ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন


সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

নতুন কাঠামোর আওতায় বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হলে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন এবং প্রায় তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে পাবেন। তবে, বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন এবং বেতন কার্যকরের তারিখের ওপর।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউল ব্যবহার করে। এর জন্য চাকরিজীবীদের অনলাইনে নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় এসব তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করার পর বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হবে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

যেসব তথ্য দিতে হবে

পে ফিক্সেশনের জন্য চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের তথ্য প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি, আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও যাচাই করতে হবে।

যদি কোনো কর্মচারীর পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ইতিহাস থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও অফিস আদেশ প্রস্তুত রাখতে হবে। নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্যে ভুল থাকলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরও প্রয়োজন হবে।

ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন বেতন

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

সরকার ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৯ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন-ভাতা কার্যকর হবে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রচলিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করা হবে।

নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ৭০ শতাংশ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দুই ধাপে মূল বেতনের বর্ধিত অংশ পরিশোধের জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তথ্য যাচাই করবে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়

অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য ও নথিপত্রে অসংগতি থাকলে সংশোধন করতে হতে পারে। তাই শুধুমাত্র অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই প্রক্রিয়া শেষ হবে না; চাকরির ইতিহাস ও আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যের সঙ্গে নতুন তথ্যের সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে বকেয়া পাওনার হিসাবও চূড়ান্ত হবে। অনলাইনে তথ্য দিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।

এদিকে, বেতন নির্ধারণের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের ‘সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি’ (এসপিএফএমএস) এর আওতায় আইবাস প্লাস প্লাসে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক, জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতা

নতুন বেতন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী যদি পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে আট বছর পূর্ণ করেন এবং তাঁর চাকরি সন্তোষজনক হয়, তাহলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডও পাওয়া যেতে পারে।

তবে, আগের বেতন কাঠামোয় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। এসব জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে।

অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, আগের কাঠামোয় একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে একটিমাত্র উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

অর্থ বিভাগের সূত্রগুলোর মতে, ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে বেতন নির্ধারণের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও যাচাই করা হবে। এসব তথ্য সঠিকভাবে যাচাই ও নির্ধারণ সম্পন্ন হলেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন এবং বকেয়া পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাছে পাখি নয়, ঝুলছে শত শত পুতুলের রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


গাছে পাখি নয়, ঝুলছে শত শত পুতুলের রহস্য

গাছের ডালে পাখির পরিবর্তে ঝুলে রয়েছে শত শত পুরোনো পুতুল। কিছু পুতুলের চোখ নেই, আবার কিছু পুতুল হাত-পা হারিয়েছে। রোদ ও বৃষ্টিতে ক্ষয়ে যাওয়া এসব পুতুলের ফাঁকা চোখ ও অস্বাভাবিক চেহারা দেখে অনেক দর্শনার্থী শিউরে ওঠেন।

মেক্সিকোর ‘ইসলা দে লাস মুনেকাস’ বা ‘পুতুলের দ্বীপ’ নামে পরিচিত এই স্থানটি একটি রহস্যময় গল্পকে ঘিরে রয়েছে, যার অনেক অংশের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মেক্সিকো সিটির দক্ষিণে জোচিমিলকোর খালপথে অবস্থিত দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। রঙিন ‘ত্রাহিনেরা’ নৌকায় খাল পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয়। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং শান্ত জলরাশির মধ্যে গাছের ডালে ঝুলে থাকা শত শত পুতুলের দৃশ্য দ্বীপটিকে একটি ভিন্ন পরিবেশ প্রদান করে।

একটি পুতুল থেকেই শুরু

দ্বীপটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ডন জুলিয়ান সান্তানা বাররেরার নাম। প্রচলিত কাহিনীর মতে, তিনি ১৯৫০-এর দশকে ওই দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। একদিন কাছের খালে এক কিশোরী ডুবে মারা যাওয়ার পর তিনি তার আত্মার উপস্থিতি অনুভব করতে শুরু করেন বলে জানা যায়।

কিছুদিন পর তিনি পানিতে ভাসতে থাকা একটি পুতুল খুঁজে পান। তার বিশ্বাস ছিল, পুতুলটি ওই কিশোরীর আত্মাকে শান্ত করতে সক্ষম। এরপর তিনি পুতুলটি একটি গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেন।

এখান থেকেই শুরু হয় পুতুল সংগ্রহের কাহিনি। সময়ের সঙ্গে তিনি আশপাশের খাল, পরিত্যক্ত স্থান ও মানুষের কাছ থেকে পুরোনো পুতুল সংগ্রহ করতে থাকেন। পরে তিনি সেগুলো দ্বীপের বিভিন্ন গাছে ঝুলিয়ে দেন। এভাবেই একটি পুতুলের জায়গায় শত শত পুতুল স্থান করে নেয়।

কেন গাছে ঝোলানো হতো পুতুল?

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সান্তানা মনে করতেন পুতুলগুলো তাকে এবং দ্বীপটিকে অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করবে। তবে কেন তিনি বছরের পর বছর ধরে এভাবে পুতুল সংগ্রহ করেছেন, তার সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কিছু মানুষের ধারণা, কিশোরীর আত্মাকে ঘিরে তার বিশ্বাসই এই কাজের মূল কারণ। আবার অন্যদের মতে, দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাস তাকে পুতুল সংগ্রহে আরও আগ্রহী করে তোলে।

তবে দ্বীপটির সবচেয়ে বড় রহস্য হলো সেই কথিত কিশোরী। তার পরিচয়, মৃত্যুর ঘটনা কিংবা আত্মার উপস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে পুতুলের দ্বীপের জন্ম নিয়ে প্রচলিত কাহিনির সত্যতা আজও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

ভূতুড়ে পরিবেশ, নানা দাবি

দ্বীপটির গাছগুলোতে ঝুলে থাকা পুতুলের অনেকগুলোই দীর্ঘদিনের রোদ-বৃষ্টিতে ক্ষয়ে গেছে। কিছু পুতুল গাছের ডালে একা ঝুলছে, আবার কিছু পুতুল একসঙ্গে কয়েকটি করে বাঁধা রয়েছে। পুতুলগুলোর ফাঁকা চোখ, ভাঙা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং বিবর্ণ চেহারা জায়গাটিকে অস্বস্তিকর করে তুলেছে।

দর্শনার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন, পুতুলগুলো নড়াচড়া করে, চোখের পাতা ফেলে কিংবা ফিসফিস করে কথা বলে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বাতাসে পুতুলের নড়াচড়া, আলো-ছায়ার পরিবর্তন এবং পরিবেশের অস্বাভাবিক আবহ থেকেই এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

সান্তানার মৃত্যুর পর আরও পরিচিতি

২০০১ সালে ডন জুলিয়ান সান্তানা বাররের মৃত্যু ঘটে। প্রচলিত গল্পে বলা হয়, যে স্থানে এক কিশোরী ডুবে মারা গিয়েছিল বলে তিনি বিশ্বাস করতেন, তার কাছাকাছিই তার মৃত্যু হয়। এই কাকতালীয় ঘটনা দ্বীপটির রহস্যময় পরিচিতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

পরে দ্বীপটি পর্যটক ও কৌতূহলী মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। বর্তমানে সেখানে যাওয়া দর্শনার্থীদের কাছে পুতুলগুলো যেমন আকর্ষণের বিষয়, তেমনি দ্বীপটির জন্মকাহিনিও আগ্রহের বড় কারণ।

রহস্যের উত্তর কি আদৌ আছে?

পুতুলের দ্বীপ বাস্তব, এর পুতুলগুলোও বাস্তব। ডন জুলিয়ান সান্তানা বাররের অস্তিত্ব এবং তার পুতুল সংগ্রহের ইতিহাসও এই স্থানের পরিচিতির অংশ। কিন্তু সেই কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা, তার আত্মার উপস্থিতি কিংবা পুতুলগুলোর অতিপ্রাকৃত আচরণের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

সুতরাং, মেক্সিকোর এই দ্বীপের রহস্যের উত্তর হয়তো ভূতের গল্পে নয়, বরং একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডে লুকিয়ে আছে। একটি পুতুল থেকে শত শত পুতুল সময়ের সঙ্গে সেই ব্যক্তিগত গল্পই পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রহস্যময় পর্যটনস্থলের পরিচয়ে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোমালিয়ায় ইসরায়েলিদের উপস্থিতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট হাসানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


সোমালিয়ায় ইসরায়েলিদের উপস্থিতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট হাসানের

সোমালিয়া ‘কোনো অবস্থাতেই’ ইসরায়েলি উপস্থিতি মেনে নেবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জড়িয়ে পড়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ।

তিনি সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।

হাসান শেখ মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল বারবার্বায় একটি নৌঘাঁটি স্থাপন ও বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর ও ইরানের কাছাকাছি যাওয়া। বারবার্বা হলো সোমালিল্যান্ডের এডেন উপসাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী।

সোমালিল্যান্ড, সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র, যা গত বছর ইসরায়েল কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছিল, কিন্তু মোগাদিশু এই অঞ্চলটিকে নিজেদের বলে দাবি করে। বারবার্বা কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত, যা সমুদ্রের ওপারে ইয়েমেনের মুখোমুখি। ইরানপন্থি হুথিরা এর আগে এ এলাকায় ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিল।

এ বিষয়ে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েলি পরিকল্পনাগুলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এই শব্দটি বিভিন্ন প্রস্তাবকে বোঝায়, যা প্রায়শই বাইবেলের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমান সীমানার বাইরে ইসরায়েলের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। এর কিছু রূপ নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইসরায়েল এটিকে তাদের আনুষ্ঠানিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করেনি, তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালের আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি এই দর্শনের সঙ্গে নিজের সংযোগ অনুভব করেন, যা আরব সরকারগুলোর তীব্র নিন্দা কুড়িয়েছিল।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে একটি ‘অস্থিতিশীলতাকারী শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে না। গত ডিসেম্বরে সোমালিল্যান্ডকে তেল আবিবের স্বীকৃতি দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।

মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল ছাড়া অন্য কোনো দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি, অথচ ওই অঞ্চলের নিজস্ব বাসিন্দারাও ইসরায়েলি উপস্থিতির সম্পূর্ণ বিরোধী।

সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলি পদক্ষেপের আগ পর্যন্ত তারা জাতিসংঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার। প্রধান শহরগুলোতে আল-শাবাবের কোনো উপস্থিতি নেই, ফলে এই গোষ্ঠীটির সোমালিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আল-শাবাব একটি সোমালি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা দুই হাজার দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামিক কোর্টস ইউনিয়ন থেকে আত্মপ্রকাশ করে এবং ২০১২ সালে আল-কায়েদার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করে। তারা বছরের পর বছর ধরে সোমালিয়ার ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সোমালিয়ার দক্ষিণ ও মধ্য অংশের কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে এবং মোগাদিশু ও প্রতিবেশী কেনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে।

পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলের বিষয়ে সাক্ষাৎকারে মোহামুদ বলেন, প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সঙ্গে সোমালিয়ার সম্পর্ক ভালো এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে সোমালি বন্দরগুলো ব্যবহারের জন্য যৌথ চুক্তির মাধ্যমে আদ্দিস আবাবার সমুদ্রের প্রবেশাধিকার অর্জনে মোগাদিশুর কোনো আপত্তি নেই।

১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত রয়েছে এবং বাণিজ্যের জন্য মূলত জিবুতির বন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আদ্দিস আবাবা সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সমুদ্র প্রবেশাধিকারের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যাকে সোমালিয়া তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়। পরে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া উত্তেজনা প্রশমনে সম্মত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মায় বাল্কহেডে মিলল ৩০৫ বোতল ভারতীয় মদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


পদ্মায় বাল্কহেডে মিলল ৩০৫ বোতল ভারতীয় মদ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে নৌপুলিশ ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি জব্দ করেছে। অভিযানের সময় একটি বাল্কহেডও জব্দ করা হয়েছে, এবং এর চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে নড়িয়ার সুরেশ্বর লঞ্চঘাটের কাছে পদ্মা নদীতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, সুরেশ্বর নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করেন, যেখানে বাল্কহেডে বিপুল পরিমাণ মদ পরিবহন করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় এমভি তাসলিমা নামের বাল্কহেডে তল্লাশি চালিয়ে ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে আটক করা হয় বাল্কহেডের চালক মো. রফিক (৫০) এবং সহকারী মো. উজ্জল (২৯)-কে। তারা উভয়ই পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা। নৌপুলিশ পরে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাল্কহেডটিও জব্দ করে।

সুরেশ্বর নৌপুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩০৫ বোতল ভারতীয় ব্ল্যাক হুইস্কি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাল্কহেডের চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের মুসলিম কর্মকর্তাদের সংগঠন তাকে নতুন পদে অভিনন্দন জানিয়েছে।

বর্তমানে মোহাম্মদ এস ইসলাম নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পুলিশ বিভাগের ৬২তম প্রিসিঙ্কটের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দায়িত্বের আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে বেনসনহার্স্ট, ম্যাপলটন এবং বাথ বিচ।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রিসিঙ্কট পরিচিতিতে তাকে ওই এলাকার কমান্ডিং অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে ইসলামের কর্মজীবন ১৮ বছরের। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি আবাসন পুলিশ, টহল বিভাগ এবং গোয়েন্দা বিভাগসহ পুলিশের বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

পদোন্নতিকে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন তাকে ও তার পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

তবে শুক্রবার (২ অক্টোবর) পর্যন্ত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ওয়েবসাইটে ইসলামের নামের পাশে আগের পদবি ‘ক্যাপ্টেন’ উল্লেখ ছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের মুসলিম কর্মকর্তাদের সংগঠন তার ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির খবর জানিয়েছে।

পদোন্নতি কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ সংগঠনগুলোর প্রকাশিত ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%