০৪:০০ পি.এম
নড়াইল সদর উপজেলার দত্তপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের সড়কের বেহাল অবস্থা দেখা দেওয়ার কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টির ফলে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যাওয়ার কারণে সড়কটি চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়রা জানান, নড়াইল-যশোর প্রধান সড়ক থেকে নামার পর তাদের এই রাস্তা ধরে বিদ্যালয়ে আসতে বাধ্য হতে হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্ষাকালে রাস্তাটি কাদাপানির ডোবায় পরিণত হয়ে যায়। ইউনিফর্ম এবং জুতো নষ্ট হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য অসাবধানতার কারণে পিছলে পড়ে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থী পোশাক কাদা লেগে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথ থেকে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নড়াইল-যশোর মহাসড়ক থেকে নেমে যে সংযোগ সড়কটি রয়েছে, বর্ষাকালে সেটি পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে চরম ঝুঁকি ও ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। কাদাপানির ভয়ে অনেক অভিভাবক তাঁর সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না। এর ফলে পাঠদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আকুল আবেদন যে, অতি দ্রুত যেন সড়কটির সংস্কার করা হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. তারিকুজ্জামান লিটু প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গ্রামাঞ্চলের কোমলমতি ছেলেমেয়েরা যখন শিক্ষা নিতে আসে, তখন যদি তারা কাদায় পড়ে, তবে এটি একেবারেই দুঃখজনক। প্রশাসনের অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন সড়কটি অবহেলিত রয়েছে। জনস্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি নড়াইল সদর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাই নয়, প্রতি দিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোগী বা বয়স্ক মানুষকে নিয়ে এই পথ দিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ছোট কোনো যানবাহনও বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারে না। শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও তাদের অভিযোগ, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এছাড়া খুব দ্রুত এই সংযোগ সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার কথাও তারা জানান।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন