প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের নদীগুলোতে আবারও ২২ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে যাচ্ছে। মা ইলিশের বাঁধাহীন প্রজনন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
সরকারের আরোপিত আইন অনুযায়ী গভীর সমুদ্র থেকে জেলে ট্রলারগুলো তীরে ফিরে আসছে। ইতোমধ্যে পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালীসহ উপকূলের হাজারো জেলে বিভিন্ন নদনদীতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর আবারও ২২ দিনের অবরোধ নিয়ে জেলেদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জেলেদের অভিযোগ, এখনও ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। মৎস্য অধিদপ্তরের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবুও তারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের আগ্রাসন রোধে দেশের জলসীমানায় নৌবাহিনীসহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। তারা প্রণোদনার পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বণ্টনেরও দাবি তুলেছেন।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে চলছে শেষ সময়ের বেচাকেনা। ক্রেতা ও বিক্রেতার মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি।
কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে বেশিরভাগ জেলেরাই শূন্য হাতে তীরে ফিরে আসছেন। সমুদ্রে মাছ ধরার আগের মতো পরিস্থিতি নেই। দেশি বিদেশি ট্রলিং বোর্ডের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্য চলছে। এসব বন্ধে সরকারের কোনো উদ্যোগ না থাকলেও বারবার অবরোধ দিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে মৎস্য অধিদপ্তর।
জেলে আ. রহিম বলেন, সাগরে মাছ পাচ্ছি না, এরপর আবার নিষেধাজ্ঞা। সরকারি আইন মানতেই হবে। তবে সরকার যে প্রণোদনা প্রদান করেন, তা সঠিক সময় দেয় না এবং চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই সব জেলেদের দাবি, কিছু চাল দেয় সেটি সঠিক সময় আরো বৃদ্ধি করা হোক।
ট্রলারের মাঝি মো. সোলায়মান বলেন, আমরা জেলেরা বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকে ঋণে জর্জরিত, তার সঙ্গে আবার দাদনের বোঝা। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জেলে ব্যবসায় জড়িত সব ব্যবসায়ী হতাশ।
মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, এই দুই তিন বছর সাগরে মাছ পড়ছে না। যখনই একটু মাছের মুখ দেখা মেলে তখনই আবার আবহাওয়া খারাপ। নিষেধাজ্ঞার সময় বঙ্গপোসাগরে নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডকে ভালোভাবে ডিউটি করা উচিত। অবরোধের সুযোগে বার্মা ও ভারত আমাদের জলসীমানায় ঢুকে চুরি করে মাছ ধরে নিয়ে যায়।
আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার সমিতির নেতা আ. জলিল ঘরামি বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্মান রেখে জেলেরা বুধবার মধ্যরাতের আগেই সমুদ্র থেকে তীরে ফিরে আসবে। এরই মধ্যে অনেক ট্রলারে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রেতাশ্রয়ে এসে নোঙর করে বাড়ি ফিরে গেছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছর ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু জেলে ট্রলার মাঝে মাঝে কিছু মাছ পেলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
৫৮ দিনের অবরোধের শেষে একের পর এক দুর্যোগে জেলেরা সমুদ্রে যেতে পারেনি। ৫৮ দিনের অবরোধের রেশ কাটতে না কাটতেই ২২ দিনের অবরোধ জেলে আড়তদারদের হতাশ করেছে। তারা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
চলতি বর্ষা মৌসুমেই জেলেদের দুর্যোগের মধ্যদিয়ে গেছে। সমুদ্রে মাছ নেই, জেলে ও আড়তদারদের ধারদেনা করে চলতে হয়েছে। এরপরও জেলেরা সরকারের আইন মেনে মাছধরা থেকে বিরত থাকছে।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, মা ইলিশসহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে। সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে মৎস্যজীবীদের লাভ হবে।
তিনি বলেন, ২২ দিনের অবরোধকালীন সময়ে কলাপাড়া উপজেলার ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ে ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন