০৭:৪৭ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইকারী বলে অভিযোগ করে জিসান (২৫) নামের এক যুবককে তার বাসা থেকে ধরে এনে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত জিসানের মা শিল্পী আক্তার রোববার (৫ জুলাই) রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এজাহারনামীয় ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৬ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও ‘আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠন’-এর নেতা কাউছার আহমেদকে।
এই হত্যার বিষয়টি আজ সোমবার দুপুরে সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম। এর আগে, শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুস মিয়ার ছেলে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
নিহত জিসানের পরিবারের লোকজন জানান, স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাউছার আহমেদ সম্প্রতি এলাকার যুবকদের নিয়ে ‘আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠন’ নামে একটি মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী সামাজিক সংগঠন গঠন করেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে মসজিদের ইমাম কাউছারের নেতৃত্বে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য জিসানের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে ও অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করে জিসানকে গুরুতর আহত করে তারা। একসময় জিসান অচেতন হয়ে পড়লে সেই অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে তুলে দিয়ে চলে যায় সংগঠনের সদস্যরা। পরে স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় জিসানকে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে যখন নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জিসানের পরিবারের অভিযোগ, ইমাম কাউছার আহমেদের নেতৃত্বে জিসানকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে ফেলা হয়। জিসানকে ছেড়ে দিতে তারা বারবার অনুরোধ করলেও আল ফালাহ সংগঠনের সদস্যরা তা মানতে অপারগ ছিল। একপর্যায়ে জিসানের নিথর দেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন নিহত জিসানের পরিবার।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম সময় সংবাদকে জানান, 'ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে আমাদের পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হব।'
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন