প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত কনটেন্ট অপসারণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বার্তা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করেছে অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, এ অভিযোগের ভিত্তিতে টেলিগ্রাম সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৪৬ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার বা ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানার মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি জানান। অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় টেলিগ্রাম তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তা নিয়ে এক বছরব্যাপী তদন্তের পর এ মামলা করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের অভিযোগের পরেও টেলিগ্রাম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মৃত্যুদণ্ডের ভিডিও এবং গণগুলির হামলার ফুটেজ সরাতে কয়েক সপ্তাহ সময় নিয়েছে। তাছাড়া এসব কনটেন্ট ছড়ানো অ্যাকাউন্ট, চ্যানেল ও গ্রুপ বন্ধ করতেও ব্যর্থ হয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
রাশিয়া টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। রাশিয়ার অভিযোগ, তিনি ‘সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার’ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন।
ই-সেফটির দাবি, টেলিগ্রাম ২০১৯ সালের নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলার সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও এবং ২০২২ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোতে গণগুলির হামলার ভিডিওসহ কিছু পরিচিত সন্ত্রাসী কনটেন্ট শনাক্ত করতে পারেনি।
এসব কনটেন্ট প্রায় তিন মাস প্ল্যাটফর্মে থাকা অবস্থায় সরানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দুবাই ও ফ্রান্স—উভয় দেশেই বসবাস করেছেন ৪১ বছর বয়সী দুরভ। ২০২৪ সালে অবৈধ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফরাসি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ফরাসি কর্তৃপক্ষ তার ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তিনি ফ্রান্স ছেড়ে চলে যান।
ফরাসি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্টধারী দুরভের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে টেলিগ্রাম ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহের সুযোগ দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্র্যান্ট বৃহস্পতিবার বলেন, নোটিশ দেওয়ার পরেও টেলিগ্রাম সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী বিভিন্ন কনটেন্ট সরিয়ে নেয়নি।
এর মধ্যে ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ভিডিও, গণহত্যার ভিডিও এবং 'সাম্প্রতিক ইতিহাসে পরিচিত উগ্রপন্থী সহিংসতার সবচেয়ে কুখ্যাত কয়েকটি ঘটনার' ভিডিও।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সরাসরি সম্প্রচার করা হামলার ভিডিও এবং ২০২২ সালে নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের গুলিবর্ষণের ভিডিও-সংক্রান্ত কনটেন্টও ছিল।
সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কোনো প্ল্যাটফর্মকে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত কনটেন্টের বিষয়ে অবহিত করা হলে, তাদের অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্ডি ট্র্যাজেডির সাম্প্রতিক ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ সময়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তিনি গত বছর সিডনির একটি সমুদ্র সৈকতে ইহুদি বিদ্বেষীর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনাটি উল্লেখ করেন, যাতে ১৫ জন নিহত হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিবন্ধিত টেলিগ্রাম একটি বড় বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ বার এটি ব্যবহার করা হয়। সূত্র: এএফপি, আনাদোলু এজেন্সির।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন