ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো একজনই আছেন বলে মনে করেন আনচেলত্তি


তাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো একজনই আছেন বলে মনে করেন আনচেলত্তি

গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্লো আনচেলত্তির উদ্দেশে কত ধরনের পরামর্শই ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এসবকে পাত্তা দেওয়ার মতো সময় নেই ব্রাজিলের কোচের। তিনি মনে করেন, তাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো একমাত্র একজন লোকই আছেন।

আনচেলত্তি বলেছেন, তাকে পরামর্শ দেওয়ার যোগ্য শুধুমাত্র ব্যক্তিটি হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ আলেক্স ফার্গুসন। এই স্কটিশ কোচের ঝুলিতে আনচেলত্তির চেয়ে বেশি ম্যাচে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের সামনে রেখে ব্রাজিলিয়ান সংবাদপত্র ফলহা ডি সাও পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি জানান, ‘আমি সবার পরামর্শই শুনি। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যদি কেউ আমাকে পরামর্শ দেওয়ার যোগ্য হন, তাহলে তিনি হলেন স্যার আলেক্স ফার্গুসন। আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে আমি কোনো প্রতিভাধর নই। তবে একই সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে আমি কোনো বোকাও নই।’

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ইতালিয়ান কোচ আরও যোগ করেছেন, ‘একটি বিষয় নিশ্চিত। আমি ১,৪০০টিরও বেশি ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ফুটবল পুরোপুরি বোঝার জন্য হয়তো এটি যথেষ্ট নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতা হিসেবে এটি অবশ্যই অনেক বড় একটি সংখ্যা। আমার চেয়ে বেশি ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়েছেন মাত্র একজন, তিনি হলেন আলেক্স ফার্গুসন। তিনি ২,০০০টিরও বেশি ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।’

আনচেলত্তি মন্তব্য করেন, ‘আমাকে অন্য কারো বিচার করার অধিকার নেই।’ তিনি বলেন, ‘ইতালিতে একটি কথা প্রচলিত আছে, সব পুরুষই মনে করে তারা কোচ হতে পারে, আর সব নারী মনে করে তারা স্থপতি হতে পারে। আমি সত্যিই জানি না, আমি ফুটবল কতটা বুঝি। তবে এ বিষয়ে অন্য কারও আমাকে বিচার করার অধিকার নেই।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের আহ্বান তিন সংগঠনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের আহ্বান তিন সংগঠনের

নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে, দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল এবং পরিবেশবিধ্বংসী প্রকল্প হিসেবে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর দ্বারা আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই সংগঠনগুলো অবিলম্বে প্রকল্পটি বাতিলের আহ্বান জানায়।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী ঢাকার গ্রিন লাউঞ্জে জারি করা এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় যে, প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করবে। ২০২০ সালে কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই বিশেষ আইনের আওতায় প্রকল্পটি অনুমোদন প্রাপ্ত হয় এবং ২০২১ সালে বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও সিএমইসির মধ্যে চুক্তির স্বাক্ষর হয়। তবে, চুক্তির সাড়ে চার বছর পরেও প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাশিত কিছু যৌক্তিকতা ও দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হল-

প্রকল্পের জন্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের পাশাপাশি এলাকার ২০ একর জমি এবং ১০ একর স্থানীয় জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ জমি মালিক জমি দিতে রাজি না থাকলেও প্রভাবশালী মহল দ্বারা জমি দখল করে সরকারকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আদালতে মামলার চলাকালীন জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার ফলে অনেক ভূমি মালিক মর্যাদাপূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পেয়ে জমি হারিয়েছেন। প্রায় দুই হাজার মানুষের জীবিকা এই ল্যান্ডফিলের ওপর নির্ভরশীল। তবে, পুনর্বাসনের তালিকায় মাত্র ৪০ জনকে রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৮৫ শতাংশ কার্যকারিতার (পিএলএফ) ভিত্তিতে চললে প্রতি বছর ৩১ কোটি ৬৫ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এ হিসাবে, সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ২১.৭৮ সেন্ট (২৬.৭৯ টাকা) দামে বিদ্যুৎ ক্রয় করবে, যা সৌরবিদ্যুতের দরের আড়াই গুণ এবং কয়লা-বিদ্যুতের দ্বিগুণ। পিএলএফ ৪০ শতাংশে নেমে গেলে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৪৭ টাকা। যদি পিএলএফ ২০ শতাংশে কমে আসে, তবে প্রতি ইউনিটের দাম দিতে হবে অন্তত ৭৫ টাকা। ফলে বছরে সরকারের ওপর নতুন ৫৮.৮৭ মিলিয়ন ডলার (৭২৪ কোটি ২০ লাখ টাকা) ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ পরবে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণে ৪৬৭ মিলিয়ন ডলার (৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা) খরচ হবে। প্রতি মেগাওয়াটে খরচ হবে ১৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ খরচের প্রায় আড়াই গুণ (প্রতি মেগাওয়াট ৪৭ কোটি টাকা)।

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ‘এ পরিমাণ টাকা দিয়েই ৪২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা যেত, যেখান থেকে কোনো জ্বালানি ছাড়াই বছরে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হত।’

অন্যদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণে এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) ১০০ মিলিয়ন ডলার (১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা), নয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এনডিবি) ১০০ মিলিয়ন (১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা) ঋণ এবং সিএমইসি ১৫৭ মিলিয়ন (১ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করছে। তবে, বাকি ১১০ মিলিয়ন ডলার (১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা) কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে তা কখনোই উন্মুক্ত করা হয়নি, যা প্রকল্পটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিদিন ৩ হাজার টন নগরবর্জ্য সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদি কোন কারণে পর্যাপ্ত নগরবর্জ্য সরবরাহ করা না যায়, তাহলে প্রতি টনের জন্য ৫০ মার্কিন ডলার (৬ হাজার ১৫০ টাকা) জরিমানা দিতে হবে। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৭৫০ টন নগরবর্জ্য উৎপন্ন হয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে সিটি করপোরেশনকে আরো বেশি বর্জ্য উৎপাদন করতে হবে। অন্যথায় জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। এর এ কারণে, পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে ঢাকাবাসীদের নোংরা জীবনযাপনে প্ররোচনা দিচ্ছে এই প্রকল্প।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরো মাত্রায় চললে ৭৩ হাজার ৫৭৬ টন বটম অ্যাশ, ফ্লাইঅ্যাশ ও অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা, ৩৯.৫৬ টন বিষাক্ত গ্যাস (ভারি ধাতু, ডায়োক্সিন ও ফুরান গ্যাস) এবং ১.১৭ টন ক্ষতিকর গ্যাস (নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন ক্লোরাইড) ঢাকার বাতাসে মিশে যাবে, যা প্রতি বছর ক্যান্সার, হৃদরোগ, বক্ষব্যাধি ও অ্যাজমার প্রকোপ বৃদ্ধি করবে। দিল্লির বর্জ্য-বিদ্যুৎকেন্দ্র বায়ুদূষণ কমানোর চেয়ে বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকল্পটি নিয়ে বলা হচ্ছে, ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ কমবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্জ্য পোড়িয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ১.৩ থেকে ১.৮ কেজি কার্বন নির্গমন ঘটে, যা কয়লা-বিদ্যুতের প্রায় দ্বিগুণ ও গ্যাস-বিদ্যুতের তিনগুণ। প্রকল্পটি পুরো মাত্রায় চললে নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বছরে ৪ লাখ ১১ হাজার ৩৯২ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে, যার সরাসরি প্রভাববিধান হবে ঢাকার নগরবাসীর ওপর এবং এটি দেশের মোট কার্বন নির্গমন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নীতি সমন্বয়ক বারিশ হাসান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগোনোর পরিকল্পনা করছে, তখন একটি ব্যয়বহুল ও দূষণকারী প্রকল্পে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংকের বিনিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। এআইআইবি ও এনডিবির উচিত অবিলম্বে এই প্রকল্প থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করা।’

এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের (এআইআইবি) পরিবেশগত ও সামাজিক নীতি (ইএসএফ) অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় জনসাধারণের স্বাধীন মতামত নেওয়া উচিত। প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) অনুযায়ী স্থানীয় শতাধিক মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে বললেও, প্রায় ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে কোনো মতামত নেয়া হয়নি। এছাড়াও যাদের কাছ থেকে সত্যিকার অর্থে মতামত নেয়া হয়েছিল, সেটাও করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রকল্প অনুমোদনের পরে।

তবে, এআইআইবির পরিবেশ ও সামাজিক নীতিমালা অনুসারে স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ, তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করলেও প্রকল্পে এসব শর্ত যথাযথভাবে মানা হয়নি। বাংলাদেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে বর্জ্য পোড়ানোর বাধ্যবাধকতা ঘোষিত রয়েছে, কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় আইন সংশোধন করে সিএমইসির জন্য ৮৫০ ডিগ্রি অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে।

হাসান মেহেদী এবং এনজিও ফোরাম অন এডিবির নির্বাহী পরিচালক রায়ান হাসান জোর দিয়ে বলেন, ‘একটি কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার মানদণ্ড শিথিল করার উদ্যোগ আইনগত শাসন ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে।’

বিজ্ঞান ও মানবিকতার স্বার্থে, বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্পের মেয়াদ, জাতীয় অর্থনীতি ও ঢাকা মহানগরীর ওপর দৃঢ় নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনা করে নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে।

ঢাকা মহানগরের বর্জ্য বাছাই করে শিল্পখাতে পুনর্ব্যবহার ও জৈবসার তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে, যাতে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি ভূমির স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরিয়ে আনা যায়।

বর্জ্য হ্রাসে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল গড়ে তুলতে হবে।

বর্জ্য-সংগ্রহকারীদের জীবিকা হারানো এ অবস্থায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।

সেইসাথে, বিক্রি করতে অযোগ্য জমির মালিকদের জমি ফেরত প্রদান করতে হবে এবং যারা জমি দিয়েছেন, তাদের কাছে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পর্কিত এআইআইবি ও এনডিবির ঋণ বাতিল করতে হবে। এবং বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারিত করার জন্য নবায়নযোগ্য নির্বাচিত অর্থায়নকে মান্যতা প্রদান করা উচিত।

নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প শুধুমাত্র একটি ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জলবায়ুর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির সৃষ্টি করবে। তাই, প্রকল্পটি বাতিল করে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন, জৈবসার উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিকল্প কর্মসূচি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান, ৮২ জনকে আটক করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান, ৮২ জনকে আটক করা হয়েছে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ভবঘুরে, ভিক্ষুক ও মাদকাসক্তদের উৎপাত বন্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৮২ জনকে আটক করেছে বিমানবন্দর থানা-পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পুলিশ বক্স, বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, ভিভিআইপি ও ভিআইপি রোডসহ আশপাশের এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

আটকদের মধ্যে ৫৮ জন মাদকাসক্ত পথশিশু এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত ২৪ জন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানায়, বিমানবন্দর এলাকায় কোনো অবস্থাতেই ভবঘুরে, ভিক্ষুক ও মাদকাসক্তদের অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে পুলিশের টহল কার্যক্রম চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

আটক শিশুদের সুরক্ষায় ‘শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার’ মাধ্যমে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নিয়াজ মেহেদী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিছিলের প্রস্তুতিকালে নোয়াখালীতে ছাত্রলীগ কর্মী আটক, ব্যানার-স্ট্যাম্প জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ পি.এম


মিছিলের প্রস্তুতিকালে নোয়াখালীতে ছাত্রলীগ কর্মী আটক, ব্যানার-স্ট্যাম্প জব্দ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ব্যানার ও কাঠের স্ট্যাম্পসহ এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটককৃত কর্মীর নাম ফারভেজ শান্ত। তিনি চৌমুহনী এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে এবং পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে তিনি ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌমুহনী পূর্ব বাজার হাসেম মিয়ার পোল এলাকায় শনিবার (৪ জুলাই) সকালে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একদল কর্মী জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে আকস্মিক অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাকিরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ব্যানার ও স্ট্যাম্পসহ ফারভেজ শান্তকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, 'ছাত্রলীগের কিছু কর্মী মিছিল করার জন্য জড়ো হচ্ছিল। খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক সেখানে অভিযান চালিয়ে ধাওয়া করি। বাকিরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আমরা হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হই। এ সময় তার কাছ থেকে মিছিলের ব্যানার ও লাঠি-সোটা উদ্ধার করা হয়।' আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে হুঙ্কার মমতার, বললেন আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে হুঙ্কার মমতার, বললেন আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর একের পর এক বিশাল ধাক্কা আসছে। এত কিছুর পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দমনপ্রাপ্ত হননি; বরং তিনি এখনো নিজ অবস্থানে দৃঢ় রয়েছেন। দলের ৮০ জন বিধায়কের বড় একটি অংশ বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি আলাদা উপদল গঠন করেছেন। পাশাপাশি, কিছু লোকসভা সাংসদরাও (এমপি) একটি আলাদা তৃতীয় জোট গঠন করেছেন। ফলে ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস কে?’— এই প্রশ্ন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মমতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, তাকে থামাতে হলে ‘‘খুন’’ করতে হবে।

দলীয় বিদ্রোহীদের স্পষ্ট ভাষায় ‘‘বিশ্বাসঘাতক’’ আখ্যা দিয়েছেন মমতা। তবে তিনি নিজের চিরচেনা মেজাজে ঘোষণা করেছেন, তৃণমূলের দলীয় প্রতীক অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে। মমতার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিদ্রোহীরা যদি ঘাসফুল প্রতীক নিজেদের দাবি করতে চান তবে সামনে তাদের একটি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না। আমাকে যদি থামাতে চান, তবে আমাকে মেরে ফেলতে হবে।’

এদিকে শনিবার, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেছেন। চন্দ্রিমা ছিলেন মমতার অনুগত একাধিক প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে অন্যতম। পদত্যাগের পর এই বিধায়কও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উপদলে যোগ দিয়েছেন। ঋতব্রতের সমর্থকেরাই গত শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল দলীয় কার্যালয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আজ পদত্যাগ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি এবং তিনি যে পদত্যাগ করবেন— তা তিনি আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন। কারণ, তার ছেলে আগে তৃণমূল-বিরোধী শিবিরের সাথে হাত মেলেছে।’

বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টার পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, প্রায় পনেরো বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মমতা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, কখনোই বিদ্রোহীদের সাথে হাত মেলাবেন না।

মমতা বলেন, ‘সেটা (প্রস্তাব দেওয়া) তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তিনি তা করতেই পারেন। কিন্তু আমি কোনোভাবেই তাদের সাথে যোগ দেব না।’

তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহীরা চাপের মুখে পড়েই দল ছেড়ে চলে গেছে। মমতা আরও বলেন, ‘তবে আমি বিজেপির কাছে মাথা নত করব না, আর আমার দলও কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’

তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় বিদ্রোহীদের দখলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বক্তব্য রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যারা গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি একটা কথাই বলব— আমরা ওই অফিসটি ভাড়া নিয়েছিলাম। ২০২৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত অফিসটি আমাদের নামে লিজ নেওয়া আছে। কোনো ব্যক্তি দল ছেড়ে চলে যেতেই পারেন, তবে তা দলের প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘটায় না। এটি দলের সম্পত্তি। আমি চাইলে তা নিজের দখলে নিতে পারি না। ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর সম্পত্তি কেউ এভাবে জোর করে কেড়ে নিতে পারবে না।’

সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী ২০১১ সালে সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টকে উচ্ছেদ করেছিলেন। যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করে এবং বিজেপি সে সুযোগ কাজে লাগায়। মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার দলের আদর্শ বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের (বিজেপি) সম্পূর্ণ বিপরীত।

মমতা বলেন, ‘এই প্রতীক আমার দেওয়া। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আপনাদের মনোনয়নপত্রে সই করেছিলাম আমি নিজেই। নির্বাচনের পর দুই মাস না যেতেই আপনারা কীভাবে বিশ্বাসঘাতক হয়ে গেলেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। আপনারা এখন বিজেপির সাথে হাত মিলিয়েছেন, যা এভাবে চলতে দেওয়া যায় না; কারণ, তৃণমূলের আদর্শই হলো বিজেপি-বিরোধী।’

তিনি আরও জানান, চন্দ্রিমার বিদায়ের পর তিনি নিজেই এখন জাতীয় ও রাজ্য— উভয় স্তরেই দলের মূল দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। একই সাথে মমতা ঘোষণা করেন, এখন থেকে তাঁর নিজের বাড়ির দলীয় কার্যালয়ই তৃণমূলের প্রধান অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তৃণমূলে দলত্যাগের ঘটনা ঘটে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে দল এবং মমতার নিজের পরাজয়ের পর থেকে। বিদ্রোহী বিধায়কেরা মমতার নেতৃত্বের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তারা এটাও জানান যে, দল ছাড়ার পেছনে মূল কারণ আসলে দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষ।

এরই মধ্যে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক (এমএলএ), ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সাংসদ (এমপি) এবং অন্তত ৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল থেকে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দলের রাজ্য সভানেত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার মাত্র কিছু সপ্তাহের মাথায় তার পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন।

চন্দ্রিমা তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার মনে সর্বদা সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা থাকবে। তবে নিজের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পারস্পরিক আস্থার অভাবকেই দায়ী করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যেখানে কোনো বিশ্বাস নেই, কোনো আস্থা নেই, সেখানে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিক এই কারণে আমরা পদত্যাগ করেছি।’

এদিকে, নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরকে আগামী ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে তাদের নিজ নিজ দাবি ও পাল্টা দাবি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%