ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভেনেজুয়েলায় বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ধসে পড়ে ১০ তলা ভবন, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ১২ বছরের শিশু


ভেনেজুয়েলায় বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ধসে পড়ে ১০ তলা ভবন, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল ১২ বছরের শিশু

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুনের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়েছিল ১০ তলা আবাসিক ভবন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ৩২ ঘণ্টা আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় ১২ বছর বয়সী ফাবিয়ানা ব্লাঙ্কো।

উদ্ধার হওয়ার পর সে জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা একটি কেচাপের বোতল ও কিছু কুচানো চিজ খেয়েই সে বেঁচে ছিল।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ফাবিয়ানার মা কারিনা ব্লাঙ্কো তখন স্পিনিং ক্লাস নিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় মাটি কাঁপতে শুরু করে। প্রথমে হালকা কম্পন হলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।

কারিনা বলেন, “ভূমিকম্পের তীব্রতা বুঝতে পেরেই আমি শুধু চিৎকার করছিলাম- ‘আমার মেয়ে, আমার মেয়ে।’ তারপর গাড়িতে উঠে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ির দিকে ছুটে যাই।”

সেদিন বাড়িতে একাই ছিল ফাবিয়ানা। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫, যা এক শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজুয়েলার অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মুহূর্তেই ধসে পড়ে ১০ তলা ভবন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

উত্তরাঞ্চলীয় লা গুইরা অঙ্গরাজ্যের কারাবালেদায় নিজ বাড়িতে পৌঁছে কারিনা স্তম্ভিত হয়ে যান।

তিনি বলেন, “একটি ভবন দেখলাম, তারপর যেখানে আমাদের ভবন ছিল সেখানে শুধু ফাঁকা জায়গা, এরপর আরেকটি ভবন। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে, পুরো ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।”

ভূমিকম্পের সময় ফাবিয়ানা মায়ের শোবার ঘরে ছিল। কম্পন অনুভব করে সে রান্নাঘরে ছুটে যায় এবং রান্নাঘরের কাউন্টার আঁকড়ে ধরে। ঠিক তখনই চারপাশের দেয়াল ধসে পড়ে এবং সে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

ফাবিয়ানা স্মৃতিচারণ করে বলে, “সবকিছু কাঁপছিল, ভেঙে পড়ছিল। দেয়ালে ফাটল ধরল, পাশের ফ্ল্যাটের দেয়াল ভেঙে পড়ল। তখন মনে হয়েছিল, আমি মারা যাব। কেউ আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না।”

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা।

ভবনের বাইরে এসে কারিনা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মেয়ের বিছানার অর্ধেক অংশ দেখতে পান।

তিনি বলেন, “আমি পুরো এলাকাজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছিলাম আর চিৎকার করছিলাম- ‘আমার মেয়ে মারা গেছে।’ তখন আমি কী করব বুঝতে পারছিলাম না।”

অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে ফাবিয়ানা চিত হয়ে আটকে ছিল। চারপাশে কংক্রিটের স্তূূপ, আর ছাদের ভাঙা অংশ প্রায় তার মুখের সঙ্গে লেগে ছিল।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

সে বলে, “আমি খুব সহজেই দমবন্ধ লাগা বা আতঙ্কে ভুগি। কিন্তু তখন অদ্ভুতভাবে শান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। হয়তো মস্তিষ্ক তখনও ধাক্কা সামলাচ্ছিল।”

কিছুক্ষণ পর ওপরতলার বাসিন্দাদের পরিচর্যাকারী এক নার্স জীবিত কেউ আছে কি না জানতে চিৎকার করতে থাকেন। ফাবিয়ানা সাড়া দিলে তিনি তাকে সাহস জোগান।

ছয় ঘণ্টা পর, মধ্যরাতের দিকে ওই নার্সকে উদ্ধার করা হয়। বাইরে এসে তিনি উদ্ধারকর্মীদের জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে ফাবিয়ানা নামে একটি মেয়ে এখনও জীবিত রয়েছে।

এ খবর শুনে কারিনার জীবনে যেন নতুন আশার আলো ফিরে আসে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

তিনি বলেন, “আমি তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলাম, যেন ফাবিয়ানাকে ছাড়া নতুন জীবন শুরু করার শক্তি পাই। ঠিক তখনই কেউ এসে বলল- ‘আপনার মেয়ে বেঁচে আছে’।”

কেচাপ আর চিজ খেয়েই টিকে থাকা।

ধ্বংসস্তূপের নিচে ফাবিয়ানা কোনও আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিল না।

সে জানায়, “কী কারণে জানি না, কিন্তু আমার মনে আশা ছিল। একটি পা অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো অবস্থায় ছিল। সেটি সোজা করতে গিয়ে কিছু ইট-পাথর সরাই। তখনই একটি কেচাপের বোতল আর কিছু কুচানো চিজ পাই। সেগুলো খেয়েই আমি জ্ঞান ধরে রাখতে পেরেছিলাম।”

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

স্বেচ্ছাসেবকই হয়ে ওঠেন নায়ক।

পরদিন সকালে দমকলকর্মীরা এসে ফাবিয়ানাকে খুঁজলেও তার কোনও সাড়া পাননি। পরে তারা জানিয়ে দেন, আর কিছু করার নেই।

কারিনা বলেন, “তখন মনে হচ্ছিল হয়তো দমবন্ধ হয়ে সে মারা গেছে। ঠিক সেই সময় একজন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এলেন। তার নাম ভিক্টর। তিনি আমার কাছে সত্যিকারের নায়ক।”

এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে পান ফাবিয়ানা। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও তিনি একটি ভিডিও ধারণ করেন, যাতে পরে সুযোগ পেলে কারও কাছে পাঠাতে পারেন।

ভিডিওতে ফাবিয়ানা বলেন, “রিতামার প্যালেস অ্যাপার্টমেন্ট। ভূমিকম্প হয়েছে। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ। কোনও আলো নেই। কেউ আমাদের উদ্ধার করতে আসেনি। আমি একা আছি। অনেক প্রতিবেশীও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। আমাদের সাহায্য করুন।”

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক ভিক্টর ধ্বংসস্তূপের ওপরে উঠে বারবার ডাকতে থাকেন। এবার ফাবিয়ানা তার ডাক শুনে উত্তর দেয়।

ভিক্টর দ্রুত কারিনাকে জানান, তার মেয়ে জীবিত।

কারিনা বলেন, “আমি সবাইকে চিৎকার করে বললাম- ‘আমার মেয়ে বেঁচে আছে।’ এরপর মানুষ দলে দলে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।”

৩২ ঘণ্টা পর অলৌকিক উদ্ধার।

এরপর আরও কয়েকটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত নেমে আসার পরও উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়নি।

কারিনা টর্চলাইটের ব্যবস্থা করেন। কয়েকটি মোটরসাইকেল ও গাড়ির হেডলাইটের আলোয় ধ্বংসস্তূপ কাটার কাজ চলতে থাকে।

অবশেষে ধ্বংসস্তূপে একটি ছোট ছিদ্র তৈরি হয়, যার ভেতর দিয়ে ফাবিয়ানাকে দেখা যায়।

হাসিমুখে সেই ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে থাকা ফাবিয়ানার ভিডিও পরে ভেনেজুয়েলাজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফাবিয়ানা বলেন, “এত ঘণ্টা আটকে থাকার পর যখন উদ্ধারকারীদের দেখলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমি বেঁচে ফিরব।”

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত দুইটার দিকে, অর্থাৎ ভূমিকম্পের প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা যথেষ্ট বড় একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করতে সক্ষম হন। সেই পথ দিয়েই ফাবিয়ানাকে জীবিত বের করে আনা হয়।

উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে এসেই সে মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ফাবিয়ানা বলেন, “বাইরে এসে পুরো ভবনটিকে ধসে পড়া অবস্থায় দেখে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও সিনেমা বা টেলিভিশন সিরিজ দেখছি।”

বেঁচে ফিরেছেন মাত্র তিনজন।

কারিনা জানান, তাদের ভবনে প্রায় ৫০ জন বাসিন্দা ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার ওই ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৩৪২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আর এখনও নিখোঁজ রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

অলৌকিকভাবে ফাবিয়ানার বাম পায়ে একটি হাড় ভাঙা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে সামান্য আঁচড় ও আঘাত ছাড়া বড় কোনও শারীরিক ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সে তার নানীর বাড়িতে রয়েছে। তবে মানসিকভাবে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি।

ফাবিয়ানা বলে, “শুরুর দিকে চিত হয়ে শুতে খুব ভয় লাগত। তখনই ধ্বংসস্তূপের নিচে কাটানো সময়ের কথা মনে পড়ে যেত।”

বর্তমানে তাদের নতুন বাড়ির আশপাশেও অসংখ্য ধসে পড়া ভবন দেখা যায়।

কারিনা বলেন, “চারদিকে শুধু শোক আর কষ্ট। প্রতিবেশী আর বন্ধুদের কথা মনে পড়লে খুব কষ্ট হয়। স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কিন্তু আমাদের সামনে এগিয়ে যেতেই হবে। একজন মায়ের আর কী চাই? আমার মেয়ে বেঁচে আছে- এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর পর-কীয়া প্রেমিককে শা-য়েস্তা করতে টাকা না দেওয়ায় বাবাকে মা-রধর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০০ পি.এম


স্ত্রীর পর-কীয়া প্রেমিককে শা-য়েস্তা করতে টাকা না দেওয়ায় বাবাকে মা-রধর

যশোরের মনিরামপুরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে শায়েস্তা করতে জমি বিক্রি করে টাকা না দেওয়ায় বাবাকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে ছেলে। সোমবার সকালে উপজেলার লেবুগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মাস তিনেক আগে উপজেলার লেবুগাতি গ্রামের সুকুমার বাইনের ছেলে অশোক বাইনের স্ত্রী অন্যের হাত ধরে পালিয়ে যায়। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে শায়েস্তা করতে মরিয়া স্বামী অশোক বাইন জমি বিক্রি করে টাকা দিতে বাবা সুকুমার বাইনকে সেই থেকে চাপ দিয়ে আসছিল; কিন্তু জমি বিক্রি করে টাকা দিতে নারাজ বাবা। প্রতিশোধের নেশায় মত্ত ছেলে টাকা না পেয়ে বাবাকে সোমবার সকালে মারধর করে হাসপাতালে পাঠায়।

বাবা সুকুমার বাইন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার দুই ছেলের মধ্যে ছোট অশোক বাইনের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী গত ছয় মাস আগে পাশের বাড়ির এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া করে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। তিনি খোঁজাখুঁজির পর ছেলে অশোক বাইনের দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বৌমাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তিন মাস পর তার বৌমা ফের চলে যায় প্রেমিকের হাত ধরে।

তিনি বলেন, এতে চরম ক্ষিপ্ত হয় ছেলে। সংসার ভাঙায় ছেলের মাথায় প্রতিশোধের নেশা চেপে বসে। টাকা জোগাড় করে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে মারতে চায়। এজন্য জমি বিক্রি করে টাকা দিতে চাপ দেয় ছেলে অশোক বাইন। না দেওয়ায় তাকে মারধর করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ছেলের নামে মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রণব কুমার বিশ্বাস জানান, দুই সন্তান রেখে বউ চলে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ছেলে অশোক বাইন। তাকে গ্রামের অনেকেই বোঝালেও অশোক কোনোভাবেই বুঝতে চাচ্ছে না। তবে গ্রামের লোকজন অশোক বাইনকে ভালো ছেলে হিসেবেই জানে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, এ ব্যাপারে কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ষণচেষ্টা মামলায় কক্সবাজারে তিন আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


ধর্ষণচেষ্টা মামলায় কক্সবাজারে তিন আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড

কক্সবাজারে বেড়াতে আসা এক অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটককে ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক রোকেয়া আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপ এলাকার মো. আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল গফুর (২৬) এবং বেলাল উদ্দিন (৩৬)। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কটেজ মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যালিসা ব্রুক এলিয়ট কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপ সংলগ্ন ‘গুড ভাই কটেজে’ ওঠেন। দুই দিন পর গভীর রাতে কটেজের নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল গফুর ও বেলাল চুরির উদ্দেশ্যে কটেজে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ওই নারী পর্যটকের মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

এ সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি আহত হন এবং কটেজ থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে তিনি ৯৯৯-এ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাইলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) স্বরূপকান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে আনছারুল্লাহ ও গফুরকে গ্রেপ্তারের পর তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. শামীম জানান, মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দণ্ডাদেশ দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় জিরা আমদানি শুরু আখাউড়া স্থলবন্দরে, বিরতি ছিল পাঁচ মাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


ভারতীয় জিরা আমদানি শুরু আখাউড়া স্থলবন্দরে, বিরতি ছিল পাঁচ মাস

পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে জিরা আমদানি শুরু হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জিরা নিয়ে ভারতীয় একটি ট্রাক বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে রবিবার বিকালে ভারতীয় ট্রাক বোঝাই জিরা স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্র জানায়, মাদারীপুরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মদিনা ট্রেডার্স আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ মেট্রিক টন জিরা আমদানি করে। ভারতীয় একটি ট্রাকে ১০০টি বস্তায় করে এই জিরা আমদানি করা হয়। প্রতি কেজি জিরা সাড়ে ৩ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৪৩০ টাকা ৫০ পয়সা।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জিরা আমদানির মধ্য দিয়ে আবারও আমদানি বাণিজ্যে গতি ফিরবে বলে মনে করছেন আখাউড়া স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও ব্যবসায়ীরা।

আখাউড়া স্থলবন্দরে জিরা আমদানি কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট দায়িত্বে থাকা মেসার্স শোয়েব ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, নতুন (২০২৬-২০২৭) অর্থ বছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এরই অংশ হিসেবে জিরা আমদানি করা হয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর ওয়্যারহাউজ (গুদাম) সুপারভাইজার মো. মিশু খান জানান, পাঁচ মাস পর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি নতুন অর্থ বছরে আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এর আগে গত অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে ৩৬ মেট্রিক টন জিরা আমদানি করা হয়েছিল। চাহিদা অনুযায়ী বাজার মূল্য পাওয়া গেলে জিরা আমদানি বাড়বে বলেও জনান তিনি।

আখাউড়া স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মেহদী হাসান বলেন, নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতীত সব পণ্য আমদানির কার্যক্রম শুরু হলে বন্দরে কর্মসংস্থান বাড়বে।

আখাউড়া কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমদানি বাণিজ্য বাড়লে ব্যবসায়ী ও সরকার উভয়ই লাভবান হবে। বন্দরটি আরও গতিশীল হবে। সরকার রাজস্ব পাবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে পোর্ট অব কল হিসাবে আখাউড়া স্থলবন্দরের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১০ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তবে রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকলেও আমদানি বাণিজ্য তলানিতে ঠেকেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিতে চট্টগ্রামে বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা হয়নি: ডা. শাহাদাতের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিতে চট্টগ্রামে বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা হয়নি: ডা. শাহাদাতের দাবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনিটরিংয়ের কারণে দুই দিনের টানা বৃষ্টির পরও চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতা ঘটেনি, এমনটি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে নজরদারি করছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করার জন্য চট্টগ্রামের সবগুলো সেবা সংস্থাকে নিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী কমিটির গঠন করেছেন।

আজ সোমবার মেয়র ডা. শাহাদাত নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চসিকের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ফলেই দুই দিনের টানা বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

এই পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাগণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%