০৫:৫৬ পি.এম
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ঘোড়াঘাট-বিরামপুর রেলগেটের স্বয়ংক্রিয় গেটবারটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে রয়েছে। এর ফলে বিকল্প হিসেবে সেখানে বাঁশ ও দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই জোড়াতালি ব্যবস্থা স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং যানবাহন চালকদের মধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের রেললাইনের উপর অবস্থিত এই রেল ক্রসিংটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও শত শত যানবাহন চলাচল করে। বিরামপুর শহরের সঙ্গে ঘোড়াঘাট উপজেলাসহ উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। দীর্ঘদিন ধরে সিগন্যাল বার বা লোহার গেটবারটি নষ্ট হয়ে থাকায়, গেটম্যানরা ট্রেন আসার সময় ম্যানুয়ালি বাঁশ নামিয়ে এবং দড়ি দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে আসছেন। অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলো বাঁশের নিচ দিয়েই পার হওয়ার চেষ্টা করছে।
একজন ট্রাকচালক আবিদ হাসান জানান, এই রেলগেটটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ডিজিটাল যুগে রেলগেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাঁশ আর দড়ির মাধ্যমে ট্রেন আটকানো পুরোপুরি অনুচিত। রাতের বেলায় দূর থেকে বাঁশের দৃশ্য দেখা না যাওয়ায়, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগেও এই রেলে গেটটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে, অনেক লোকও মারা গেছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা, তারা চান এই রেলগেটের কার্যকরী সমাধান হোক।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
গেটম্যান আসাদুল্লাহ জানান, গেটবারটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত দুই মাস ধরে এই অবস্থায় পড়ে থাকার পরও এখনও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে দেশের এই প্রথাগত পদ্ধতি (বাঁশ-দড়ি) ব্যবহার করতে হচ্ছে। ট্রেন আসার সময় এক হাতে বিশাল বাঁশ ও দড়ি নিয়ে সড়ক যথাযথভাবে পরিচালনা করা তাদের জন্যও বেশ কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বিরামপুর স্টেশন মাস্টার কাজী ফয়েজ আলাউদ্দীন জানান, বিরামপুর-ঘোড়াঘাট রেলগেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এভাবে অবহেলা চলতে থাকলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। পূর্বের গেটবারটি নষ্ট হওয়ায় বাঁশ ও দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে, দ্রুত এই গেটবারটি মেরামত করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন