০৮:০৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, চীনের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগের প্রস্তাব এসেছে, সেটিকে বিদ্যমান বাংলাদেশ সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি করিডর প্রতিষ্ঠিত হলে পণ্য পরিবহন, মানুষের চলাচল এবং সামগ্রিক সংযোগ (কানেক্টিভিটি) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা-সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সুবিধা সৃষ্টি হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার এ উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। সরকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারণ করা হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারে দক্ষিণ এশিয়ান একাডেমি ফর ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপের তিনদিনব্যাপী একাডেমি প্রোগ্রামের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
হুমায়ুন কবির বলেন, এ উদ্যোগের সঙ্গে মিয়ানমার এবং রোহিঙ্গা ইস্যুর একটি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, মিয়ানমারকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হলে, দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা অপরিহার্য। এ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের নিয়মিত আলোচনা চলছে।
তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই অন্যতম শীর্ষ উদ্বেগের বিষয়। তাই এ সমস্যার একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু দ্বিপক্ষীয় নয়, বরং বহুপক্ষীয় অংশীদারদের সঙ্গেও কাজ করতে হবে। চীন বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রেখে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কাজ করা হবে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে।
এছাড়া, তিনদিনের এই একাডেমি প্রোগ্রামে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জেসিআই সদস্য তরুণ নেতা, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান নেতৃত্বকে বিকশিত করার লক্ষ্যে জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৬ সালের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ-এর নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাহী বোর্ড এবং ঝঅঅওখ ২০২৬ আয়োজক কমিটি যৌথভাবে এ আন্তর্জাতিক একাডেমির আয়োজন করেছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচির সফলভাবে আয়োজনে সক্ষমতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জেসিআই নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ২০২৬ সালের জেসিআই ওয়ার্ল্ড প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রা কাস্তিযো, জেসিআই ভারতের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ভারত এন. আচার্য, জেসিআই নেপালের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট সিনেটর জীবন কার্কি এবং জেসিআই শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট জে.সি. সান্দুন উইরাসিংহে।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিনসহ দেশের শীর্ষ কয়েকজন ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন