ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অপরাধী শনাক্তে সুন্দরবনে বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার, কাজে আসছে ড্রোন ও ফুট পেট্রোলিং


অপরাধী শনাক্তে সুন্দরবনে বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার, কাজে আসছে ড্রোন ও ফুট পেট্রোলিং

বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন রক্ষার ক্ষেত্রে বনরক্ষীদের দৃঢ় নজরদারি ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে বন গহীনে নৌযান অচল, সেসব জায়গায় পায়ে হেঁটে অর্থাৎ ফুট পেট্রোলিং পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যেখানে ফুট পেট্রোলিং সম্ভব নয়, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এভাবে নানা কর্মকাণ্ড এবং সচেতনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বন অপরাধ দমনে পশ্চিম বিভাগে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, যদিও জনবল সংকট, উন্নত জলযানের ঘাটতি এবং আধুনিক সুযোগ সুবিধার অভাব রয়েছে, তবে বনকে নিরাপদ রাখতে বনরক্ষীরা বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ বছরে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন সাঁড়াশি অভিযানে ২৯৪ টি মামলায় ৩৯৬ জন বন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণের সরঞ্জাম। একই সঙ্গে, বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ১৩৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থা বন অপরাধকে বিগত দিনের তুলনায় অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব করেছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সূত্র জানায়, বন বিভাগ ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীরা বনের গহীনে পায়ে হেঁটে ও জলপথে অভিযান পরিচালনা করবেন। গত ১ বছরে বন অপরাধের দায়ে খুলনা রেঞ্জে মোট ২৯৪ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৩৯৬ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, পলাতক আসামি সংখ্যা ৬৩ জন। এর মধ্যে অভয়ারণ্যে মাছ ও কাঁকড়া ধরার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ১০৬ টি। বিষ সংক্রান্ত ৩৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জের অধীন বনের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে গত ১ বছরে জব্দকৃত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ২২টি ট্রলার, ৩৪৯টি নৌকা, ৬ হাজার ৯৮৬টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার (আটন) ফাঁদ, ৯ হাজার ৮৩৩ মিটার দৌনদড়ি, ২ হাজার ৬১২ কেজি মাছ এবং ১ হাজার ৯৮১ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া।

এ ছাড়া, সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে, দস্যু ও অসাধু চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৭ বোতল মাছ ধরার অবৈধ কীটনাশক এবং ২০৩ কেজি মধু জব্দ করা হয়েছে। হরিণ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে ৩৩ টি। অভিযানে জব্দ করা হয় ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস ও ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ।

সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, স্মার্ট টহল টিম ও বিশেষ টহল টিম মোতায়েন এবং ফুট পেট্রোলিং এর মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তিনি আরও জানান, অপরাধ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে জেলেদের আগ্রাসী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা বন অপরাধ দমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সুন্দরবনের হরিণ শিকার ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে। জনবল সংকট ও আধুনিক জলযানের অভাবে বিশাল এই সম্পদ পাহারা দিতে বনকর্মীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বন নির্ভর জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকার ফলে বনের উপর চাপ কমছে না। ফলে, বন কর্মকর্তাদের দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বাসসকে জানান, বনের গহীনে ফুট পেট্রোলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত করা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমে বন অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে। সর্বোপরি, বনরক্ষীরা চরম ঝুঁকি ও কষ্ট মাথায় নিয়ে দুর্গম বনে পায়ে হেঁটে এবং নদীতে নৌযান চালিয়ে নিয়মিত টহল দিয়ে যাচ্ছেন, ফলে বন অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে বন বিভাগ সদা জাগ্রত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে পৌরসভার বিশেষ উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


শেরপুরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে পৌরসভার বিশেষ উদ্যোগ

শেরপুর, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পৌর শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে শেরপুর পৌরসভার আয়োজনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে পৌর শহরের ঢাকলহাটি এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

এ সময় পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু লায়েস মো. বজলুর করিম ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে শহরের ঢাকলহাটী, নবীনগরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, শহরের ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে এবং একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ শেরপুর গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দেওয়ার তাগিদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দেওয়ার তাগিদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

বগুড়া, ২৫ জুলাই, ২০২৬ : রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
তিনি বলেন, গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে কৃষকের আয় বাড়াতে হবে, এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

আজ শনিবার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ায় ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি আরডিএ উদ্ভাবিত সবুজ প্রযুক্তি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং একটি লটকন গাছের চারা রোপণ করেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও গবেষণা ও উদ্ভাবনের সাফল্য যথাযথ গুরুত্ব পায় না। অথচ গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি গণমাধ্যমকে এসব সাফল্য আরও বেশি তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কৃষকের সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদন নয়, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। কোল্ড স্টোরেজ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থায় যুক্ত হলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকরাও লাভবান হবেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম ও জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির পূর্বপুরুষের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক, গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


মেসির পূর্বপুরুষের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক, গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য

তর্কসাপেক্ষে লিওনেল মেসিই ফুটবলের সর্বকালের সেরা। তার জাদুতেই ঘুচেছে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের দীর্ঘ বিশ্বকাপখরা। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ক্যারিয়ারের একমাত্র অপ্রাপ্তি ঘুচিয়েছেন এই মহাতারকা। এছাড়াও সে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল।

আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের মুকুট এনে দেয়া মেসির গল্পের একটু এদিক এদিক হলে হয়ত লাভবান হতে পারতো ব্রাজিল। হয়ত মেসির হাত ধরেই ঘুচত সেলেসাওদের দীর্ঘ শিরোপাখরা। মেসি আর্জেন্টিনার বদলে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চড়ালে ফুটবল ইতিহাসটাও হয়ত অন্যরকম হয়ে যেত।

আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই তারকার একজন লিওনেল মেসির শেকড় নাকি ব্রাজিলেও বিস্তৃত। আরও বিশদভাবে বললে সেটা দেশটির সাও পাওলো রাজ্যের ভেতরের অঞ্চলে। বিষয়টি কিছুটা কাকতালীয় মনে হতে পারে, তবে একজন ইতালীয় গবেষকের অনুসন্ধানে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, এই মহাতারকার এক প্রপিতামহ (পরদাদা/পরনানা) বিশ শতকের শুরুর দশকে রিবেরাও প্রেতোতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

পেশায় ব্যাংকার এবং নেশায় ইতিহাসবিদ ফিওরেনজো সান্তিনি আর্জেন্টাইন তারকার বংশলতিকা বা ফ্যামিলি ট্রি অনুসন্ধানের কাজটি করেছেন।

মেসি যখন তরুণ বয়সে বার্সেলোনায় নিজের প্রতিভার জানান দিতে শুরু করেন, তখনই সার্জেন্টিনির মাথায় এই ভাবনা আসে। ফুটবলপ্রেমী এবং ইন্টার মিলানের কট্টর সমর্থক ফিওরেনজো 'মেসি' পদবিটির উৎস জানতে কৌতুহলী হয়ে ওঠেন।

তখনই তিনি এর ইতালীয় সংযোগটি আবিষ্কার করেন। মেসির প্রপিতামহ আঞ্জেলো মেসি ইতালির মার্কে অঞ্চলের মাসেরাটা প্রদেশের রেকানাত শহর থেকে এসেছিলেন। ১৮৯৩ সালে তিনি স্ত্রীসহ ইতালি ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোসারিওতে পাড়ি জমান।

এই গবেষক বলেন, 'আমি ২০১৫ সালে তার (মেসির) বাবার সাথে যোগাযোগ করি এবং এই ইতিহাস জানাই। কয়েক বছর পর তার বাবা আবার আমার সাথে যোগাযোগ করেন যেন আমি তার মায়ের দিকের বংশলতিকা খুঁজে বের করি, যাতে তারা ইতালির নাগরিকত্ব পেতে পারেন।'

ফিওরেনজো সান্তিনির মতে, মেসির মাতুলালয়ের অনুসন্ধানের সূত্রপাত তার প্রপিতামহ রানিয়েরো কোচেত্তিনির মাধ্যমে, যিনি মেসির পিতৃপক্ষে পরিবারের মতো একই প্রদেশ অর্থাৎ সান সেভেরিনো মার্কেতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

মেসির পরিবারের পাশাপাশি একই অঞ্চলের আশেপাশের মাত্র কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে আর্জেন্টিনা ফুটবলের জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি, সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় মানু জিনোবিলি এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইয়ের মতো তারকা ও ব্যক্তিত্বদের পূর্বপুরুষদের শেকড়ের প্রমাণও মেলে।

সান্তিনি বলেন, 'গ্রামগুলো খুব কাছাকাছি, মাসেরাটা প্রদেশের একই এলাকায় প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।'

রানিয়েরো ইতালিতে থাকাকালেই রোসা রিকেজাকে বিয়ে করেন এবং তাদের ঘরে জুলিয়া ও ফ্রান্সেসকো নামের দুই সন্তান জন্ম নেয়। সাও পাওলোর 'ইমিগ্রেশন মিউজিয়াম অব দ্য স্টেট'-এর ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, এই পরিবারটি 'ওয়াশিংটন' নামের জাহাজে চেপে ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাও পাওলোর সান্তোস বন্দরে অবতরণ করে।

তবে বন্দরে পৌঁছানোর পর রানিয়েরো কোচেত্তিনির নাম পরিবর্তিত হয়ে 'রামিয়োরো কনসেন্টিনী' হয়ে যায়। সে সময় মূল ভাষার বানান ও উচ্চারণের জটিলতার কারণে অভিবাসীদের নাম ও পদবি বদলে যাওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয় ছিল।

জাদুঘরের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, রানিয়েরো (যা বর্তমানে রামিয়োরো) পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তাকে রিবেরাও প্রেতো থেকে ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে রিনকাও এলাকায় ড. মার্টিনহো প্রাডো জুনিয়রের একটি খামারে কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরিবারটি সাও পাওলো রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে চলে আসে। সান সেভেরিনো মার্কে পৌরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিবেরাওতে রামিয়োরো ও রোসা দম্পতির ঘরে আরও দুটি সন্তানের জন্ম হয়। ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি এরমিনিয়া এবং ১৯০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি আর্দেরিগো জন্মগ্রহণ করে।

এই আর্দেরিগোর মাধ্যমেই লিওনেল মেসির পদবিতে পরিবর্তন আসে। গবেষকের মতে, রিবেরাও প্রেতোতে নাম নিবন্ধনের সময় এই ঘটনা ঘটেছিল।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'ব্রাজিলে এসে আর্দেরিগো হয়ে যান ফেদেরিকো। আর কোচেত্তিনি পরিবর্তিত হয়ে হয় কুচিতતીય। এই ফেদেরিকোই হলেন মেসির প্রপিতামহ (নানা)।'

ফেদেরিকোর জন্মের এক বছর পর পুরো পরিবার আর্জেন্টিনায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারা সেখানে পৌঁছান এবং রোসারিও অঞ্চলে চলে যান। সেখানেই জন্ম নেন ফুটবলারের মাতামহ আন্তোনিও কুচিত,此部უალური এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচিত此次। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচিত此部。

মূলত 'কুচিত此部' পদবিটিই গবেষককে ব্রাজিলের সাথে সংযোগটি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিল, কারণ ইতালিতে এই পদবির কোনো অস্তিত্ব বা রেকর্ড ছিল না। ফিওরেনজো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মেসির মায়ের দিকের ফ্যামিলি ট্রির অনুসন্ধানে সময় ব্যয় করেন।

তিনি বলেন, 'গবেষণার সময় আমি দেখি যে এখানে 'কুচিত此部' নামে কেউ নেই। পরে মেসির মায়ের এক খালাতো/মামাতো ভাইয়ের কাছ থেকে কিছু নথি পাওয়ার পর বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হয়, যিনি ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর নাম ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়টি আমাকে জানান।'

ফিওরেনজোর এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে。

আজ রিবেরাও প্রেতোতে মেসির পরিবারের কোনো সদস্যের বসবাসের তথ্য নেই, কারণ তারা সবাই ১৯০৫ সালেই আর্জেন্টিনায় চলে গিয়েছিলেন।

তবে শহরটির সাথে তার ইতিহাসের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন হয়ে রয়েছে 'ভিলা তিবেরিও' পাড়ার একটি রাস্তা। মজার বিষয় হলো, এই পাড়াতেই শহরের অন্যতম ফুটবল ক্লাব 'বোটাফোগো-এসপি' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

পাড়ার এই রাস্তাটির নাম 'রুয়া মার্টিনিকো প্রাডো', যা রাখা হয়েছে সেই কৃষকের স্মরণে যিনি এই তারকা খেলোয়াড়ের পূর্বপুরুষদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।

মার্টিনহো প্রাডো জুনিয়র বা 'মার্টিনিকো প্রাডো' নামে পরিচিত এই ব্যক্তি কৃষিকাজের পাশাপাশি ব্রাজিলের একজন রাজনীতিবিদও ছিলেন। তাঁর বাবা-মা লিমিরা এবং পরবর্তীতে আরারাসের একটি খামারে থাকতেন। তবে তিনি তার দাদা-দাদীর সাথে সাও পাওলোতে থাকতেন, যেখান থেকে তিনি আইনে স্নাতক অর্জন করেন, একটি সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং এমনকি প্যারাগুয়ে যুদ্ধেও অংশ নেন।

বিয়ের পর তিনি রাজ্যের ভেতরের অঞ্চলে চলে যান এবং তাদের পারিবারিক খামারগুলো পরিচালনা করতে শুরু করেন। তিনি আরারাসের সিটি কাউন্সিলর এবং স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রিবেরাও প্রেতো অঞ্চলটি উন্মোচিত হওয়ার পর তিনি সেখানে জমি কিনে খামার গড়ে তোলেন। অঞ্চলটি কফি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়ায় তিনি ও তার ভাই মিলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কফি উৎপাদক হয়ে ওঠেন এবং ইউরোপীয় রাজাদেরও আতিথ্য প্রদান করেন। সান্তোস বন্দরের কাছে প্রাডোর নিজস্ব রপ্তানি প্রতিষ্ঠানও ছিল, যা তার কফি ব্যবসাকে আরও সহজ করে তুলেছিল।

মেসির ইতালীয় পরিবার সাও পাওলো থেকে আর্জেন্টিনায় পাড়ি দেওয়ার এক বছর পর, ১৯০৬ সালে মার্টিনিকো প্রাডো মৃত্যুবরণ করেন。

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ জেন-জি আন্দোলনের মুখে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ জেন-জি আন্দোলনের মুখে

টানা কয়েক মাস ধরে চলা ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন।

শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সম্প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি।

এই আন্দোলনের শুরু হয় চলতি বছরের মেডিক্যাল ভর্তি (এনইইটি-ইউজি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগের কারণে। লাখ লাখ পরীক্ষার্থী তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেলে। তারা পরীক্ষা বাতিলের, পুনঃপরীক্ষার দাবি, এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে social media তে প্রতিবাদ করতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।

আন্দোলনটির নেতৃত্ব মূলত তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি দিয়েছিল। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণার মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাজারো শিক্ষার্থীকে একত্রিত করার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। দিল্লির জন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা টানা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও মিছিলের মাধ্যমে তাদের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ হলো, জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাগুলিতে একের পর এক প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি ছিল, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ, পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

প্রথমদিকে কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার না করলেও, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কারের আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লিসহ দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং অনেক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরো উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

অবশেষে আজ শনিবার (২৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ এবং স্বচ্ছ করার জন্য নতুন সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলোর তদন্ত জোরদার করারও আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে এই পদত্যাগকে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সংগঠিত জেন-জি প্রজন্ম সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর ও স্থায়ী সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%