ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: মির্জা ফখরুল


জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি আরও বলেন, আজকে আমরা অনেকগুলো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের বিরোধী দল থেকে বিভিন্নভাবে বলার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফয়সালা হবে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শেষে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এ সময় গণভোট প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, সেই গণভোটের একটি অংশে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। আমরা বারবার করে যে কথা বলতে চাচ্ছি— উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটে যে প্রতিনিধিত্ব হবে সেই বিষয়টাতে আমরা কখনোই একমত হইনি। সেই সময়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছিল, এই বিষয়ে আমি নিজেই বিবৃতি দিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, যখন ওই সংস্কার কমিশন, তারা যে কথাগুলো সেদিন যেভাবে নিয়ে এসেছে, আমাদের সম্মতি ছাড়া তারা নিয়ে এসেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যদি আপনি জুলাই সনদের বইটা পড়েন, সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা বারবারই এই কথা বলে এসেছি এবং আমরা কমিটেড। আমরা ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, তেমনিভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও আমরা কমিটেড। কিন্তু যেভাবে আমরা চেয়েছি সেভাবে বলছি। এখানে বিরোধী দল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তারা বলেছে... আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না।

সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সংস্কার এদেশে কারা এনেছে? বিএনপি এনেছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা দেশে বিএনপি নিয়ে এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান সেই বিধান আমরাই সংসদে সারারাত কাজ করে পাস করেছিলাম।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এখন যখন এ সমস্ত কথাগুলো বলা হয়, তখন জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলা হয় বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিরোধী যারা আছেন তারা বিভিন্ন রকম মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। জনগণের চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝেন না। আমরা যতই মনে করি, জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারাই সেই সিদ্ধান্তটা সবচেয়ে ভালো নেবেন যে আমরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে কী বলেছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বিতর্ক হচ্ছে সংবিধান সংস্কার নাকি সংবিধান সংশোধন— এ বিষয়টি নিয়ে। আমরা সব সময় বলেছি, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। কখনোই বলিনি যে, আমরা সংবিধান নতুন করে লিখতে চাই বা মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে চাই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যানিফেস্টোর ওপর ভিত্তি করে জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তাই ওই জায়গায় কোনও রকমের বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। আমি মনে করি যে, বিরোধী দল শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাই সনদকে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না যে, জুলাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আরেকটা রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হোক।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

সমালোচনার জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় ১৭শ’ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বিএনপির কয়েক হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। সুতরাং এই কথাগুলো বারবার করে আমাদের বলতে হয়, কারণ অনেকে এটিকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা লিবারাল গণতন্ত্রের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি এবং সেই লিবারেল গণতন্ত্রের পক্ষে আমরা যেতে চাই। আমি প্রায় একটা কথা মনে করি যে, আমরা এখান (লিবারেল ডেমোক্রেসি) থেকে সরে যেতে চাই কেন? আমাদের গণতন্ত্র থাকতে সমস্যা কোথায়? আমরা গণতন্ত্রের মধ্যে থাকি। বিভাজনের রাজনীতি না করি।

তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আবার ২৪শে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই করে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যদি সবাই মিলে কাজ করি, তাহলে আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের পারমাণবিক কেন্দ্রের সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁসের দাবি রয়টার্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ এম


ভারতের পারমাণবিক কেন্দ্রের সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁসের দাবি রয়টার্সের

বার্তা সংস্থা রয়টার্স দাবি করেছে যে, ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুদানকুলামকে ঘিরে স্পর্শকাতর বিভিন্ন তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত নকশা, যন্ত্রপাতির তথ্য এবং অনুমোদিত সরবরাহকারীদের নথির বিভিন্ন উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামে পরিচিত একটি র‍্যানসামওয়্যার গোষ্ঠী এই তথ্যগুলো ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রটির অন্যতম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ জানায় যে, তারা আংশিক তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি স্বীকার করে জানিয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে জানা যায়। স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত ১১ জুন থেকে ‘কেকেএনপি’ (কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট) নামসংবলিত প্রায় ১৯ হাজার ফাইল, যার আকার আনুমানিক ১৪ দশমিক ৩ গিগাবাইট, ডার্ক ওয়েবে উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফাইলগুলোর সময়কাল ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত। রয়টার্স এসব নথি পর্যালোচনা করলেও স্বাধীনভাবে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। রিলায়েন্স গ্রুপ থেকে ফাঁস হওয়া প্রায় সাড়ে আট লাখ নথির মধ্যে কুদানকুলাম বিদ্যুৎ কেন্দ্রসংক্রান্ত তথ্যগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিলায়েন্স গ্রুপ দাবি করেছে, তৃতীয় পক্ষের তথ্যকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইওটা’র সার্ভারে সংরক্ষিত তাদের কিছু তথ্য আংশিকভাবে হ্যাক হয়েছে। অন্যদিকে ইওটা জানিয়েছে, মে মাসের শেষ দিকে তারা সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তা প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নিয়েছে। পরে জুনের শেষে রিলায়েন্স তাদের জানায়, বহিরাগত হ্যাকাররা তথ্য ফাঁসের দাবি করছে।

এই ঘটনাটি ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ট-ইন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া তদন্ত করছে। তবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত নথিগুলো কেবল সাধারণ সেবা-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। পারমাণবিক নিরাপত্তা বা মূল পারমাণবিক ব্যবস্থার সঙ্গে এসব তথ্যের কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ফাঁস হওয়া নথিতে রাশিয়ার রোসাটমের সরবরাহ করা মূল পারমাণবিক চুল্লি ব্যবস্থার কোনো তথ্য নেই। তবে নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের বায়ুচলাচল ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার নকশা, নিয়ন্ত্রণকক্ষের ফ্লোর পরিকল্পনা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ছবি, অনুমোদিত সরবরাহকারীদের তালিকা এবং ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত বীমা পলিসির তথ্য এতে রয়েছে।

নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস রথ সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রটির নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার মতে, বিদ্বেষপূর্ণ কোনো পক্ষ এসব নথি বিশ্লেষণ করে স্থাপনাটির সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে এ ঘটনা ভারতের করপোরেট খাতের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার দিকটিও সামনে এনেছে।

এর আগে ২০১৯ সালে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের ব্যবহৃত ম্যালওয়্যার শনাক্ত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্কের তথ্য অনুযায়ী, সাইবার হামলার শিকার হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভারতের অবস্থান বিশ্বের তৃতীয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামের শিক্ষা মাদক নির্মূলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৮ এম


ইসলামের শিক্ষা মাদক নির্মূলে

মাদক ও নেশাদ্রব্য এমন একটি ভয়ঙ্কর হাতিয়ার যা সমাজকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। মাদকের প্রভাবের কারণে ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ সর্বত্র বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। এই মাদক ও নেশাদ্রব্যের আঘাতে কত সম্ভাবনা ঝরে যায় এবং কত পরিবার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। তাই মানববিধ্বংসী এই মাদকের বিরুদ্ধে ইসলাম কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। নবীজি (সা.) বলেছেন যে, তিনি মাদক নির্মূলে কার্যকরী পন্থা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

এখন দেখা যাক, ইসলাম কীভাবে সমাজে ক্ষতিকর বিষয়গুলো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ইসলাম ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের ক্ষতি করে এমন সবকিছুকে হারাম ও নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, মানুষের জন্য উৎকৃষ্ট এবং উপকারী বিষয়গুলো ইসলাম হালাল ও বৈধ ঘোষণা করেছে। আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তার উত্তম বিকল্পও দিয়েছেন। আল্লাহর ঘোষণা রয়েছে, 'তিনি মুহাম্মদ (সা.) তাদের জন্য উৎকৃষ্ট বস্তু হালাল করবেন ও নিকৃষ্ট বস্তু হারাম করবেন এবং তাদের থেকে তাদের ভার ও গলার বেড়ি নামাবেন, যা তাদের ওপর চাপানো ছিল' (সুরা আরাফ ১৫৭)।

মাদক নিষিদ্ধকরণ ও নির্মূলের লক্ষ্যে কোরআনুল কারিমের আয়াতগুলো অপূর্ব ধারাবাহিকতার সঙ্গে নাজিল হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা মানুষের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথম ধাপে মদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিচের আয়াতটি প্রথমে নাজিল হয়। আল্লাহ বলেন, 'এবং খেজুরের ফল ও আঙুর থেকেও (আমি তোমাদের পানীয় দান করি), যা দ্বারা তোমরা মদ বানাও এবং উত্তম খাদ্যও (বানাও)। নিশ্চয় এর ভিতরেও তাদের জন্য নিদর্শন আছে, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়' (সুরা নাহল : ৬৭)।

এখানে আল্লাহ অন্যান্য খাদ্যকে 'উত্তম' হিসাবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু মদের ক্ষেত্রে 'উত্তম' শব্দের ব্যবহার করেননি। এটি মূলত ইঙ্গিত করে যে, মদ পরে হারাম হবে। এরপর আল্লাহ মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়েছেন মদের ক্ষতিকর প্রভাবগুলোর দিকে। যদিও মদ কিছু উপকার রয়েছে, তবে উপকারের তুলনায় ক্ষতি বেশি। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, এ দুটির মধ্যে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারে রয়েছে। তবে এ দুটির পাপ তার উপকার অপেক্ষা গুরুতর' (সুরা বাকারা ২১৯)।

দ্বিতীয় ধাপে, আল্লাহতাআলা নামাজের সময় মদ্যপান নিষিদ্ধ করেছেন। এর অর্থ হলো নামাজে আসার সময় তাঁদের অবশ্যই সচেষ্ট থাকতে হবে, মাতাল হয় না। এ কারণে আল্লাহতাআলা বলেছেন, 'হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত থাকো, তখন নামাজের কাছেও যেয়ো না, যতক্ষণ না তুমি যা বলো তা বুঝতে পারো' [সুরা নিসা : ৪৩]।

তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে এই সচেতনতার মাধ্যমে মানুষের অন্তর মদ হারাম হওয়া সম্পর্কে প্রস্তুত হয়ে যায় এবং তারা মনে মনে দিন গণনা করতে শুরু করেন, যে একদিন এটি সম্পূর্ণরূপে হারাম হবে। যেমন হজরত উমর রা. বলেন, 'হে আল্লাহ, আপনি আমাদের জন্য মদের ব্যাপারে একেবারে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করুন।' এরপর আল্লাহতায়ালা সম্পূর্ণভাবে মদ হারাম করে দেন। আল্লাহতায়ালা কোরআনে ইরশাদ করেন, 'হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদি ও জুয়ার তির অপবিত্র, শয়তানি কাজ। সুতরাং এসব পরিহার করো, যেন তোমরা সফলতা অর্জন করো' (সুরা মায়িদা : ৯০)।

মাদক নিষিদ্ধ করার জন্য এই ধারাবাহিকতার নেপথ্যে রয়েছে হজরত আয়েশা রা. এর একটি বক্তব্য। তিনি জানতেন জাহেলি যুগের মানুষের মধ্যে মাদকাসক্তির গভীরতা সম্পর্কে। এজন্য তাঁর কথা, 'যদি প্রথমবারেই মদ সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো তারা বলত, আমরা কখনোই মদ ছাড়ব না' (সহিহ বুখারি)।

শরিয়ার নির্দেশনা ও সাহাবিদের অনন্য আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশনার জন্য রসুল (সা.) সমাজকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করেছেন। কোরআনের আয়াতে মদ হারামের ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে সাহাবীগণ আদেশ পালন করতে শুরু করেন। যেমন, হজরত আনাস (রা.) বলেন, একদিন আমি আবু তালহার বাড়িতে লোকজনকে মদ পান করাচ্ছিলাম। সেদিন তারা 'ফাজিখ' নামক মদ পান করছিল। সেখানে রসুল (সা.) এক ব্যক্তিকে আদেশ দিলেন যাতে সে ঘোষণা দেয়, 'সাবধান! মদ এখন থেকে হারাম করে দেওয়া হয়েছে।' এই ঘোষণা শুনে আবু তালহা আমাকে বললেন, 'বাইরে যাও এবং ঘরের সমস্ত মদ ফেলে দাও।' আমি বাইরে বেরিয়ে সমস্ত মদ রাস্তায় ঢেলে দিলাম। আনাস রা. বলেন, সেদিন মদিনার রাস্তাঘাটে মদের প্লাবন হয়েছিল (সহিহ বুখারি)।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সপ্তম রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত, প্রাণ গেল ৩ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ এম


সপ্তম রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত, প্রাণ গেল ৩ জন

ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে টানা সপ্তম রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইস্টার্ন টাইম রাত ৯টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে) হামলা শেষ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সর্বাধিনায়কের (প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প) নির্দেশে সেন্টকম ইরানকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রেখেছে।’

সেন্টকমের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত অবকাঠামো ধ্বংস করা।

ইরানি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক, সিরিক, বুশেহর ও বন্দর আব্বাস শহর। এছাড়া কেশম দ্বীপ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ এবং মধ্যাঞ্চলের ইয়াজদ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে চালানো হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। প্রদেশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

হামলার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিহতদের পরিচয় বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে দেখা যায়, ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজ থেকে মেরিন কোরের এফ-৩৫বি লাইটনিং-টু যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করছে। তবে অভিযানের সময় যুদ্ধজাহাজটি কোথায় অবস্থান করছিল, সে-বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ওপর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি মোজতবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহসেন রেজাঈ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও দুই থেকে তিন দিন হামলা চালিয়ে গেলে ‘পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক পর্যায়ে’ প্রবেশ করবে ইরান। তখন শুধু পাল্টা হামলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না তেহরান। আক্রমণ থেকে কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জাতিসংঘের ভাষ্য, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই; সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার গণভোট মানছে না, দেশের মানুষ আশাহত: আখতার হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ এম


সরকার গণভোট মানছে না, দেশের মানুষ আশাহত: আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার প্রত্যাশার গণভোটকে মানছে না, যে কারণে দেশের মানুষ আশাহত হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে হিলি বাজারের খাদ্যগুদাম মোড়ে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় তিনি এই অভিযোগটি করেন।

আখতার বলেন, 'আমাদের সবার আশা ছিল একটা নতুন বাংলাদেশ পাবো। যে বাংলাদেশে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে, মানুষ ঘুস ছাড়া চাকরি পাবে। যে বাংলাদেশের মেধার মূল্যায়ন হবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছিল, সেই ভোটকে এখন আর কার্যকর করা হচ্ছে না। বিএনপি সরকার গঠন করেছে ঠিকই, কিন্তু গণভোট মানে না। এই কারণে বাংলাদেশের মানুষ এখন আশাহত।'

এ সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, 'জুলাই ঐক্য প্রথম ভঙ্গ করেছে বিএনপি, জুলাইকে বিব্রত করেছে বিএনপি। আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে বেইমানিও করেছে বিএনপি।'

পথসভায় দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, 'গণঅভ্যুত্থানের পরে নতুন বাংলাদেশকে নিয়ে প্রত্যাশা করেছিলাম। মিডিয়া কোনো দলের, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে হয়ে কাজ করবে না। দেশের জনগণের ও রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করবে। এমন পুলিশ প্রশাসন চেয়েছিলাম যারা কোনো দলের নয়, ব্যক্তির নয়, গোষ্ঠির নয়, দেশের জনগণের ও রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করবে। কিন্তু সেসব আজ আর হচ্ছে না।'

দলটির নেতাকর্মীরা দ্রুততম সময়ে গণভোট মেনে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানান।

পথসভায় এনসিপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ১১দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%