প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিয়ে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সম্পর্ক, নতুন পরিবার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিয়েকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক উদ্বেগ কাজ করতে পারে। তবে যদি এই উদ্বেগ এতটাই তীব্র হয়ে যায় যে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই আতঙ্ক, শারীরিক অস্বস্তি বা সম্পর্ক থেকে পালানোর প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী ভয়কে ‘গ্যামোফোবিয়া’ বলা হয়। গ্রিক শব্দ ‘গ্যামো’ অর্থ বিয়ে এবং ‘ফোবিয়া’ অর্থ ভয়। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি বৈবাহিক সম্পর্ক বা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিকে হুমকির মতো মনে করেন। ফলে বিয়ের আলোচনা, সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি বা ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা উঠলেই তার মধ্যে তীব্র ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।
এই ভয়ের সঙ্গে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক লক্ষণও দেখা দিতে পারে। অস্থিরতা, বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, আতঙ্কের কারণে স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করতে না পারা, কথা বলার সমস্যা, মাথাব্যথা, হঠাৎ রেগে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, তৃষ্ণা এবং শরীর কাঁপা—এসব লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে যায়। কেউ অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে পারেন, আবার কেউ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তীব্র ভয় ও উদ্বেগের কারণে দীর্ঘ সময় মন খারাপ বা বিষণ্নতা সৃষ্টি হতে পারে।
বিয়ে নিয়ে এমন ভয় তৈরি হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অতীতের কোনো বেদনাদায়ক সম্পর্ক, বিশ্বাসভঙ্গ বা বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে নতুন সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে ভয় পাইয়ে দিতে পারে। আবার পরিবারে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক, বিচ্ছেদ বা দাম্পত্য কলহের অভিজ্ঞতাও বিয়ের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
ব্যক্তিত্বের কিছু বৈশিষ্ট্যও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। যারা স্বাভাবিকভাবে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন বা নিজের স্বাধীনতাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন বিয়ের পর নিজের মতো করে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে যাবে। এ ধরনের চিন্তা থেকেও বিয়ে নিয়ে ভয় তৈরি হতে পারে।
এছাড়া সামাজিক ও পারিবারিক চাপও অনেকের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে। কখন বিয়ে করতে হবে, কাকে বিয়ে করতে হবে অথবা বিয়ের পর কেমন জীবনযাপন করতে হবে—এসব নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও চাপ থেকেও বিয়ের প্রতি ভয় তৈরি হতে পারে।
কিছু আচরণ ও অনুভূতি এই সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। কাউকে প্রতিশ্রুতি দিতে ভয় পাওয়া, একজন মানুষের সঙ্গে সারা জীবন কাটানোর চিন্তায় সম্পর্ক থেকে পালাতে চাওয়া, বিয়ের পর স্বাধীনতা হারানোর ভয় অথবা সম্পর্ককেই উদ্বেগ ও বিষণ্নতার কারণ মনে হওয়া—এসব বিষয় খেয়াল করা উচিত।
তবে বিয়ে করতে অনীহা বা বিয়ে নিয়ে সাধারণ দুশ্চিন্তা থাকলেই যে কারও গ্যামোফোবিয়া হয়েছে, তা বলা যায় না। ভয় ও উদ্বেগের তীব্রতা, কতদিন ধরে রয়েছে এবং দৈনন্দিন জীবন ও সম্পর্কের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে—এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।
যদি এই ধরনের ভয় জীবনকে প্রভাবিত করে, তাহলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও পরামর্শ দিতে পারেন। এর মধ্যে চিন্তা ও আচরণের ধরন নিয়ে কাজ করার বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতিও রয়েছে।
নিজের ভয় ও উদ্বেগ সম্পর্কে সঙ্গী বা পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করাও সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান এবং শিথিল থাকার অভ্যাস মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। একই ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা ও সহায়তাও কারও জন্য উপকারী হতে পারে।
বিয়ে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলেও ভয় বা উদ্বেগের কারণে নিজের অনুভূতিগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। কারণের দিকে নজর দেওয়া, নিজের অনুভূতি বোঝা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়াই হতে পারে ভয় কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রথম ধাপ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন