০৮:২৮ পি.এম
এটি যেন কোনো সিনেমার দৃশ্যের মতো। একটি প্রিজনভ্যান থেকে এক দুর্ধর্ষ আসামিকে নামিয়ে কিছুটা হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো ব্যস্ত সড়কে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারের কাছে। এরপর পুলিশের একজন কর্মকর্তা নিজেই সেই আসামিকে গাড়িতে তুলে দেন। তবে এটি কোনো সিনেমার কাহিনী নয়—ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বংশালে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে। নিম্ন আদালতের সড়ক পেরিয়ে একটি প্রিজনভ্যান বংশালের প্রধান সড়কে ওঠে। ভ্যানটিতে ২৯ জন আসামি ছিলেন। তাদের গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
বংশাল রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এসে যানজটে আটকে যায় প্রিজনভ্যানটি। আর তখনই ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
অভিযোগ উঠেছে, প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার নিজ হাতে ভ্যানটির গেট খুলে দেন। এরপর মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় তিনি গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন পিচ্চি রাজাকে, যিনি একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। একই সময়ে গাড়ি থেকে নামেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক খায়রুল বাসারও।
প্রিজনভ্যান থেকে নেমে পিচ্চি রাজা সামনে হাঁটতে থাকেন। তার পেছনে ছিলেন এসআই প্রবীর কুমার। অন্যদিকে খায়রুল বাসার তাদের সঙ্গে না গিয়ে উঠে বসেন প্রিজনভ্যানের সামনের অংশে, চালকের পাশের আসনে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অন্য আসামিদের সঙ্গে গাদাগাদি করে যাওয়ার পরিবর্তে খায়রুল বাসারকে চালকের পাশের আসনে এসির মধ্যে আরাম করে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের একটি দলও সেখানে দায়িত্ব পালন করছিল।
প্রিজনভ্যান থেকে নামার পর পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রায় দুই মিনিট বংশালের মোড়ের দিকে হাঁটতে থাকেন। এরই মধ্যে সেখানে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
একপর্যায়ে এসআই প্রবীর নিজেই পিচ্চি রাজাকে ওই প্রাইভেটকারের কাছে নিয়ে যান এবং তাকে গাড়িতে তুলে দেন। এরপর তিনি প্রিজনভ্যানে ফিরে যান।
ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের দায়িত্ব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানিয়েছেন, কী কারণে একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্তের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার ও তার টিমের বিরুদ্ধে শুধু একজন আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগই নয়, আরও গুরুতর দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে প্রথমটি হলো— ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে প্রিজনভ্যানের দরজা খুলে দেওয়া। এতে ভেতরে থাকা অন্য আসামিরাও সুযোগ নিয়ে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পালিয়ে যেতে পারতেন। দ্বিতীয়ত, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক খায়রুল বাসারকে হাতকড়া ছাড়াই কিছু সময়ের জন্য একা ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই সময় খায়রুল বাসারও যদি পালিয়ে যেতেন, তাহলে তাকে আটকানোর মতো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পুলিশের হাতে থাকত না।
ফলে একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে দেওয়ার ঘটনাটি শুধু পুলিশের দায়িত্ব পালনের প্রশ্নই তুলছে না, বরং প্রিজনভ্যানে থাকা অন্য আসামিদের নিরাপত্তা ও তাদের পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন