূরণ হলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ৩৫১ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ার পরও হার এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। শাই হোপের অপরাজিত ১৬২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের সাহায্যে ১০ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা।

শনিবার নিউ চন্ডিগড়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় দুই দল। প্রথম দুই ম্যাচে রান তাড়া করে জয়লাভ করা ভারত এবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় লক্ষ্য দিয়েছিল। তবে হোপের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

৩৫২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম ওভারে জন ক্যাম্পবেলকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর আমির জাঙ্গুকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন হোপ। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ১০৯ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে ক্যারিবীয়রা। পাওয়ার প্লে শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৭৮ রান।

আরও পড়ুন: শূন্য রান করেও ম্যাচের নায়ক ম্যাক্স ফিল্ড, খেললেন ১৩২ বল

৬৭ রান করে রানআউট হন জাঙ্গু। শেরফানে রাদারফোর্ডের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। অন্যদিকে, একপ্রান্ত আগলে রেখে রান তাড়া এগিয়ে নেন হোপ। পরবর্তী সময়ে ৫৬ রানের আরেকটি জুটি গড়ে জয়ের ভিত শক্ত করেন তিনি।

কিমো পল ও ম্যাথু ফোর্ড ফিরে গেলেও হোপের ব্যাট থামানো যায়নি। গুডাকেশ মোটির ১৪ বলে ১৯ রানের কার্যকর ইনিংস জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪৯তম ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১৪৩ বলে ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৬২ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। এই ইনিংসে ওয়ানডেতে প্রথম উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে দেড়শ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন হোপ।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। মাত্র ৪ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন রোহিত শর্মা ও রুতুরাজ গায়কোয়াড়। দুজনের ১৩৭ রানের জুটি ভারতকে বড় সংগ্রহের পথে ফিরিয়ে আনে।

আরও পড়ুন: রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক

সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি রোহিতের। ৮৫ বলে ৯২ রান করে আউট হন তিনি। অন্যদিকে, অর্ধশতক তুলে নেন গায়কোয়াড়। জেইডেন সিলসের বলে আউট হওয়ার আগে দলের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই ব্যাটার।

এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন লোকেশ রাহুল। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পাশাপাশি শেষ দিকে রানের গতি বাড়ান তিনি। ইনিংসের শেষ ১২ বলে ৪২ রান তুলে ভারতের সংগ্রহ সাড়ে তিনশ ছাড়িয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখেন রাহুল। ১২৯ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার।

শেষ দিকে নামান ধীরের ২১ বলে ৩০ এবং আংশুল কামবোজের ৯ বলে ১৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৫১ রান করে ভারত।

তবে রাহুলের সেঞ্চুরি ও ভারতের বড় সংগ্রহ শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে যায় হোপের অতিমানবীয় ইনিংসে। সিরিজের শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর পাশাপাশি সফর শেষ করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আরও পড়ুন: সালমান আগার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পাকিস্তানের জয়

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাঝ আকাশে নিখোঁজ চিকিৎসাবাহী বিমান, রেডিও-রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


মাঝ আকাশে নিখোঁজ চিকিৎসাবাহী বিমান, রেডিও-রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে একটি চিকিৎসাবাহী বিমান নিখোঁজ হয়ে গেছে, যা ছয়জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করেছিল। বিমানটি বারমুডা থেকে বোস্টনের দিকে যাত্রা করার সময় হঠাৎ করে মাঝ আকাশে রেডিও এবং রাডার—দুই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং পাইলট জরুরি পরিস্থিতির কথা জানান।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি শুরু করে। পরবর্তীতে নানটাকেট দ্বীপের উপকূলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। তবে ছয় আরোহীর সন্ধানে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, গালফস্ট্রিম জি-১০০ বিমানটির সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় সময় রাত ১টার পর এর সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

মার্কিন কোস্টগার্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগ জানায়, ম্যাসাচুসেটসের নানটাকেট দ্বীপের উপকূলে আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে বিমান, হেলিকপ্টার এবং উদ্ধারকারী নৌযান ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ১টা ৩০ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল।

কোস্টগার্ডের প্রকাশিত বিমানের পরিচিতি অনুযায়ী, এটি কানাডাভিত্তিক ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিমান। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশ থেকে রোগীদের চিকিৎসার পর নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবাহী বিমান পরিচালনা করে।

প্রতিষ্ঠানটির ফ্লাইট পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজ জানান, বিমানে দুই পাইলট ও দুইজন চিকিৎসাকর্মী ছিলেন। তারা সবাই কানাডার নাগরিক। এছাড়া বিমানে একজন রোগী ও তার একজন স্বজনও ছিলেন, তবে তারা কানাডার নাগরিক নন।

উড্ডয়নের পর বিমানটির উচ্চতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ১১ হাজার ফুটে নেমে আসে। কিছু সময় ওই উচ্চতায় অবস্থান করার পর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রেডিও যোগাযোগের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির পাইলট ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাইলটকে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন কি না জানতে চাওয়া হয়। পাইলটের জবাব স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।

পরে নিয়ন্ত্রণকক্ষ নিশ্চিত করে যে পাইলট জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিলেন। এরপর জরুরি উদ্ধারকারী দলকে বিমানটির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। তখন বিমানটিতে বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।

এর কিছুক্ষণ পর উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, বিমানটির রেডিও ও রাডার—দুটোরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোংলা পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ভিডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


মোংলা পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ভিডিও ভাইরাল

মোংলা পোর্ট পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রায়ই রাতের বেলায় অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ছাগল পরিবহন করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার মো. শরীফুল ছাগলগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন। একজন তাৎক্ষণিকভাবে সেটার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পরে ওই ছাগলগুলো মোংলায় আনা হয়। মোংলার ছাগল ব্যবসায়ী মো. রশিদের ছাগল ছিল সেগুলো। অভিযোগ রয়েছে যে, শরীফুল টাকার বিনিময়ে প্রায়ই অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহন করে আসছিলেন।

এ বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্সের চালক শরীফুল বলেন, "অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ঘটনা এটাই প্রথম।" তিনি দাবি করেছেন যে, ছাগল পরিবহন বাবদ তিনি কোনো টাকা নেননি।

ছাগল ব্যবসায়ী কসাই রশিদ জানান, "আমি চুকনগর থেকে ছাগল কিনে জিরো পয়েন্টে আসি। সেখানে কোনো গাড়ি না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে ৬টি ছাগল অ্যাম্বুলেন্সে করে মোংলায় নিয়ে আসি। এ বাবদ ড্রাইভারকে আমি কোনো টাকা দিইনি।"

এদিকে, এই ঘটনার পর পৌর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার (২ অক্টোবর) অ্যাম্বুলেন্সের চালক শরীফুলের কাছ থেকে চাবি নিয়ে নিয়েছে। ছাগল পরিবহনের এই ঘটনায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

এ বিষয়ে জানতে মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমীর মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুল পাকার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণার ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


চুল পাকার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণার ইঙ্গিত

বয়সের সাথে সাথে চুলের পেকে যাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রথম সাদা চুল দেখা দিলে অনেকেই এটিকে বয়সের চিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যরা চুলের রঙ ঢাকতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তবে সম্প্রতি একটি গবেষণায় চুল পাকার সাথে শরীরের কোষীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে দেখেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কোষ ক্যানসারে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নিজেদের পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। এই পরিবর্তনের ফলে চুলের রঙ তৈরির কোষের মজুত কমে গিয়ে চুল সাদা বা ধূসর হয়ে যেতে পারে। গবেষণার ফলাফল দ্য টেলিগ্রাফ ও সায়েন্স ডেইলির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি নেচার সেল বায়োলজি সাময়িকীতেও প্রকাশিত হয়েছে।

চুলের রং তৈরি হয় যেভাবে

মেলানোসাইট স্টেম সেল চুলের রঙ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চুলের গোড়ার গভীরে অবস্থিত এই কোষ প্রয়োজন অনুযায়ী রঞ্জক কোষ তৈরি করে। এই রঞ্জক কোষগুলি চুল ও ত্বকের রঙ নির্ধারণ করে।

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার চক্রের সাথে তাল মিলিয়ে এই কোষগুলো নিয়মিতভাবে সক্রিয় হয়। নতুন কোষ তৈরি করে আবার বিশ্রামে চলে যায়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চুলের স্বাভাবিক রঙ বজায় থাকে।

ক্ষতিগ্রস্ত কোষের অদ্ভুত সিদ্ধান্ত

শরীরের অন্যান্য কোষের মতো চুলের রঙ তৈরির এই কোষগুলোও বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিবেগুনি রশ্মি, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ এবং শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় তৈরি ক্ষতির কারণে তাদের বংশগত উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মেলানোসাইট স্টেম সেলের বংশগত উপাদানে গুরুতর ক্ষতি হলে কোষটি একটি বিশেষ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে সেনো-ডিফারেনশিয়েশন নাম দিয়েছেন। সহজ ভাষায়, ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেল দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রঞ্জক কোষে পরিণত হয়ে যায় এবং এরপর সেটি আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না।

ফলে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরির মজুত ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। এর ফলস্বরূপ চুলে ধূসর বা সাদা রঙ দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ একটি সাদা চুলকে এমন একটি কোষীয় পরিবর্তনের চিহ্ন হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কোষটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই নিজের স্টেম সেল অবস্থান ছেড়ে দেয়।

চুল পাকা মানেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা নয়।

তবে গবেষকেরা এমন দাবি করেননি যে চুল পেকে গেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায় বা ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। বরং তাদের ধারণা, চুল পাকার এই প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সুযোগ কমানোর একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হতে পারে।

তবে এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সব সময় একইভাবে কাজ করে না। ক্ষতির ধরন এবং কোষের আশপাশের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে এর পরিণতি ভিন্ন হতে পারে।

একই কোষ, দুই রকম পরিণতি

গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো, সব ধরনের ক্ষতির ক্ষেত্রে কোষ একই পথ বেছে নেয়নি। কিছু পরিস্থিতিতে আশপাশের টিস্যু থেকে পাওয়া সংকেত ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেলকে আবার বিভাজিত হয়ে সংখ্যা বাড়াতে উৎসাহিত করেছে।

এর ফলে বংশগত উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও কোষগুলো টিকে থেকে বিভাজিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতি ত্বকের মেলানোমা নামের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।

বিজ্ঞানীরা এই দুই বিপরীত পরিণতিকে পরস্পরবিরোধী পরিণতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ একই ধরনের স্টেম সেল ক্ষতির ধরন ও আশপাশের পরিবেশের সংকেত অনুযায়ী কখনো চুল পাকার কারণ হতে পারে, আবার কখনো ক্যানসারের সূচনাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বয়স বাড়লে কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের কোষে বংশগত উপাদানের ক্ষতি জমতে থাকে। একই সাথে ক্ষতি শনাক্ত করা, মেরামত করা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সরিয়ে ফেলার স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

নতুন গবেষণা বলছে, চুল পাকা ও ত্বকের মেলানোমার মতো বিষয়গুলোর পেছনে কিছু অভিন্ন কোষীয় প্রক্রিয়া থাকতে পারে। শরীর কোনো ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সরিয়ে দেবে, নাকি তাকে টিকে থেকে বিভাজিত হওয়ার সুযোগ দেবে—এই সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করতে পারে।

মানুষের ক্ষেত্রে এখনও নিশ্চিত নয়

তবে গবেষণার ফল থেকে এখনই মানুষের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। ইঁদুর ও মানুষের জীববিজ্ঞানে পার্থক্য রয়েছে। মানুষের বংশগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন ও পরিবেশও এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

অতএব, মানুষের চুল পাকার সাথে মেলানোমার ঝুঁকির সম্পর্ক কেমন, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। নতুন এই গবেষণা চুল পাকার মতো স্বাভাবিক একটি ঘটনাকে শরীরের কোষীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সাথে বোঝার ক্ষেত্রে নতুন একটি দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেরুর আন্দিজে রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি ‘লিওলাইমাস আর্কিপেনসিস’ আবিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


পেরুর আন্দিজে রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি ‘লিওলাইমাস আর্কিপেনসিস’ আবিষ্কার

বিজ্ঞানীরা পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় টিকটিকির একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান করেছেন। এই ক্ষুদ্র সরীসৃপটি চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য পরিচিত, এবং এর বাহারি রং ও শরীরের বিশেষ নকশা গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

নতুন প্রজাতির আবিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করেছে পেরুর সান মার্কোস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর। এই প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে ‘লিওলাইমাস আর্কিপেনসিস’ নামে।

দক্ষিণ পেরুর আরেকিপা অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার বা ১৫ হাজার ৭৫০ ফুট উচ্চতায় এই প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়। এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন টিকটিকিটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৬ থেকে ৮ সেন্টিমিটার।

খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে এই প্রজাতির বৈচিত্র্য রয়েছে। ছোট উদ্ভিদের পাশাপাশি, মাকড়সা, গুবরে পোকা এবং অন্যান্য পোকামাকড়ের লার্ভা খেয়ে বেঁচে থাকে তারা।

নতুন প্রজাতিটির পুরুষ ও স্ত্রী সদস্যদের শরীরের রং এবং নকশায় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। স্ত্রী টিকটিকির পিঠে বর্গাকার দাগ রয়েছে, যেখানে পুরুষদের পিঠে তির্যক দাগ ও সাদা আঁশ দেখা যায়। গবেষকদের ধারণা, এই বৈশিষ্ট্যগুলো পাথুরে পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে মিশে শিকারির চোখ এড়াতে সহায়তা করে।

গবেষণার প্রধান জীববিজ্ঞানী লিং হুয়ামানি-ভালদেররামা জানিয়েছেন, পেরুতে বর্তমানে ২৯৬ প্রজাতির টিকটিকি বিদ্যমান। নতুন এই প্রজাতির আবিষ্কার দেশটির জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের পরিধি আরও বাড়াবে।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘ডাইভারসিটি’-তে। উচ্চ পর্বতাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশে প্রাণীদের অভিযোজন এবং জীববৈচিত্র্যের অজানা দিক উন্মোচনে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%