ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এলইডি বাল্বের নীল আলো চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে: নতুন গবেষণা


এলইডি বাল্বের নীল আলো চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে: নতুন গবেষণা

বর্তমানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রায় প্রতিটি বাসাবাড়িতে এলইডি বাল্ব ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, এলইডি বাল্বের আলোতে বিদ্যমান নীল আলোর পরিমাণ এবং লাল ও অবলোহিত আলোর অভাব চোখের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে কিনা, এ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

লন্ডনের একদল গবেষক জানিয়েছেন, এলইডি বাল্বের আলোতে সাধারণত নীল আলোর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক সূর্যের আলো এবং পুরোনো ফিলামেন্ট বাল্বের আলোতে লাল ও অবলোহিত আলোর পরিমাণ বেশি থাকে।

গবেষকদের মতে, লাল আলো শরীরের কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এলইডি আলোতে এই ধরনের লাল আলোর পরিমাণ কম থাকায়, তারা আশঙ্কা করছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে চোখের রেটিনার কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

গবেষণার অংশ হিসেবে ২২ জন অংশগ্রহণকারীকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে লাল ও অবলোহিত আলোর সংস্পর্শে রাখা হয়েছিল। গবেষকরা জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সূক্ষ্ম রঙ শনাক্ত করার ক্ষমতায় প্রায় ২৫ শতাংশ উন্নতি দেখা গেছে।

তবে, গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এই পরীক্ষা খুব অল্পসংখ্যক মানুষের ওপর পরিচালিত হয়েছে। ফলে এলইডি বাল্বের আলো চোখের জন্য আসলে কতটা ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আরও বড় পরিসরে গবেষণার প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণার ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে, দৈনন্দিন জীবনে আলোর ব্যবহারে সচেতন থাকা এবং পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শে থাকার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসাসেবায় নতুন মাত্রা: ক্যানসার হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে ২০০ শয্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


চিকিৎসাসেবায় নতুন মাত্রা: ক্যানসার হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে ২০০ শয্যা

ঢাকার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৫শ’ থেকে ৭শ’তে উন্নীত করার জন্য সরকার প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছে। এই উন্নতির ফলে হাসপাতালটিতে নতুন করে ২শ’ শয্যা যুক্ত হবে, যা ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসাসেবায় সম্প্রসারণ করবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়।

উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালুর অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট সব বিধি-বিধান, আনুষ্ঠানিকতা ও নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে প্রতিপালনের শর্তে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৫শ’ থেকে ৭শ’তে উন্নীতকরণ এবং নতুন শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দেশে ক্যানসার রোগীর চিকিৎসায় জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে আরও বলা হয়েছে, নতুন শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিধি-বিধান ও আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এ প্রশাসনিক অনুমোদন অর্থ বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে দিয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে কেড়ে নিল শিশু মুনিরার প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে কেড়ে নিল শিশু মুনিরার প্রাণ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে পাঁচ বছরের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী সিরাজুল মুনিরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে ডাক্তাররা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে শিশুটি মারা যায়।

মৃত মুনিরা সীতাকুণ্ড উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের মো. নুরুন্নবীর কন্যা। নুরুন্নবী একজন ইন্টারনেট সংযোগ লাইনের কর্মী।

নুরুন্নবী জানান, মুনিরার রক্তচাপ একদম কমে গিয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে সীতাকুণ্ডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল মুনিরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে আজ সকাল ৯টার দিকে মারা যায় সে।

তিনি কান্না করতে করতে বলেন, "আমার দুটি মেয়ে ছিল, আমার দুটি মেয়েই আমার ছেলে, আমার খুব আদরের সন্তান ছিল। এখন আমার সবকিছু শেষ, আমি কোনো কিছুই মেনে নিতে পারছি না, কীভাবে এটা হল, কেমনে হল, কোনো কিছুই মাথায় কাজ করছে না।"

মুনিরার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। প্রিয় শিশুটিকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে তিন মাসেও কমেনি পানি, জীবন যেখানে ‘জলজ প্রাণীর মতো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


যশোরে তিন মাসেও কমেনি পানি, জীবন যেখানে ‘জলজ প্রাণীর মতো’

রাস্তার ওপর পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি ছোট্ট টং ঘর দেখা যাচ্ছে। ঘরের একপাশে বাঁধা গরু ও ছাগল এবং অন্যপাশে একটি চৌকি রাখা রয়েছে। পরিবারের সকল সদস্য দিনরাত কাটাচ্ছেন ওই একটিমাত্র চৌকিতে।

খোলা আকাশের নিচে মাটির চুলায় রান্নার প্রস্তুতি চলছে, আর ঘরবাড়ির চারপাশে পানি থইথই করছে। প্রায় তিন মাস ধরে মারাত্মক জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার মানুষ।

সরেজমিনে ভবদহ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে জানা গেছে, ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার বাধ্য হয়ে রাস্তা এবং উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে তারা সেখানেই দিন কাটাচ্ছেন। পানির কারণে অনেক পরিবারের রান্নাবান্না ও খাবারের ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকাই এখন এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, এই তিন উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন।

দীর্ঘস্থায়ী এই দুর্ভোগ নিয়ে ডুমুরতলা গ্রামের শিব পদ বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করেন, "আমরা হচ্ছি জলজ প্রাণী, সাপ-ব্যাঙের সঙ্গে আমাদের বসবাস। সরকার ও আমলারা মিলে আমাদের জলজ প্রাণী বানিয়ে রাখছে। আমরা এ জলজ প্রাণীর মতো হয়ে বাঁচতে চাই না।"

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতারা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজীত বাওয়ালীও দীর্ঘ আন্দোলনের পর মারা গেছেন, কিন্তু ভবদহের স্থায়ী সমাধান দেখে যেতে পারেননি। নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে কৃষক ও শ্রমিকদের নিয়ে আবারও রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকিস্তান আমলে ভবদহের ভবানীপুর এলাকায় শ্রী নদীর ওপর ২১ ভেন্ট, ৯ ভেন্ট ও ৬ ভেন্টের স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সেই নিষ্কাশন ব্যবস্থা আজ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে, তবুও ভুক্তভোগীদের দাবি—তারা কাঙ্ক্ষিত মুক্তি পাচ্ছেন না।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, প্রকল্পের ৭৩ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানেই কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। নদী খননের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে আগামী ৫ থেকে ৭ বছর জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, ভবদহের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের জন্য প্রায় ৪৯ কোটি ৯ লাখ টাকার পৃথক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে বুঝিয়ে না দেওয়ায় ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না।

প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কেন পানি কমছে না —এই প্রশ্ন এখন ভবদহবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমডাঙ্গা খাল সংস্কারসহ পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শুরু না হলে এই অঞ্চলের মানুষের স্থায়ী মুক্তি কবে মিলবে, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে কৃত্রিম আলোতে বদলে যাচ্ছে এডিস মশার আচরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


রাতে কৃত্রিম আলোতে বদলে যাচ্ছে এডিস মশার আচরণ

এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল। তবে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যাস্তের পরও এই মশার সক্রিয় থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিদেশের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে কৃত্রিম আলো মশার চলাফেরা ও কামড়ানোর সময় বাড়াতে পারে।

এতে ঢাকার মতো শহরে সড়কবাতি, এলইডি বাতি ও অন্যান্য কৃত্রিম আলোর কারণে মানুষের এডিস মশার কামড়ের ঝুঁকির সময়সীমা বাড়ছে কি না, সেই প্রশ্নটি সামনে এসেছে। তবে ঢাকার কৃত্রিম আলো সরাসরি ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়াচ্ছে—এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে বাংলাদেশে বিভিন্ন মাত্রার কৃত্রিম আলো ও পরিবেশে এডিস মশার আচরণ নিয়ে আলাদা গবেষণা প্রয়োজন। ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূর্যাস্তের পরও সক্রিয় এডিস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে এডিস মশা নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, "রাতে এডিস মশার সক্রিয়তার বিষয়টি এখন আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।" তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে এডিস মশার ঘনত্ব কিছুটা কম থাকলেও তারা কামড়ায়। পূর্বে ধারণা করা হতো, এডিস মশা মূলত সকাল ও বিকেলেই কামড়ায়।

২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অধ্যাপক কবিরুল বাশার ও তার সহকর্মীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯০৪টি মশা সংগ্রহ করে গবেষণা করেন। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মশার সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখতে পান, এডিস মশা সন্ধ্যার পরও সক্রিয় থাকে। এমনকি রাত ৯টার দিকেও তাদের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

তবে ওই গবেষণায় কৃত্রিম আলোর মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকার মশার আচরণের তুলনা করা হয়নি। তাই রাতের আলো এডিস মশার সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে কি না, তা ওই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

ঢাকার রাতও এখন বেশি আলোকিত

গত কয়েক বছরে ঢাকার রাতের পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উপগ্রহের পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় রাতের কৃত্রিম আলোর বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গবেষকদের হিসাবে, প্রতিবছর শহরের কৃত্রিম রাতের আলো প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ হারে বেড়েছে।

শহরের বিমানবন্দর, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মতিঝিল ও তেজগাঁও এলাকায় তুলনামূলক বেশি আলোর ঘনত্ব দেখা গেছে। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও পুরোনো সড়কবাতির পরিবর্তে উজ্জ্বল সাদা এলইডি বাতির ব্যবহার বাড়ছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলাকা, ভবন ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলও আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় আলোকিত থাকছে।

তবে উপগ্রহের এসব তথ্য শুধু রাতে কৃত্রিম আলোর বিস্তার বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করে না।

কৃত্রিম আলো কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে?

আন্তর্জাতিক কয়েকটি গবেষণায় কৃত্রিম আলোর কারণে রাতে মশার সক্রিয়তায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২০ সালে পরীক্ষাগারে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই মশার ৮২ শতাংশ দিনের বেলায় রক্ত পান করেছিল। রাতে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ। কিন্তু মাত্র ৩০ মিনিট সাদা আলোর সংস্পর্শে রাখার পর রাতে রক্ত পান করার হার বেড়ে ৫৯ শতাংশে পৌঁছায়।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এডিস অ্যালবোপিক্টাস প্রজাতির মশার ওপর পরিচালিত একটি মাঠপর্যায়ের গবেষণাতেও কৃত্রিম আলোর দূষণ বেশি এমন এলাকায় রাতে মশার সক্রিয়তা বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম দিনের পর এ প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

তবে এসব গবেষণার ফল সরাসরি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না। কারণ মশার প্রজাতি, আবহাওয়া, তাপমাত্রা এবং বাস্তব পরিবেশে আলোর ধরন ও মাত্রার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন রেজা খান বলেন, "কৃত্রিম আলো রাতে প্রাণীর আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সেই প্রভাব প্রজাতিভেদে ভিন্ন হতে পারে।" নির্দিষ্ট কোনো মশা বা প্রাণীর ওপর আলোর প্রভাব কতটা, তা জানতে সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।

আরও গবেষণার প্রয়োজন

বাংলাদেশে এ ধরনের গবেষণায় একই ধরনের পরিবেশের বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার সক্রিয়তা তুলনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি আলোর উজ্জ্বলতা, আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য, রঙের তাপমাত্রা, কতক্ষণ আলো জ্বলছে এবং রাতের তাপমাত্রার মতো বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

গবেষণা না হওয়া পর্যন্ত শহরের উজ্জ্বল রাতকে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা যায় না। তবে শহরগুলো যখন সূর্যাস্তের পরও দীর্ঘ সময় আলোকিত ও সক্রিয় থাকছে, তখন "দিনের বেলায় সক্রিয় এডিস মশা রাতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়"—এই প্রচলিত ধারণা নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%