মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৬ পি.এম
ভোলার মনপুরা এলাকায় লঞ্চঘাটের কাছে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালীন ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর বেলায় মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া গ্রামের মো. আল-আমিন (২৫) এবং মো. শাকিল (২২)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন দুজন যুবককে আটক করে তাদের তল্লাশি করা হলে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। ঘটনার পর আটক যুবকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনী জেলার যুবদলের প্রাক্তন সভাপতি এবং সোনাগাজী উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সদর উপজেলার লালপোল এলাকায়।
সোনাগাজী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিমের জামাতা ফজলুল হক মুন্না তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মুঠোফোনে মুন্না বলেন, তার শ্বশুরকে টার্গেট করে দ্বিতীয়বারের মতো একইভাবে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, লালপোল এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তিনি অল্পের জন্য বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পান।
যুবদলের এই জ্যেষ্ঠ নেতাকে বারবার হামলার টার্গেট করার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতি এবং বিএনপি-অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখে অবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের নির্ধারিত খাত পরিবর্তন করে অন্য খাতে ব্যয় না করার নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই বিষয়ে সরকারি কলেজ ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষকদের সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মাউশির উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) শামীম আল মামুনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৩ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনার আলোকে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ এক খাত থেকে অন্য খাতে পরিবর্তন করে ব্যয় করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাউশির এই চিঠি দেশের সকল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট অডিট কর্মকর্তাদেরও চিঠির অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মাউশির চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৩ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ওই নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতের বিধান অনুসরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় না হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে।
এ সাক্ষাৎটি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা চীনা রাষ্ট্রদূতের গঠনমূলক ভূমিকা ও অবদানের জন্য প্রশংসা করেন, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তিনি চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান, যা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা করেছে। একইসঙ্গে, তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের প্রতিরক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত ও শক্তিশালী হবে।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চীনের জন্য অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার। তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিয়ে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সম্পর্ক, নতুন পরিবার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিয়েকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক উদ্বেগ কাজ করতে পারে। তবে যদি এই উদ্বেগ এতটাই তীব্র হয়ে যায় যে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই আতঙ্ক, শারীরিক অস্বস্তি বা সম্পর্ক থেকে পালানোর প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী ভয়কে ‘গ্যামোফোবিয়া’ বলা হয়। গ্রিক শব্দ ‘গ্যামো’ অর্থ বিয়ে এবং ‘ফোবিয়া’ অর্থ ভয়। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি বৈবাহিক সম্পর্ক বা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিকে হুমকির মতো মনে করেন। ফলে বিয়ের আলোচনা, সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি বা ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা উঠলেই তার মধ্যে তীব্র ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।
এই ভয়ের সঙ্গে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক লক্ষণও দেখা দিতে পারে। অস্থিরতা, বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, আতঙ্কের কারণে স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করতে না পারা, কথা বলার সমস্যা, মাথাব্যথা, হঠাৎ রেগে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, তৃষ্ণা এবং শরীর কাঁপা—এসব লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে যায়। কেউ অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে পারেন, আবার কেউ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তীব্র ভয় ও উদ্বেগের কারণে দীর্ঘ সময় মন খারাপ বা বিষণ্নতা সৃষ্টি হতে পারে।
বিয়ে নিয়ে এমন ভয় তৈরি হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অতীতের কোনো বেদনাদায়ক সম্পর্ক, বিশ্বাসভঙ্গ বা বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে নতুন সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে ভয় পাইয়ে দিতে পারে। আবার পরিবারে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক, বিচ্ছেদ বা দাম্পত্য কলহের অভিজ্ঞতাও বিয়ের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
ব্যক্তিত্বের কিছু বৈশিষ্ট্যও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। যারা স্বাভাবিকভাবে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন বা নিজের স্বাধীনতাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন বিয়ের পর নিজের মতো করে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে যাবে। এ ধরনের চিন্তা থেকেও বিয়ে নিয়ে ভয় তৈরি হতে পারে।
এছাড়া সামাজিক ও পারিবারিক চাপও অনেকের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে। কখন বিয়ে করতে হবে, কাকে বিয়ে করতে হবে অথবা বিয়ের পর কেমন জীবনযাপন করতে হবে—এসব নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও চাপ থেকেও বিয়ের প্রতি ভয় তৈরি হতে পারে।
কিছু আচরণ ও অনুভূতি এই সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। কাউকে প্রতিশ্রুতি দিতে ভয় পাওয়া, একজন মানুষের সঙ্গে সারা জীবন কাটানোর চিন্তায় সম্পর্ক থেকে পালাতে চাওয়া, বিয়ের পর স্বাধীনতা হারানোর ভয় অথবা সম্পর্ককেই উদ্বেগ ও বিষণ্নতার কারণ মনে হওয়া—এসব বিষয় খেয়াল করা উচিত।
তবে বিয়ে করতে অনীহা বা বিয়ে নিয়ে সাধারণ দুশ্চিন্তা থাকলেই যে কারও গ্যামোফোবিয়া হয়েছে, তা বলা যায় না। ভয় ও উদ্বেগের তীব্রতা, কতদিন ধরে রয়েছে এবং দৈনন্দিন জীবন ও সম্পর্কের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে—এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।
যদি এই ধরনের ভয় জীবনকে প্রভাবিত করে, তাহলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও পরামর্শ দিতে পারেন। এর মধ্যে চিন্তা ও আচরণের ধরন নিয়ে কাজ করার বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতিও রয়েছে।
নিজের ভয় ও উদ্বেগ সম্পর্কে সঙ্গী বা পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করাও সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান এবং শিথিল থাকার অভ্যাস মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। একই ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা ও সহায়তাও কারও জন্য উপকারী হতে পারে।
বিয়ে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলেও ভয় বা উদ্বেগের কারণে নিজের অনুভূতিগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। কারণের দিকে নজর দেওয়া, নিজের অনুভূতি বোঝা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়াই হতে পারে ভয় কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রথম ধাপ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ