প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আজ ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’।
সঠিক ও নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন একটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ন্যায়সংগত বাজেট বণ্টন এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্য অর্জনে কিছু আইনি দুর্বলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গড় হার যথাক্রমে ৫০ ও ৪৭ শতাংশ। এর মানে হলো, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনও নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। এর ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার পেতে অনেককে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
নির্ভুল ও সময়মতো নিবন্ধন না থাকার কারণে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, মৃত্যু নিবন্ধন না থাকার কারণে উত্তরাধিকার প্রমাণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রাম, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও নগরের বস্তি এলাকায় মৃত্যু নিবন্ধনের হার অনেক কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ভুল নিবন্ধন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ সংস্কার করা প্রয়োজন।
পরিবারের ওপর এককভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব না দিয়ে সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে নিবন্ধনের দায়িত্ব দিলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুল নিবন্ধনের আওতায় আসবে।
এতে তথ্য বিকৃতির সুযোগ কমে যাবে, ভুয়া ও ভুল নিবন্ধন বন্ধ হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সবার জন্য আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনও দ্রুততর হবে।
জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের মন্তব্য করেন, সুশাসন নিশ্চিত করার প্রথম শর্ত হলো নাগরিকদের নির্ভুল ও সার্বজনীন তথ্য সংরক্ষণ।
তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দিলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন