ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লাম্পি রোগের থাবায় লালপুর, মারা গেছে ৪০ গরু, আক্রান্ত ২১ হাজার


লাম্পি রোগের থাবায় লালপুর, মারা গেছে ৪০ গরু, আক্রান্ত ২১ হাজার

নাটোরের লালপুর উপজেলায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২১ হাজার গরু হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৪০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে টিকার তীব্র সংকট এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব, সঙ্গে দ্রুত সংক্রমণের কারণে প্রতি দিনেই খামারিরা গবাদিপশু হারাচ্ছেন। এর ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অসংখ্য ক্ষুদ্র খামারি।

উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওশারা সুলতানপুর গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি ও দিনমজুর মো. ফিরোজ আলী গণমাধ্যমকে জানান, তার কাছে একসময় পাঁচটি গরু ছিল। কিন্তু লাম্পি রোগের কারণে লোকসানে সেগুলো বিক্রি করে তিনি তিনটি নতুন গরু কিনেন। এর মধ্যে একটি গরুর তিন মাস বয়সী বাছুরটি গত ২৭ দিন ধরে লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়ে আছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে গিয়ে কোনো কার্যকর চিকিৎসা না পেয়ে তিনি নিজেই ঝাড়ফুঁক, হোমিওপ্যাথি ও নিজের খরচে টিকা দিয়ে গরুগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ফিরোজ আলী তার দাবি প্রকাশ করেন যে, সময়মতো সরকারি টিকা পাওয়া গেলে এমন ক্ষতি বেড়ে উঠতো না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মা তীরবর্তী বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে প্রথম সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। স্থানীয় কৃষক বিল্লাল আলীর দুটি গরুর মৃত্যুর পর এক মাসের মধ্যেই মহারাজপুর, নাগশোষা, কাজীপাড়া, ঘোষপাড়া ও নওশারা সুলতানপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দ্রুত এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় পশু চিকিৎসক মোসলেম উদ্দিন জানান, গত এক মাসেই শুধু বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে ৪৫ থেকে ৫০টি গরু মারা গেছে এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাব অনুসারে স্থানীয়দের দাবি প্রকৃত সংখ্যা এবংও বেশি।

নওশারা সুলতানপুর গ্রামের মো. নুর নবী ঘোষ জানালেন, তার খামারে ছয়টি গরু মারা গেছে এবং আরও তিনটি আক্রান্ত রয়েছে। একই গ্রামের টুটুল ইসলাম, ফিরোজ আলী, শাহানাজ পারভীন এবং আড়বাব ইউনিয়নের মোস্তফাসহ অনেক খামারি অভিযোগ করেছেন, যে পশু হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অনেকেরই বাধ্য হয়ে হোমিওপ্যাথি, নিমপাতা, ধূপ ও অন্যান্য ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, লালপুরে মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টি। এর মধ্যে প্রায় ২১ হাজার গরু লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত। বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োজন, কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫০ ডোজ। এর ফলে বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ বলেন, জনবল সংকটের কারণে কিছু তথ্যে গরমিল থাকতে পারে। প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জুলাই মাসের জন্য ২৫ হাজার ডোজ টিকার চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো কোনও সরবরাহ পাওয়া যায়নি।

এদিকে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শুভ কুমার দাস খামারিদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি দ্রুত পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা না হয় তবে লালপুরে লাম্পি রোগের এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১৬ আরোহী নিয়ে গায়ানার উপকূলে ফেরি ডুবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


১১৬ আরোহী নিয়ে গায়ানার উপকূলে ফেরি ডুবি

গায়ানার উপকূলে একটি ফেরি রাতের বেলা ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১১৬ জন আরোহী ছিলেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত উদ্ধার কাজের মাধ্যমে আটজনকে জীবিত পাওয়া গেছে।

এই তথ্য জানানোর সময় দেশটির মন্ত্রী হুয়ান এডঘিল রোববার এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আজ বিকেল প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে এমভি বারিমা ১১৬ জন যাত্রী ও নৌযানের কর্মীদের নিয়ে পোর্ট কাইতুমার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।’

এডঘিল আরো বলেন, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টা ১ মিনিটে বিপদসংকেত পাওয়া যায়, এরপর জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। গায়ানার জর্জটাউন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও জানান, ‘এ পর্যন্ত আমরা আটজনকে জীবিত উদ্ধার করেছি।’ এডঘিলের কথায়, গায়ানার কোস্টগার্ড এবং বেসরকারি নৌযানে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

এডঘিল বলেন, ‘সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। আমরা সবার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছি।’

এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পোর্ট কাইতুম একটি শহর যা এসিকুইবো অঞ্চলে অবস্থিত। উল্লেখ্য, এই অঞ্চলটি গায়ানা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধের বিষয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য ঢাকায় ‘গ্লোবাল এডুকেশন এক্সপো’ শুরু হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য ঢাকায় ‘গ্লোবাল এডুকেশন এক্সপো’ শুরু হচ্ছে

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্লোবাল এডুকেশন এক্সপো’ আয়োজনের উদ্যোগ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিএফইসি গ্লোবাল।

এই বিশেষ এক্সপো আগামী ৩ আগস্ট রাজধানী ঢাকার হোটেল শেরাটনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

এক্সপোতে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড—এই সাতটি দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীরা এই প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ভর্তি প্রক্রিয়া, বিষয় নির্বাচন, শিক্ষাব্যয়, বৃত্তি, ভিসা প্রক্রিয়া, কর্মজীবনের সম্ভাবনা এবং পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই এক্সপোতে শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিক যোগ্যতা মূল্যায়ন, বিনামূল্যে ভর্তি ও ভিসাসহায়তা, বৃত্তির সুযোগ এবং বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ সম্পর্কে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য থাকবে আকর্ষণীয় উপহার।

এছাড়া, এক্সপো উপলক্ষে আয়োজকরা কিছু বিশেষ অফারের ঘোষণা দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা পাবেন পাওয়ার ব্যাংক। অতিরিক্ত, এক্সপোতে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর জন্য আইইএলটিএস ও পিটিই প্রস্তুতি কোর্সে ৫০ শতাংশ ছাড় থাকবে। সফলভাবে ভিসা পাওয়া শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে একটি অ্যাকশন ক্যামেরা দেওয়া হবে।

পিএফইসি গ্লোবাল কর্তৃপক্ষ বলছে, উচ্চশিক্ষার জন্য সঠিক দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। গ্লোবাল এডুকেশন এক্সপোর মাধ্যমে আমরা চাই যে, শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আয়োজকদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এই এক্সপো একই ছাদের নিচে নানা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, বৃত্তি, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।

ইভেন্টে অংশগ্রহণ ও নিবন্ধন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহীরা পিএফইসি গ্লোবালের অফিস, কল সেন্টার, ফেসবুক পেজ অথবা ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করতে পারবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, এমনটি জানালেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রোববার (১৯ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

এ সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেন, শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তাঁরা।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, প্রতিবেদনটি এই মুহূর্তে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যাতে একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা যায় এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত হয়। তিনি এও বলেন, প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন।

আসামী কাদের হতে পারে তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আমিনুল ইসলাম জানান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান এবং বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম এই প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। আমরা এসব নাম যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাইয়ের পর আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের সম্পর্কেও চিফ প্রসিকিউটর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ৬১ জন নিহতের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। তবে এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে।

আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অনেকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফের পাহাড় অপহরণের ঘাঁটি, বিশেষ অভিযানে র‌্যাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


টেকনাফের পাহাড় অপহরণের ঘাঁটি, বিশেষ অভিযানে র‌্যাব

কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে অপহরণকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছে র‌্যাব। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ অপহরণের ঘটনার পেছনে মাদক-সংশ্লিষ্ট স্বার্থ এবং অনলাইনের বিভিন্ন ফাঁদ জড়িত রয়েছে।

এদিকে, ফেনী থেকে চাকরির প্রলোভনে চার যুবককে টেকনাফে এনে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতারের খবর জানিয়েছে র‌্যাব। অপহরণকারী চক্রের বিরুদ্ধে শিগগিরই একটি বড় পরিসরের বিশেষ অভিযানের আভাস দিয়েছে বাহিনী।

রোববার দুপুরে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়নটির উপ-অধিনায়ক মেজর এইচ এম মারুফ জানান, ফেনী থেকে চাকরির প্রলোভনে ৪ যুবককে কক্সবাজারের টেকনাফ নিয়ে আসা অপহরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়ার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মো. রাসেল (২৮) এবং একই এলাকার রশিদ আহমদের ছেলে মো. আরমান (২১)।

ভুক্তভোগীরা হলেন, ফেনী জেলার এমাম হোসেন (১৯), জিসান (২৩) ও তৌহিদুল ইসলাম (১৯) এবং হবিগঞ্জ জেলার সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২)।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর এইচ এম মারুফ বলেন, ফেনীতে চাকরির সুবাদে ভুক্তভোগী ৪ যুবকের সঙ্গে মো. রাসেলের পরিচয় ছিল। গত ২৬ জুন সেই যুবকদের চাকরির প্রলোভনে দেখিয়ে টেকনাফ নিয়ে আসে রাসেল। পরে তাদের অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে টেকনাফের গহীন পাহাড়ের আস্তানায় জিম্মি করে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। মুক্তিপণ আদায় হলে জিম্মীদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে র‌্যাব ও পুলিশ।

এক পর্যায়ে গত ৩০ জুন র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষ দল টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে অভিযান চালায়। এতে দুর্বৃত্তদের আস্তানাটি ঘিরে ফেললে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে জিম্মিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপহৃত ৪ জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর উদ্ধার ভুক্তভোগী জিসানের হয়ে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাবের এই ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক জানান, মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর থেকে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাব অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে শনিবার রাতে টেকনাফের রঙ্গিখালী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ি আস্তানার খবর পায় র‌্যাব। পরে র‌্যাবের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযানে গেলে ৪/৫ জন সন্দেহজনক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় ধাওয়া দিয়ে ২ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও বাকি individuals পালিয়ে যায়।

গ্রেফতার আসামিদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান মেজর এইচ এম মারুফ।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের উপ-অধিনায়ক মেজর এইচ এম মারুফ বলেন, বর্তমানে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ অপহরণের ঘটনা শুধুমাত্র মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে হচ্ছে না। এসব ঘটনার সঙ্গে মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, পাশাপাশি অনলাইনের বিভিন্ন ফাঁদে পড়েও অনেকেই অপহরণের শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘র‌্যাবের পক্ষ থেকে যে পরিসংখ্যান আপনাদের দেওয়া হয়েছে, সেটি খুবই স্বল্প সময়ের। সারা বছরজুড়েই প্রতি মাসে এ ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটে। আমরা সবসময় প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করি না। তবে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করা হয়। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

মেজর মারুফ জানান, টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় অপহরণের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটছে। যদি এসব এলাকার বিষয়ে আরো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে র‌্যাব অপরাধী চক্রকে গ্রেপ্তারে আরো বড় পরিসরে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করবে।

তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এত বড় একটি অপরাধ নির্মূলে শুধুমাত্র একটি বাহিনীর পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। এই অপরাধকে সমূলে নির্মূল করতে চাইলে সব বাহিনীর চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে র‌্যাব এলিট ফোর্স হিসেবে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে যেসব টার্গেটেড অপারেশন পরিচালনা করে,Future-এ তা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে অপহরণ পুরোপুরি নির্মূল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেজর মারুফের ভাষ্য, যেসব এলাকায় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে, সেখানকার মানুষের কাছ থেকে সময়মতো তথ্য পাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে এখনও কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি। আশা করি, জনগণের সহযোগিতা পেলে এ অপরাধ দমনে আরও সফল হওয়া সম্ভব হবে।

মেজর মারুফ আরও বলেন, টেকনাফের পাহাড়ি এলাকাগুলো দুর্গম হওয়ায় সেখানে চলাচল ও অভিযান পরিচালনা তুলনামূলকভাবে কঠিন। অনেক স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি কম থাকায় অপরাধীরা এসব এলাকা ব্যবহার করার সুযোগ পায়। তবে সব ধরনের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, টেকনাফ উপজেলায র‌্যাবের দুটি ক্যাম্প রয়েছে। এখানে প্রতিনিয়ত অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য স্থান থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালানো হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা আমাদের জন্য কঠিন হবে না।

মেজর মারুফ জানান, অপহরণের অধিকাংশ ঘটনায় অপরাধীরা পাহাড়ি অঞ্চলকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে র‌্যাবের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এই প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে বড় পরিসরের বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাষা রোহিঙ্গারা তুলনামূলক দ্রুত রপ্ত করে ফেলতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তারা স্থানীয় বাঙালিদের সঙ্গে মিশে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে। তবে সব অপহরণের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে-এমন ধারণা সঠিক নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%