০৯:৪০ এম
চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্যবোঝাই ১০ হাজারের বেশি কনটেইনার নিয়ে যে দীর্ঘদিনের জটিলতা রয়েছে, তা কাটেনি। এই পণ্যগুলো নিলামে বিক্রির জন্য প্রায় ১৫ বছর আগে থেকেই ৮০ দফা চিঠি দেয়া হয়েছে, তবে নানা জটিলতার কারণে অনেক পণ্য কনটেইনারেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদেশি শিপিং লাইনের কনটেইনার দীর্ঘদিন আটকে থাকার ফলে তারা ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে, এবং দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস প্রতি মাসে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০টি কনটেইনারের পণ্য বিক্রি করে থাকে। বিডারদের উপস্থিতিতে মাইকিং করে এই নিলাম পরিচালিত হয়, যেখানে কমলা, মাল্টা, খেজুর, আদাসহ বিভিন্ন পচনশীল পণ্য থাকে। কিছু কনটেইনারের পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমেও বিক্রি করা হয়ে থাকে।
বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন শেডে নিলামের অপেক্ষায় ২ হাজার ৭৪৮টি ২০ ফুট কনটেইনার এবং ৬ হাজার ৬১৮টি ৪০ ফুট কনটেইনার রয়েছে। এসব কনটেইনারের পণ্য ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা সব সময় নিলামযোগ্য কনটেইনার দখল করে থাকে। এই কনটেইনারগুলো সরানো গেলে নতুন আমদানি-রফতানি পণ্য রাখার জন্য বড় পরিসরের জায়গা তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, ২ হাজার ৬৯৭টি কনটেইনার নিলামের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অনুমোদন পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬১৯টির। ২০২৫ সালে ৪৯৩টি এবং চলতি বছরে আরও ৪৯৫টি কনটেইনার নিলাম শেষে বিডারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থাৎ দেড় বছরে মোট ৯৮৮টি কনটেইনার খালাস হলেও এর মধ্যে নিলামের তালিকায় নতুনভাবে আরও কয়েকশ’ কনটেইনার যুক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, নিলাম একটি নির্দিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাই প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা সময় লাগলেও সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করতে চেষ্টা চলছে।
কনটেইনার ছাড়াও নিলামের অপেক্ষায় রয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৭২টি এলসিএল প্যাকেজ এবং ৬ হাজার ৯১৯টি বাল্ক পণ্য। কনটেইনারে না থেকে খোলা অবস্থায় সংরক্ষিত থাকায় এসব পণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস বিডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, আমদানিকারকরা নির্ধারিত এক মাসের মধ্যে পণ্য না নিলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
নিলাম প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে যেমন আমদানিকৃত পণ্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। আন্তর্জাতিক বাজারে ২০ ফুট কনটেইনারের দাম প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন ডলার, ৪০ ফুট কনটেইনারের দাম প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত রেফার কনটেইনারের মূল্য অন্তত ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
এমএসসি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারকের কারণে সমস্যা দেখা দেয়, তথাপি কনটেইনারই দীর্ঘদিন আটকে থাকে। অথচ দায়ী হওয়া উচিত কার্গো, কনটেইনার নয়। আশা করছি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও এনবিআর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ৩৪ লাখের বেশি আমদানি-রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন