ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্রান্সেস্কো পিও এসপোসিতো স্পর্শ করলেন ৯৫ বছরের রেকর্ড


ফ্রান্সেস্কো পিও এসপোসিতো স্পর্শ করলেন ৯৫ বছরের রেকর্ড

ইতালির জার্সিতে নতুন প্রজন্মের অন্যতম প্রতিভাবান মুখ হিসেবে তরুণ স্ট্রাইকার ফ্রান্সেস্কো পিও এসপোসিতো নিজেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছেন। তুরস্কের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলের জয়ে তিনি শেষ মুহূর্তে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন, পাশাপাশি ইতালিয়ান ফুটবলের ৯৫ বছরের পুরোনো একটি রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন।

সোমবার রাতে বোলোগনার রেনাতো দাল’আরা স্টেডিয়ামে তুরস্কের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৫৫তম মিনিটে জিয়ানলুকা স্কামাক্কার বদলি হিসেবে মাঠে প্রবেশ করেন এসপোসিতো। মাঠে প্রবেশ করার পরই আক্রমণে নিজের উপস্থিতি জানান দেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড, এবং ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে ইতালির তৃতীয় গোলটি করেন।

এই গোলের মাধ্যমে এসপোসিতো আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাত গোলের মালিক হলেন, তার ২১তম জন্মদিনের আগেই। ইতালির ফুটবল ইতিহাসে কিংবদন্তি জিউসেপ্পে মেয়াৎসার পর তিনিই দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে জাতীয় দলের হয়ে সাতটি গোল করেছেন।

আরও পড়ুন: শূন্য রান করেও ম্যাচের নায়ক ম্যাক্স ফিল্ড, খেললেন ১৩২ বল

ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপ্টার তথ্য অনুসারে, ১৯৩১ সালের ২৫ জানুয়ারি, মাত্র ২০ বছর ১৫৫ দিন বয়সে ইতালির হয়ে সপ্তম গোল করেছিলেন মেয়াৎসা। দীর্ঘ ৯৫ বছর পর সেই বিরল রেকর্ডে কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডের পাশে এসপোসিতোর নাম যুক্ত হলো।

তুরস্কের বিরুদ্ধে এই জয় দিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ-১-এ ইতালি ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আজ্জুরিরা। ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের চেয়ে তারা ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে।

অন্যদিকে, ৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম। চার ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়া তুরস্ক গ্রুপের তলানিতে অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন: রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


আজ জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উদযাপন

আজ ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’।

সঠিক ও নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন একটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ন্যায়সংগত বাজেট বণ্টন এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্য অর্জনে কিছু আইনি দুর্বলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গড় হার যথাক্রমে ৫০ ও ৪৭ শতাংশ। এর মানে হলো, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনও নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। এর ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার পেতে অনেককে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

নির্ভুল ও সময়মতো নিবন্ধন না থাকার কারণে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, মৃত্যু নিবন্ধন না থাকার কারণে উত্তরাধিকার প্রমাণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রাম, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও নগরের বস্তি এলাকায় মৃত্যু নিবন্ধনের হার অনেক কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ভুল নিবন্ধন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ সংস্কার করা প্রয়োজন।

পরিবারের ওপর এককভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব না দিয়ে সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে নিবন্ধনের দায়িত্ব দিলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুল নিবন্ধনের আওতায় আসবে।

এতে তথ্য বিকৃতির সুযোগ কমে যাবে, ভুয়া ও ভুল নিবন্ধন বন্ধ হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সবার জন্য আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনও দ্রুততর হবে।

জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের মন্তব্য করেন, সুশাসন নিশ্চিত করার প্রথম শর্ত হলো নাগরিকদের নির্ভুল ও সার্বজনীন তথ্য সংরক্ষণ।

তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দিলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কে নূহের নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষের খোঁজে গবেষকদের সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


তুরস্কে নূহের নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষের খোঁজে গবেষকদের সাফল্য

ইরান সীমান্তের তুরস্কের আগ্রি প্রদেশের দোগুবেয়াজিত জেলায় একটি জাহাজের আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে গবেষণা। অনেকের বিশ্বাস, এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ। সম্প্রতি সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল সেখানে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান সম্পন্ন করেছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

গবেষক দলের উপপ্রধান, মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানান, অনুসন্ধানের সময় কাঠামোটির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভের নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নিচে কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, যা হলো কাঠামোটি কোনো একক পাথরের খণ্ড নয়। আগে ধারণা করা হয়েছিল, শক্ত কোনো পাথর দীর্ঘদিনের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় জাহাজের মতো আকৃতি ধারণ করেছে। কিন্তু কোর ড্রিলিংয়ের সময় বিভিন্ন গভীরতা থেকে ধারাবাহিকভাবে মাটির নমুনা পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ যে কাঠামোটি মানুষের তৈরি, এমন সিদ্ধান্তেও এখনই পৌঁছানো যাচ্ছে না।

জোনস বলেন, ভূগর্ভে পাওয়া গাঢ় রঙের মাটি বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি পচে যাওয়া কাঠের অবশেষ কি না, নাকি অন্য কোনো প্রাকৃতিক বা মানবিক কর্মকাণ্ডের ফল, তা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর জানা যাবে। গত আগস্টে পরিচালিত রাডার স্ক্যানেও কাঠামোর নিচে কিছু অস্বাভাবিক বস্তু বা গঠনের সংকেত পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী পাঁচটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় টানা প্রায় ৯০ দিন ধরে মাঠপর্যায়ের কাজ চলে।

গবেষকরা ওই এলাকার ভূখণ্ডের বিস্তারিত মডেল তৈরি করতে ড্রোন ব্যবহার করেন। মাটির নিচের গঠন শনাক্ত করতে আধুনিক রাডার ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কোর ড্রিলিংও করা হয়। এসব নমুনা ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে এই কাঠামোর সম্পর্কের দাবি নতুন নয়। ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, তুরস্কের ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে বিমান থেকে জরিপ চালানোর সময় প্রথম কাঠামোটির সন্ধান পান। এরপর থেকেই এটি নিয়ে তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের আগ্রহ তৈরি হয়।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস।

তিনি বলেন, গবেষণার কাজ এখনো শেষ হয়নি। রাডার থেকে পাওয়া তথ্য, মাটির নমুনা ও কোর ড্রিলিংয়ের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে এ গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে।

অর্থাৎ, গবেষকদের হাতে রয়েছে কিছু অস্বাভাবিক ভূগর্ভস্থ গঠন ও মাটির নমুনা, কিন্তু এগুলো নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ, এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস

একটি শিশুর প্রথম হাসি, প্রথম বসা, প্রথম হাঁটা—প্রতিটি মুহূর্তই পরিবারের জন্য আনন্দের। কিন্তু সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এই আনন্দের সঙ্গে শুরু হয় দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পথ। বয়স বাড়লেও অনেক শিশু বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। কারও কথা বলতে সমস্যা হয়, কারও আবার হাত-পায়ের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে থাকে না। অনেকের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণ, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কিংবা খিঁচুনির মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

তবে সেরিব্রাল পালসি মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। যথাসময়ে শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, নিয়মিত থেরাপি এবং পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা পেলে আক্রান্ত শিশুরাও নিজেদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

আজ ৬ অক্টোবর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস। এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রচারের মূল বার্তা—সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ৫ কোটি মানুষের কণ্ঠকে একত্র করে পরিবর্তনের দাবি জোরালো করা। দিবসটির লক্ষ্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা।

বাংলাদেশে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হচ্ছে।

কেন হয় সেরিব্রাল পালসি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেরিব্রাল পালসি মূলত শিশুর বিকাশমান মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বিকাশ বা মস্তিষ্কে ক্ষতির কারণে হয়। অনেক ক্ষেত্রে জন্মের আগে, জন্মের সময় অথবা জন্মের পরপরই মস্তিষ্কে ক্ষতির সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকে।

অপরিণত বা কম ওজন নিয়ে জন্ম, জন্মের সময় অক্সিজেনের ঘাটতি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নবজাতকের কিছু সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতা এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. মো. বরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সেরিব্রাল পালসির সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো নড়াচড়া ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা। কারও পেশি শক্ত হয়ে থাকে, কারও অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া হয়, আবার কারও শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় করতে সমস্যা হয়।

তিনি আরও বলেন, সেরিব্রাল পালসি শুধু চলাফেরার সমস্যা নয়। আক্রান্ত শিশুর কথা বলা, গিলতে পারা, খাওয়া, দেখা, শোনা কিংবা শেখার ক্ষেত্রেও সমস্যা থাকতে পারে।

দ্রুত শনাক্তকরণ জরুরি

শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ধাপ সম্পর্কে পরিবারের সচেতনতার অভাবে অনেক সময় সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হতে দেরি হয়। যে শিশু নির্দিষ্ট বয়সে মাথা ধরে রাখতে পারছে না, বসতে পারছে না, হামাগুড়ি বা দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে না, এক পাশের হাত-পা বেশি ব্যবহার করছে কিংবা শরীর অস্বাভাবিক শক্ত বা ঢিলে—এসব লক্ষণকে অনেক সময় পরিবার স্বাভাবিক বিকাশের অংশ বলে মনে করে।

কেউ কেউ আবার ভাবেন, বয়স বাড়লে শিশু ঠিক হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অপেক্ষায় মূল্যবান সময় নষ্ট হতে পারে। কারণ শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর মস্তিষ্কের বিকাশ ও শেখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় থেরাপি ও সহায়তা শুরু করা যায়, শিশুর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তত বেশি।

দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রয়োজন

সেরিব্রাল পালসির জন্য এমন কোনো একক চিকিৎসা নেই, যা সব শিশুকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলবে। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো শিশুর সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যথা ও জটিলতা কমানো এবং তাকে যতটা সম্ভব স্বাধীনভাবে জীবনযাপনে সক্ষম করা।

এ জন্য প্রয়োজন হতে পারে ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বাড়ানোর থেরাপি, কথা বলা ও ভাষা শেখার থেরাপি, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, সহায়ক যন্ত্র, হুইলচেয়ার, দৃষ্টি ও শ্রবণ পরীক্ষা এবং খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। কিছু ক্ষেত্রে হাড় ও অস্থিসন্ধির অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি

তবে বাংলাদেশে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা পেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষায়িত পুনর্বাসন ও শিশু স্নায়ুরোগের বড় অংশের সেবা রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পরিবারগুলোকে অনেক সময় চিকিৎসা ও থেরাপির জন্য ঢাকায় আসতে হয়।

নিয়মিত থেরাপির খরচের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা, অভিভাবকের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য ব্যয়ও পরিবারের ওপর চাপ তৈরি করে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় বহন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শুরুতে নিয়মিত থেরাপি করালেও কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর অনেক পরিবার তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এস এম মাহমুদুজ্জামান শোয়েব গণমাধ্যমকে বলেন, সেরিব্রাল পালসি মূলত দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার বিষয়। কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস থেরাপি করালেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায়—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে থেরাপির ধরন ও লক্ষ্যও পরিবর্তিত হতে পারে। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ না থাকলে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, অস্থিসন্ধির নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা, অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি, ব্যথা এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তার মতে, শুধু হাসপাতাল বা থেরাপি কেন্দ্র বাড়ালেই হবে না। পরিবারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঘরেও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা কম, শিশু পুনর্বাসনের সুযোগও সীমিত। একই সঙ্গে ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বাড়ানোর থেরাপি ও কথা বলার থেরাপির সমন্বিত সেবাও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে একই জায়গায় সব ধরনের সেবা পাওয়ার সুযোগ কম।

পরিবারের ওপরও বাড়ে চাপ

সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশু রক্তিমের মা ইশরাত জাহান (ছদ্মনাম) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত একটি শিশুর যত্নের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রে মায়ের ওপরই পড়ে। শিশুর দৈনন্দিন কাজ, খাওয়ানো, গোসল, পোশাক পরানো, থেরাপিতে নিয়ে যাওয়া—সবকিছু সামলাতে গিয়ে অনেক মাকে চাকরি বা আয়মূলক কাজ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। আমার নিজেকেও চাকরি ছাড়তে হয়েছে বাচ্চাকে সামলাতে গিয়ে।’

শুধু চিকিৎসা নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় তাদের নিয়ে করুণা করা হয়, দূরে সরিয়ে রাখা হয় কিংবা তাদের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এমনকি কিছু পরিবারও মনে করে, সন্তানটি কিছুই করতে পারবে না।

এর ফলে শিশুর শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সম্ভাবনা শুরুতেই সীমিত হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত শিশুদের জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত সহযোগিতা। সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ, সহজলভ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা গেলে শরীরের সীমাবদ্ধতা কোনো শিশুর স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, শিক্ষকতা কখনোই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষকদের নিয়োগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করছে যাতে শিক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে গ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।’

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকরা এ সম্মাননা লাভ করেন।

এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো: ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তিনি ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের মেধা ও যোগ্যতার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন এবং প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে একজন সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।’

পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই ‘আদর্শ রোল মডেল’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে, যাতে শিক্ষকরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের এ সময়ে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তাই ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।’

বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই হাতে পাবে।’

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন বইবিমুখ হয়ে না ওঠে, সেজন্য ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ করার বদলে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’- এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল তৈরি হলে একজন শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বর্তমানে সারা বিশ্বে, বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞান অর্জনের সুযোগকে অবারিত করেছে। সার্টিফিকেট নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে আরও আধুনিক করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিকে আমরা শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখতে চাই না। বরং প্রযুক্তি হবে শিক্ষকের শক্তি। এ লক্ষ্যেই সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কর্মসূচির আওতায় একজন শিক্ষক ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায়ে কেউ কোনো কারণে ঝরে পড়লেও যেন বেকার না থাকে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।’

শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ বাজেট আরও বাড়ানো হবে।’

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপ্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। এ পর্যায়ের শিক্ষার বড় অংশই বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার সুযোগের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে এখনও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে শহর কিংবা গ্রাম- সব এলাকার শিক্ষার্থী যাতে দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে।’

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মূল ভিত্তি হচ্ছে সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার।’

কর্মমুখী শিক্ষা প্রয়োজন হলেও কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনও শিক্ষার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে সেই জ্ঞান সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণের কারণ হতে পারে।’

সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মান- এসব মূল্যবোধকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে পরিবারের পর শিক্ষক-শিক্ষিকারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকতা পেশাকে আরও সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য সরকার কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ঢেলে সাজানো হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে রাষ্ট্রীয় ভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন। চলতি বছর থেকে একটি নীতিমালার ভিত্তিতে এসব অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক কর্মরত থাকুন কিংবা অবসর জীবনে, তার মহান পেশার কারণেই আমৃত্যু তিনি রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়।’

শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের নির্দেশনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন শিক্ষককে শুধু বেতন বা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘুরতে হবে না। যথানিয়মে যথাসময়ে তাঁর প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের শিক্ষকরাই জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।’

শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%