ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় হতাশ বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ ফ্রান্স


শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় হতাশ বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ ফ্রান্স

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আগে ফ্রান্সকে ১৯৮২ সালের কিংবদন্তি ব্রাজিল দলের পর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে চোখধাঁধানো আক্রমণভাগের দল হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছিল।

একসময় জিকো, এডার, ফ্যালকাও ও সক্রেটিসদের ব্রাজিল বুঝেছিল যে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল সবসময় সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না, তেমনি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তাঁর সতীর্থরাও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন।

এবারের বিশ্বকাপে ঝলমলে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া ফ্রান্সের অভিযান অনেকটা ব্যর্থতাকে সঙ্গী করেই শেষ হলো। স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হলো তাদের। এই হার সম্ভবত কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের উত্তরাধিকারের ওপরও ছাপ ফেলবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এমবাপ্পে, ওসমানে ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলা এবং ডিসায়র ডুয়ের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ সেমিফাইনালে ওঠার পথে ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে স্পেনের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের সামনে ফ্রান্সের বহুল প্রশংসিত আক্রমণভাগ ৭৫ মিনিটেরও বেশি সময় পর্যন্ত লক্ষ্যভেদী কোনো শটই নিতে পারেনি।

ততক্ষণে স্পেন ২-০ গোলে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা তখন বুঝতে পারছিলেন, শক্তিশালী অস্ত্রাগার থাকলেই হয় না, সেটিকে কার্যকর করতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদও প্রয়োজন।

স্পেনের রদ্রি, ডানি ওলমো ও ফাবিয়ান রুইজের দুর্দান্ত মিডফিল্ড ফ্রান্সের মাঝমাঠকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে আক্রমণভাগে বলের জোগান বন্ধ হয়ে যায় এবং ফরাসিরা নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে।

এমবাপ্পে ম্যাচ শেষে বলেন, "মাঝমাঠে আমরা বারবার তিন বনাম দুই পরিস্থিতিতে পড়ে যাচ্ছিলাম। আর স্পেনের বিপক্ষে এটা বড় সমস্যা। সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল এসেছে- পরাজয়। এটি ভীষণ হতাশাজনক।"

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তিনি আরও বলেন, "কৌশলগতভাবে, কারিগরি দিক থেকে কিংবা সামগ্রিক পারফরম্যান্স, কোনো দিক থেকেই আমরা কাঙ্খিত ম্যাচ খেলতে পারিনি। আর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আপনি যদি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারেন, তাহলে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।"

অন্যদিকে, ফ্রান্সের কোচ হিসেবে বিদায়ের আগে দেশ্যমকে এমন এক অভিযানের হতাশাজনক সমাপ্তি মেনে নিতে হচ্ছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে শিরোপা জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো এবং ২০২২ সালে টাইব্রেকারে হেরে অল্পের জন্য আরেকটি শিরোপা হাতছাড়া করা দেশ্যমের সামনে এবারও জয় দিয়ে বিদায় নেওয়ার সুযোগ ছিল। নিউ জার্সিতে ফাইনালে ওঠার পথও অনেকটা উন্মুক্ত মনে হচ্ছিল।

তবে দেশ্যম বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে আমি সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিচ্ছি নাকি ফাইনাল থেকে, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার সময় এখন নয়। জাতীয় দলের সঙ্গে আমরা যা করেছি, তা নিয়ে আমি অত্যন্ত খুশি এবং গর্বিত।"

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

"খেলোয়াড় হিসেবে আমি অনেক বড় মুহূর্ত উপভোগ করেছি। আজ তেমন কোনো মুহূর্ত নয়। তবে আমাদের এটি মেনে নিতে হবে, কিন্তু এতদিনের অর্জনগুলো ভুলে গেলে চলবে না।

মঙ্গলবার ফ্রান্স জিতলে ২৭ বছর বয়সী তারকা এমবাপ্পে ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে ব্রাজিলের কাফুর পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করতেন।

কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড এখন ফ্রান্সকে নিয়ে শনিবার মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে নামবেন।

তবুও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সময় আশাবাদী সুর শোনা গেছে এমবাপ্পের কণ্ঠে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিভায় ভরপুর এই ফরাসি দল ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভীষণ হতাশ: বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পরে আক্ষেপ এমবাপ্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


ভীষণ হতাশ: বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পরে আক্ষেপ এমবাপ্পের

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি দলের কৌশলগত ভুলগুলোকেই দায়ী করেছেন।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পথ ধরে এমবাপ্পে ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভা। দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা ফ্রান্সের হয়ে তিনি আটটি গোল করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন।

কিন্তু এই ২৭ বছর বয়সী ফরাসি অধিনায়কের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্বপ্ন হঠাৎ করেই ভেঙে যায়। টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে পুরো ম্যাচ জুড়ে স্পেন ফ্রান্সকে ছাপিয়ে যায়।

ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এম৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে উল্লেখ করেন, এই পরাজয় পুরো দলের জন্য "ভীষণ হতাশাজনক"। তিনি বলেন, "আমি মনে করি না আমরা সেই ম্যাচটি খেলতে পারি, যেভাবে আমরা খেলতে চাইছিলাম; কৌশলগত দিক থেকে কিংবা সামগ্রিক পারফরমেন্সের দিক থেকেও নয়।"

এই ফরোয়ার্ড আরও বলেন, "বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আপনি যদি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারেন, তাহলে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।"

ফ্রান্সের ম্যাচ পরিকল্পনা সম্পর্কে এমবাপ্পে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য ছিল তাদের ওপরের দিকে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের ধীর, নিয়ন্ত্রিত ছন্দে খেলতে না পারে। কারণ ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা আমাদের চেয়ে ভালো। কিন্তু আমরা সেটি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি।"

তিনি মনে করেন, ম্যাচের মূল পার্থক্যটি হয়েছিল মাঝমাঠের লড়াইয়ে। ফ্রান্সের আদ্রিয়ান রাবোয়িত ও অরেলিয়ান টিচুয়ামেনির জুটি স্পেনের রদ্রি, ডানি ওলমো এবং ফাবিয়ান রুইজের বিপক্ষে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়।

এমবাপ্পে বলেন, "মাঝমাঠে আমরা বারবার তিন বনাম দুই পরিস্থিতিতে পড়ে যাচ্ছিলাম। আর স্পেনের বিপক্ষে এটা বড় সমস্যা। সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল এসেছে - পরাজয়। এটি সত্যি ভীষণ হতাশাজনক।"

তবে, এমবাপ্পে এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, "আমাদের স্বপ্ন ছিল ফাইনালে ওঠা, দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দেওয়া এবং ইতিহাস গড়া। এখন আমাদের মাথা উঁচু রেখেই এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জিতলে যেমন মাথা উঁচু করে জিততে হয়, হারলেও তেমনি মাথা উঁচু রেখেই হারতে হয়।"

তিনি আরও যোগ করেন, "কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা ভীষণ হতাশ। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না, আমি এবং পুরো দল কতটা হতাশ। তবুও বিষয়টি যতই হতাশার মনে হোক না কেন, আমাদের আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে, তারপর নতুন অধ্যায় শুরু করতে হবে। কারণ ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে, এই ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাচার ও চোরাচালান মোকাবেলায় নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


পাচার ও চোরাচালান মোকাবেলায় নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

মন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ তথ্য প্রদান করেন।

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবি'র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

মন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশের সরকারের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যা শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে করা হবে।

তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

মন্ত্রী জানান, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে, এবং অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করছে। একইসাথে, এটি তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করে।

জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠানটি আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন।

তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদার করাসহ আইনটির কার্যকর প্রয়োগের অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনাতে উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এই আয়োজন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন : মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন : মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নয়, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব।

আজ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : আমার-আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের কারণে নগর ব্যবস্থাপনা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ঢাকার দ্রুত নগরায়নের ফলে এখানে নগর ও গ্রামীণ দুই ধরনের সংস্কৃতির প্রভাব দেখা যায়। অনেকেই এখনও পূর্ণাঙ্গ নগরজীবনের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। তাই একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষ যখন বুঝতে পারে নিয়ম ভঙ্গ করলে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই আইন মেনে চলে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কিংবা স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারির আওতায় চালকেরা ট্রাফিক আইন বেশি মেনে চলেন। কারণ তারা জানেন নিয়ম ভাঙলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা গুনতে হবে। এই সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই একটি উন্নত নাগরিক সমাজ গড়ে তোলার ভিত্তি।

তিনি বলেন, নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় ছাড়া ঢাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্ষম করে তুলতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতে হবে। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, মানুষের আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে। গণমাধ্যম, সামাজিক প্রচারণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বস্তি এলাকাসহ নগরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।

মন্ত্রী বলেন, একসময় আমরা বুড়িগঙ্গায় নৌকায় ভ্রমণ করতাম। নদীর পানি ছিল অত্যন্ত স্বছ ও নির্মল। কিন্তু বর্তমানে নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে এর পাশে দাঁড়ানোও কঠিন। বুড়িগঙ্গার তলদেশে প্রায় ছয় মিটার পুরু বর্জ্যের স্তর জমে আছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, সরকার নদী পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। ইতোমধ্যে তুরাগ নদী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা শহরের অস্তিত্ব ও টেকসই ভবিষ্যৎ চারপাশের নদীগুলোর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে সরকার বিকল্প উৎস থেকে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহের একটি প্রকল্প প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করা গেলে ঢাকা পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওসমান হাদি হত্যা : সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ২০ আগস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


ওসমান হাদি হত্যা : সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ২০ আগস্ট

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণে, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও, ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পরে, ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলায় দ-বিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

এর আগে, ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।

তবে, ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে এবং বাকি ৬ জন পলাতক অবস্থায় রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%