শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫০ পি.এম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালের (টি-৩) দ্বিতীয় অপারেটর হিসেবে যাত্রী সেবা (প্যাসেঞ্জার হ্যান্ডলিং) প্রদানের চুক্তি পেলে প্রথম বছরে বাংলাদেশে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেনজিস অ্যাভিয়েশন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেনজিসের কর্মকর্তারা এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
মেনজিস এভিয়েশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আরো ৪ হাজার ৫০০টির বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তৃতীয় টার্মিনালের যাত্রীসেবা পরিচালনার চুক্তি পেতে মেনজিসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে চেলেবি এভিয়েশন, ডানাটা, সুইসপোর্ট ও স্যাটস উল্লেখযোগ্য।
সংবাদ সম্মেলনে মেনজিস এভিয়েশনের মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস ওয়াইলি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের অপারেশনসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন হেন্ডারসন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পরিচালক সাকিব এরশাদও বক্তব্য রাখেন।
মেনজিস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হবে বিমানবন্দর পরিচালনা, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের স্থানীয় বিমান চলাচল খাতের সক্ষমতা বাড়াতে।
এর অংশ হিসেবে ঢাকায় একটি মেনজিস ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের বিমান চলাচল-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এভিয়েশন-সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম, ইন্টার্নশিপ এবং গ্র্যাজুয়েটদের ক্যারিয়ার পথ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও দক্ষতা বাংলাদেশে স্থানান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালন, কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা আরো শক্তিশালী হবে।
মেনজিসের পরিকল্পনায় স্থানীয়ভাবে তাদের ইউনিফর্ম তৈরি ও সংগ্রহের বিষয়টিও রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসার সুযোগ বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানিটি বলেছে, স্থানীয় নিয়োগ, পেশাগত প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্ঞান হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে একটি টেকসই বিমান চলাচল খাতের কর্মীভিত্তি গড়ে তুলতে চায় তারা।
দ্বিতীয় অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক বা রাজনৈতিক কোনো বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে কি না—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব এরশাদ বলেন, প্রতিযোগিতাটি ন্যায্য হবে বলে তারা আশাবাদী।
তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এটি ভূরাজনৈতিক প্রভাবের পরিবর্তে ন্যায্য প্রতিযোগিতার ভিত্তিতেই হবে।’
মেনজিস বলেছে, বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো জোরদার হতে পারে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে দ্বিতীয় যাত্রীসেবা অপারেটর নিয়োগের ফলে গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সেবায় প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেবার মানও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে, শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থানের ওপর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি নির্ভর করবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবুনপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। রাশেদ খাঁন বলেন, "বাংলার মাটিতে গণহত্যার বিচার হবেই হবে।"
এ সময় বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উদ্দেশে তিনি মন্তব্য করেন, আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার বিষয়ে শহীদ আবু সাঈদের বাবা-মায়ের কাছে জামায়াতের আমিরের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
কবর জিয়ারত শেষে রাশেদ খাঁন শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
এর আগে, পীরগঞ্জ মহিলা কলেজে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাশেদ খাঁন। পরে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পীরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুন্নবী চৌধুরী পলাশ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তাদের এক বছরের কার্যক্রমের বিবরণী প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুরো কার্যক্রমের অডিট প্রকাশ না করা হলেও, প্রকাশিত পেজেন্টেশনে কিছু কাজের জন্য খরচকৃত অর্থের পরিমাণ দেখা যায়।
প্রেজেন্টেশনে দেখানো হয়েছে যে, ছারপোকা দমনে ব্যয় হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়নে খরচ হয়েছে ৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে খরচ ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম নির্মাণে খরচ হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ হল সংস্কারে ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা আদায়ের কথাও জানানো হয়েছে প্রেজেন্টেশনে।
অন্য একাধিক কাজের কথা উল্লেখ করা হলেও ডাকসু এখনও বিস্তারিত খরচের পরিমাণ প্রকাশ করেনি।
ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, অডিটের কাজ চলছে এবং খরচের বিস্তারিত কিছুদিনের মধ্যে জানানো হবে।
সমাজসেবা সম্পাদকের ৩৫ কোটি টাকার কাজের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডাকসু যে কাজ করেছে তা ৩৫ কোটি টাকার চাইতেও অনেক বেশি। তবে প্রশাসনের বাধার কারণে অনেক কাজই করতে পারেনি তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট এখনও পর্যন্ত প্রশাসন দেয়নি। পুরো সময় জুড়ে প্রশাসন বিমাতার মতো আচরণ করেছে। তবে শত অসহযোগিতা সত্ত্বেও এক বছরে আবাসন, পরিবহন, হলে খাবারের মান ও স্বাস্থ্য গবেষণার মতো ডাকসু কমিটি হাজারের বেশি কাজ করেছে।
শিক্ষক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত হলেও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ডাকসু নিজ উদ্যোগে ‘ডিইউ টিসার্স ইভালুয়েশন’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে।
কার্যবিবরণী অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ, হলভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ এবং বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। গবেষণা বিষয়ে কর্মশালা, গবেষণা প্রস্তাবনা তৈরির প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেশন এবং শিক্ষা এক্সপোসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়েছে।
পরিবহন খাতে শনিবার বাস সার্ভিস চালু, বিভিন্ন রুটে সন্ধ্যার ট্রিপ, নারী হলগুলোর জন্য বাস এবং সাপ্তাহিক ঢাকা-কুমিল্লা বাস সার্ভিস চালুর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও রুট বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
কার্যক্রমের বিবরণ দিয়ে ‘খতিয়ান’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে ডাকসু। বইয়ের একটি বড় অংশে বাস্তবায়ন না হওয়া বা আটকে থাকা বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
ডাকসুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সার্টিফিকেশন সহায়তা, ইনোভেশন হাব ও চাকরি মেলার মতো ছয়টি উদ্যোগ আটকে রয়েছে।
এ ছাড়া মাঠ সংস্কার ও ডিজিটাল সেবা, হলের ভর্তুকি মূল্যে খাবার, ডাকসু ক্যান্টিন সংস্কার, পুকুরপাড় সৌন্দর্যায়ন, ওয়াকওয়ে ও আলোকসজ্জাসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের ক্যান্টিন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিন, মোবাইল টয়লেট, নতুন যানবাহন সংগ্রহ এবং বিভিন্ন হলের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ আটকে থাকার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান বিতরণ, নারী শিক্ষার্থীদের জিমনেসিয়াম চালু এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার নিয়ে বইয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কানপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগীদের দেখার কাজ করেছেন তার গাড়িচালক। তিনি রোগীদের জন্য ওষুধের প্রেসক্রিপশনও লিখেছেন। এই ঘটনা ঘটেছে কানশি রাম কম্বাইন্ড হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে।
বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল প্রশাসন তদন্তের কাজ শুরু করেছে।
ভিডিওতে দেব নামে পরিচিত ওই গাড়িচালককে রোগীদের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে জানতে এবং তাদের পেটে ব্যথা বা অন্য কোনো অস্বস্তি আছে কিনা, তা জিজ্ঞেস করতে দেখা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা রামকেশ আদালতে একটি মামলার কারণে গিয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে গাড়িচালক দেব বহির্বিভাগের রোগীদের ডেকে তাদের সমস্যা শোনেন এবং প্রেসক্রিপশন লিখে দেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, রোগীদের হাসপাতালের বাহিরের একটি ওষুধের দোকান থেকে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ কিনতে বলা হচ্ছে।
ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে এমন অবহেলার পুনরাবৃত্তি হলে এফআইআরসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যস্ত সড়ক থাকলেও, সেখানে দেখার জন্য যেন কেউ নেই। দীর্ঘ পাকা সড়কটি ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে, এবং বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে; যানবাহন চলাচলের সময় চালক ও যাত্রীদের জন্য ভোগান্তি নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এসবের মধ্যেও সড়কের মাঝে বাতাসে দোল খেতে থাকা পাকা ধানের শীষ হাসি-তামাশার খোরাক যোগাচ্ছে।
রাজশাহীর পবা-তানোর সড়কের এই বেহাল অবস্থা। পবা উপজেলার বায়া মোড় থেকে তানোর উপজেলার কাশিমবাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ ভেঙে গেছে। গত এক বছরে এই দীর্ঘ অংশটি একরকম কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। বায়ার মোড়ের দুটি স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন যখন পার হতে যায়, তখন সেগুলো দেবে যায়। এলাকার লোকজন ওই দুটি স্থানে কাঠি পুঁতে সেখানে চিপসের দুটি প্যাকেট রেখে দিয়েছেন, যাতে চালকদের চোখে পড়ে।
এদিকে, বায়া মোড় থেকে কাশিমবাজারের দিকে যাওয়ার প্রথম ৫০০ মিটার সড়কের বের হয়ে আসা মাটিতে ধানের ফলন ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বৈশাখ মাসে রাস্তার পাশে ট্রাকে ধান বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। সেই ধান থেকেই এক সময় চারা বের হয়। ধীরে ধীরে সেই চারা বড় হয়ে ওঠে এবং ধানের শীষ বের হয়। এখন সেই ধান পেকে গেছে। তবুও সড়কটি মেরামতের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, দোকানি হাসমত আলীর দোকানের সামনে ধান মোটামুটি পেকেছে। তিনি বলেন, "গত বৈশাখ মাসে ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে।" পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তারা যত্ন করেছেন এবং কাউকে নষ্ট করতে দেননি। এখন সেই ধান পেকে গেছে।
হাসমত আলীর মতে, পাকা সড়কে ধানের এই ফলন ‘প্রকৃতির প্রতিবাদ’। তিনি বলেন, "টানা এক বছর ধরে এই সড়কের যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "একটু বৃষ্টি হলে পথচারীদের কাদা মেখে বাড়ি যেতে হয়। রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি পার হতে গেলে পথচারীর গায়ে কাদা লাগবেই।"
এক পথচারী রসিকতা করে বলেন, "এবার বৃষ্টি বেশি হলে মানুষ রাস্তার গর্তে মাছ ছাড়বে।"
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। পরে উপসহকারী প্রকৌশলী মসিউর রহমান বলেন, "এই রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মে মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে, এজিংয়ের (সড়কের দুই পাশের মেরামত) কাজ চলছে। কাজের মেয়াদ রয়েছে এক বছর। আগামী মে মাসে কাজ শেষ হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ