ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনলেন মা তাসলিমা


শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনলেন মা তাসলিমা

জুলাই মাসের যোদ্ধা মোহাম্মদ ইসমাইল। আন্দোলনের তীব্র সময়ে যখন তার ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়, তখন মা ছিলেন দিশেহারা। হঠাৎ করে ফোনে খবর আসে, তার ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা। উদ্বিগ্ন মা দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। জরুরি বিভাগে খুঁজে না পেয়ে তিনি মর্গে চলে যান। সারি সারি নিথর দেহের ভিড়ে মুখ দেখে চেনার উপায় ছিল না। অবশেষে পরনের পোশাক দেখে তিনি চিনতে পারেন নিজের সন্তানকে। মাথায় গুলির ক্ষত নিয়ে পড়ে আছেন ইসমাইল। ছেলেকে হারানোর সেই বেদনার কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মা তাসলিমা আক্তার।

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (১২ অক্টোবর)। ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তাসলিমার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তিনি ছিলেন দশম সাক্ষী। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট আসামি ২৮ জন।

৩০ বছর বয়সী তাসলিমার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বসবাস করছেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তার ছেলে ইসমাইল নিহত হন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তাসলিমা বলেন, ‘১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেল ৩টায় বাসা থেকে বের হয়ে আল্লাহ করিম মসজিদের পাশে গ্লাস ফ্যাক্টরির সামনে আন্দোলনে যোগ দেয় ইসমাইল। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমাকে ফোন করে ছেলের বন্ধু মনির। ইসমাইলকে আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে দেখেছে বলে জানায় সে। তাকে বাসায় ফিরে আসতেও বলা হয়।’

বাসায় ফিরে না এসে আন্দোলনে থেকে যান ইসমাইল। তবে টাকা না থাকায় ছেলেকে ফোন করতে পারেননি মা। পরে তাকে ফোন দেন খালা আকলিমা। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। কয়েকবার চেষ্টা করার পর ফোন ধরেন তার বন্ধু কালু।

ইসমাইলের মা বলেন, কালু ফোন ধরে বলেন, ‘ইসমাইল আপনার কে হয়?’ আমার বোন বলেন, ‘আমি ইসমাইলের খালা।’ তখন কালু বলেন, ‘ইসমাইল গুলি খাইছে। তাকে আমরা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’ খবর শুনে ঢাকা উদ্যান থেকে রিকশা নিয়ে আমি, মা-বোনসহ ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশে রওনা দিই। কিছু দূর যাওয়ার পর রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখি। কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানক, তাপস ও বিপ্লবদের হাতে অস্ত্র ছিল। আমার সামনে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, আমরা রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পৌঁছাই। প্রথমে জরুরি বিভাগে যাই। সেখানে গুলি খাওয়া বহু লোককে জীবিত ও মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। আমরা প্রতি তলায় ছেলেকে খুঁজতে থাকি। এরপর এক ডাক্তারকে বললে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। আমি বলি, এখানে আমার ছেলে নেই। কিছুক্ষণ পর তিনি মোবাইলে ছবি দেখান। ছবি দেখে আমি ছেলেকে শনাক্ত করি। ছেলে কোথায় আছে জিজ্ঞেস করলে আমাকে মর্গে নিয়ে যান ওই চিকিৎসক। মর্গে গিয়ে দেখি ৩০০-৪০০ মরদেহ। একটার ওপর একটা পড়ে আছে। পরনের পোশাক দেখে আমি ছেলেকে চিনতে পারি।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সাক্ষী বলেন, ইসমাইলের মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ছেলের লাশ চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, লাশ দেওয়া যাবে না। যার যার থানার ওসি এলে লাশ দেবেন। পরদিন বেলা ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানা থেকে সাইফুল দারোগা হাসপাতালে আসেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় ইসমাইলের লাশ পেয়ে বাসায় নিয়ে আসি। হাসপাতাল থেকে মামলা করবো না জানিয়ে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ছাতা মসজিদে আমার ছেলেকে গোসল দিয়ে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ সময় ছেলেকে হত্যার জন্য শেখ হাসিনা, তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, রাসেল, মোল্লা রুবেল, কমিশনার আসিফের পিএস বিপ্লব, বিপ্লব কুমার, সৈকত, সাজ্জাদ পলাশ, সাত্তার, মোহাম্মদ ইসমাইল, রাষ্ট্রন, রওশনসহ আরও অনেককেই দায়ী করেন তাসলিমা। তবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে ইসমাইল হত্যার বিচার চান এই মা।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন চার আসামি। তারা হলেন— নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোরাই বলে শিক্ষার্থীর আইফোন হাতিয়ে এসআই ১৭ হাজার টাকা ঘুষও নিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


চোরাই বলে শিক্ষার্থীর আইফোন হাতিয়ে এসআই ১৭ হাজার টাকা ঘুষও নিলেন

চট্টগ্রাম থেকে হারানো একটি মোবাইল উদ্ধার করতে গিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান টিটু এক লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের আইফোন নিয়ে গেছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, এসআই তার কাছ থেকে ট্র্যাকিং খরচের নামে আরও ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (সফিক মোড়) গ্রামের শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আয়ানের বাড়িতে গিয়ে এসআই মেহেদী হাসান টিটু তার কাছে থাকা মোবাইলটি নিয়ে যান। এ সময় তিনি ট্র্যাকিং খরচের কথা বলে ১৭ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

আবুল হাসনাত আয়ান, যিনি তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (সফিক মোড়) গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে, বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিএসসি (সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

আয়ান জানান, তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বৃহত্তম শপিং সেন্টার যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৪, ব্লক-ডি, দোকান নং-৪ডি/০১৬এ এপেল 'হট' দোকান থেকে ইউসেবল ‘আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স’ এক লাখ ৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই মেহেদী হাসান টিটু তার বাসায় এসে জানান যে, তিনি যে মোবাইলটি কিনেছেন সেটি চোরাই ফোন। এর আগে তিনি আয়ানের কাছে ফোন করে তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

এসআই জানান, চট্টগ্রাম থেকে এক নারী ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে মোবাইল, টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে পালিয়ে যায়। আয়ান বলেন, তিনি এসআইকে তার ক্রয় করা ক্যাশ ম্যামো এবং মোবাইলের বক্স দেখান এবং দোকানে ফোন করে নিশ্চিত করেন যে, তিনি মোবাইলটি কিনেছেন। এরপর এসআই তাকে বলেন, "ফোন যেহেতু আপনার কাছে পেয়েছি তাহলে সমস্যাটা আপনারই।" এ সময় আয়ানের মামা এসআইকে বলেন যে, বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। কিন্তু এসআই মোবাইলসহ তাকে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।

আয়ান আরও বলেন, "আমি বাবার টাকা দিয়ে ‘আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স’ কিনেছি। আমার সমস্ত ডকুমেন্ট রয়েছে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ তদন্ত করলেও প্রমাণ পাবে আমি ওই দোকান থেকে মোবাইল কিনেছি। এসআই মেহেদী হাসান টিটু আমার কেনা মোবাইল নিয়ে গেল এবং আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নিল।" তিনি এসআইকে ভিডিও ধারণ করতে বলেন কিন্তু এসআই তা সংরক্ষণ করেননি।

এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে তার পরিচিত লোকজন ঘুম পাড়িয়ে তার বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি আইফোন নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় নারী একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি গাজীপুর জেলা গোয়েন্দার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তাকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।

একজন শিক্ষার্থী বৈধ ক্রেতা হিসেবে মোবাইল কিনেছেন, তার আর্থিক ক্ষতি কিভাবে উদ্ধার হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই বলেন, "আমি শ্রীপুরের স্থানীয় এক সাংবাদিককে চিনি এবং তিনি আমাকে খুব ভালোভাবে চেনেন।"

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, "এসআই ১৭ হাজার টাকা কেন নেবে? মোবাইল ট্র্যাকিং খরচের কথা বলে টাকা নিতে পারে না এবং এটি সঠিক নয়।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট স্থগিত, নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট স্থগিত, নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সকল ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নতুন যাত্রার সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।

ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

ঢাকা-রিয়াদ রুটের সকল ফ্লাইট বাতিল করেছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসও। আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এই রুটে কোনও ফ্লাইট পরিচালনা করবে না বেসরকারি সংস্থাটি।

ইউএস বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম সোমবার (১২ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ইউএস বাংলার সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে, ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া ফ্লাইটটির নতুন সময়সূচি এবং এ সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত আগামী ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা নাগাদ জানানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদে সিলেটে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদে সিলেটে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে হত্যা

সিলেট নগরীতে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় হৃদয় কুমার হরিজন (৩৫) নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নগরীর কাস্টঘর সুইপার কলোনি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয় সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মী ছিলেন এবং তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে হৃদয়ের স্ত্রী পিংকী রানীর দিকে মুঠোফোন দিয়ে ছবি তুলছিলেন আমিন নামের এক ব্যক্তি। এই ঘটনার প্রতিবাদ করার পর হৃদয়ের সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে আমিন ফোন করে কয়েকজন সহযোগীকে ডেকে আনেন। তারা হৃদয়ের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই অজয় কুমার হরিজন জানান, ভাবির ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় তার ভাইকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ঢাকার পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ বড়ুয়া এবং লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাদের সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন।

এর আগে, দেবাশীষ বড়ুয়া ও কাজী গুলশান আরাকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদেরকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে শুনানির সময় এজলাসে তোলা হয়।

রাজধানীতে অভিযান পরিচালনা করে সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%