০৯:৫৭ এম
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে কাস্টমস ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে জাদিদ অ্যাপারেলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে। ১০৮ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। অভিযোগের তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পর, প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে যেন স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি জাদিদ অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
অভিযোগ ওঠে, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত কাপড় আমদানি করে খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে জাদিদ অ্যাপারেলস। অভিযোগের তদন্ত শেষে, চট্টগ্রাম কাস্টমস অ্যান্ড বন্ড কমিশনারেট ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি, রফতানি এবং উৎপাদন সক্ষমতা সরেজমিনে যাচাই করে।
গত মার্চে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় অবৈধভাবে বন্ড গুদাম থেকে সরিয়ে শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ১০৮ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার ঘটনায় জাদিদ অ্যাপারেলসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জাদিদ অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ১০ মিনিট সময় চান। কিন্তু, একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কাছ থেকে আর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নিট পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় প্রদান করা উচিত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ব্যবসায়ীদের পক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ব্যবসায়ীর পরিচয়ে কিছু দুর্বৃত্তের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রাজস্ব সুরক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই ধরনের ঘটনা একা করা সম্ভব নয় এবং এখানে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। তাই, শুধু শাস্তি নয়, ভবিষ্যতে এই অনিয়ম প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেটাই রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভাল হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকির সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ফাঁকি দেওয়া অর্থের দ্বিগুণ জরিমানা, বন্ড লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন