০৫:৪০ পি.এম
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৭৫ বছরের এক দরিদ্র বৃদ্ধ, যিনি মন্নাস আলী নামে পরিচিত, তার পিঠ থেকে চিকিৎসকরা একটি গুলি বের করেছেন। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গুলিটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার শরীরে প্রবেশ করেছিল। দীর্ঘ ৫৪ বছর তিনি এই গুলির ভোগান্তির মধ্যে ছিলেন। তীব্র অভাব এবং অনটনের কারণে এতদিন তিনি কোনো পরীক্ষা বা চিকিৎসা করাতে পারেননি।
সম্প্রতি, তার পিঠের ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে মন্নাস আলী দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে পরীক্ষার মাধ্যমে গুলিটির অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। পরে, শনিবার (৪ জুলাই) সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর তার শরীর থেকে গুলি বের করা হয়। তবে এটি সত্যিকার অর্থে তৎকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর তৈরি কিনা, তা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।
বৃদ্ধের পরিবার এবং স্থানীয় উৎস অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে মুক্তিবাহিনী একটি অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি তিন মিলিটারিকে হত্যা করে। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানি বাহিনী আশপাশের গ্রামগুলোতে আকস্মিক হামলা চালায়, ফলে নির্বিচারে মানুষ হত্যা এবং ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেসময় প্রাণ রক্ষার জন্য অনেকেই গ্রাম থেকে পালিয়ে যান, তাদের মধ্যে মন্নাস আলীও ছিলেন। তিনি পালানোর সময় পিঠে গুলিবিদ্ধ হন, কিন্তু চিকিৎসার অভাবে পরে কষ্ট সহ্য করতে থাকেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সম্প্রতি, যন্ত্রণা তীব্র হয়ে ওঠায় বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। অনেকের পরামর্শে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন জানান, 'আমার বাবা প্রায়ই অসুস্থ ছিলেন। আর্থিক সমস্যার কারণে আমরা চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করার অস্ত্রোপচারের বিষয়ে খুব ভয় পেতেন। তবে সবার সহযোগিতায় অবশেষে বাবার শরীর থেকে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়েছে।'
দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান জানিয়েছেন, একজন স্থানীয় মোশারফ মন্নাস আলীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পিঠে গুলি থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অর্থের অভাবে তিনি এতদিন চিকিৎসা নিতে পারেননি। উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। মন্নাস আলীকে ৩ থেকে ৪ দিন হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাদের জানানো হয়েছে, তবে আমরা এখনও কোনো লিখিত তথ্য পাইনি। তারা চাইলে এই বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রাখতে পারবেন। আমরাও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন