ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী


সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে জাতীয় পতাকা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এই সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে প্রবেশ করার পর সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর তিনি উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। পরে নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে জাতীয় পতাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর সাভার সেনানিবাস সফর উপলক্ষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী: সেনাবাহিনীর সুনাম বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৪ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী: সেনাবাহিনীর সুনাম বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর সুনাম বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তিনি রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬-এ বক্তৃতা দেওয়ার সময় এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি সেনা পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তাই, আজকের এই অনুষ্ঠানে ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থিত হলেও, এ ধরনের পরিবেশ তার জন্য নতুন নয়। পেশাগত সাফল্যের জন্য ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে।

‘আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন। এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধুমাত্র একটি পতাকা নয়; বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেই জাতীয় পতাকা আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো, আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে আমাদের মনে রাখা জরুরি যে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে, চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেছিলেন।

‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি। অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ফিরে তিনি সেনাবাহিনীর সব বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিককে জড়ো করেন। সবাইকে জড়ো করে কী নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা একাধিক নিবন্ধে উল্লেখ রয়েছে।

‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান লিখেছেন—‘সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটালিয়নের অফিসার, জেসিও ও জওয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলাম। তারা সবই জানতো। আমি সংক্ষেপে সব বললাম এবং তাদের নির্দেশ দিলাম সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। তারা সর্বসম্মতিক্রমে হৃষ্টচিত্তে এ আদেশ মেনে নিলো। আমি তাদের একটা সামরিক পরিকল্পনা দিলাম। তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ। ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখতে ভালোবাসবে। এই দিনটিকে তারা কোনোদিন ভুলবে না। কো-নো-দি-ন না।’

শহীদ জিয়ার লেখা এসব তথ্য ১৯৭২ সালে অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা, ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং ১৯৮০ সালে দৈনিক দেশ পত্রিকার বিশেষ ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন, ২৭ মার্চ, তিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ঘোষণাটি দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ও বীরোচিত ভূমিকা নিঃসন্দেহে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক এক গৌরবজনক অধ্যায়। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য বলেই মনে করে।

একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধুমাত্র অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থার মধ্যে। সর্বোপরি, চেইন অব কমান্ডের মধ্যে।

আমরা সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও সর্বাধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

বর্তমানে বিশ্বের নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন ও কৌশল। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাস্তবতায় আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান।

বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষাসামগ্রী দেশেই উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। আমাদের এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।

সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বিদেশে শান্তিরক্ষা মিশনেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

সরকার সেনাসদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র‍্যাংক, ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়। পরিশেষে, আজকের এই সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নবম পদাতিক ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরফের শ্রদ্ধা নিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৪ পি.এম


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরফের শ্রদ্ধা নিবেদন

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

দলটির নেতাকর্মীরা রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমাধিতে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় জেডআরএফের বোর্ড অব ডিরেক্টরস, মনিটর, কো-অর্ডিনেটর, আজীবন সদস্য এবং প্রস্তাবিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন যাত্রা শুরু করে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে জেডআরএফ প্রতিষ্ঠা করেন।

‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ –এই মূলমন্ত্র ও স্লোগান সামনে রেখে গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে মানবসেবামূলক নানা দৃষ্টান্তমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছে জেডআরএফ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাঁথিয়ায় রাস্তার কাজে চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


সাঁথিয়ায় রাস্তার কাজে চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

পাবনার সাঁথিয়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কোনো কাজ না করে বরাদ্দকৃত চার লাখ টাকা তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, পুরো কাজ পরিদর্শন করে বিল প্রদান করা হয়েছে।

প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (টিআর-কাবিখা) প্রকল্পের অধীনে উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের জয়নালের বাড়ি থেকে রিপনের বাড়ির দিকে রাস্তা এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) করার জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে যে, উক্ত সড়কে কোনো কাজ না করেই বরাদ্দের পুরো অর্থ তুলে নিয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি বেলাল হোসেন। এই অর্থ আত্মসাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুলতান হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে রসুলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পভুক্ত সড়কে বর্তমানে যে এইচবিবি রাস্তাটি রয়েছে, তা প্রায় ৪-৫ বছর আগে বিগত সরকারের আমলে সাবেক চেয়ারম্যান পিঞ্চুর মেয়াদে তৈরি করা হয়েছিল। নতুন করে সেখানে কোনো কাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

যাদের বাড়ির নাম উল্লেখ করে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেই বাসিন্দারাও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কাজ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল হোসেন বলেন, "আমার বাড়ি থেকে রিপনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ পাঁচ বছর আগে হয়েছিল। এরপর আর নতুন করে কোনো কাজ করা হয়নি।"

একই এলাকার বাসিন্দা রিপনের স্ত্রী সরস্বতী রায় বলেন, "জয়নালের বাড়ি থেকে আমাদের রায়বাড়ির সামনে দিয়ে শ্মশানঘাট পর্যন্ত রাস্তার কাজ ৫-৬ বছর আগে করা হয়েছে। তারপর আর কোনো কাজ হয়নি।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুলতান হোসেন বলেন, "কাজটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে হবে। দেখার পরেই বলতে পারব কাজ হয়েছে কিনা।"

বিষয়টি নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ জানান, "আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আগে সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করি, তারপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুলতান হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মন্দিরের ১২ ভক্তের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


ভারতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মন্দিরের ১২ ভক্তের মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে সৃষ্ট হুড়োহুড়ির ফলে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর, মধ্যপ্রদেশে একই রাতে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের গোয়ালিয়রে একটি মন্দিরে ১২ জন ভক্ত ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার সময় গোয়ালিয়রের শীতলা মাতা মন্দিরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেক তীর্থযাত্রী, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাক পুলিশ চেকপোস্ট ভেঙে মন্দিরের বাইরে অবস্থানরত ভক্তদের চাপা দেয় এবং দেওয়াল ও গেটে ধাক্কা মারে।

গোয়ালিয়র পুলিশের এসএসপি ধর্মবীর সিং জানিয়েছেন, রাত ১টা ৩০ মিনিটের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। চিন্নরের দিক থেকে আসা একটি শস্যবোঝাই ট্রাক রাস্তার নিচু অংশে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর এটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের বাইরে জড়ো হওয়া ভক্তদের ওপর উঠে যায়। ট্রাকটি পরে মন্দিরের বাইরের দেওয়াল ও গেটে ধাক্কা দেয়, যার ফলে ১২ জন ভক্ত ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন এবং মন্দিরের বাইরের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনার পর মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন। তাদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এসএসপি ধর্মবীর সিং আরও জানান, ট্রাক চাপা দেওয়ার পর ৩৯ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া পাঁচ থেকে ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%