রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫২ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের পুত্র নিহত ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের বয়সের সংখ্যা তেরো, এই সংখ্যা সরকারি ভবনের কপালে কালি দিয়ে লিখে দিতে চান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
তিনি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে দুদু উল্লেখ করেন, অপ্রতিমের বয়স তেরো। এই সংখ্যাকে আজ আমি শহরের সব সরকারি ভবনের কপালে কালি দিয়ে লিখে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, তেরো বছর বয়সে একটি ছেলের পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুলের মাঠ, বন্ধুর মুখ, মায়ের রান্নাঘর, পরীক্ষার খাতা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অসংখ্য নির্বোধ স্বপ্ন।
দুদু আরও উল্লেখ করেন, এই দেশ তাকে তার ভবিষ্যৎসহ গিলে ফেলেছে এবং আমরা এখন সভ্য মানুষের মতো বসে তার মৃত্যুর কারণ খুঁজছি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালান।
প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে একটি মিনিট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা থেকে কুয়াকাটাগামী ডলফিন পরিবহনের একটি বাস সেটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। এতে বাস ও মিনিট্রাকের অন্তত নয়জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
এই দুর্ঘটনাটি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৪২ নম্বর পিলারের কাছে ঘটে।
পুলিশ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, ডলফিন পরিবহনের বাসটি ঢাকা থেকে কুয়াকাটার দিকে যাচ্ছিল। রাতের বেলায় পদ্মা সেতু পার হওয়ার সময় ৪২ নম্বর পিলারের কাছে বাসটি সামনে থাকা একটি মিনিট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মিনিট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের ফলে বাস ও মিনিট্রাকের কয়েকজন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (পদ্মা সেতু) আবু সাদ নিলয় বলেন, "বাসটি দ্রুতগতিতে মিনিট্রাকটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাস ও মিনিট্রাকের যাত্রীদের মধ্যে অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন।"
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের তথ্য পুলিশের কাছে আসেনি। দুর্ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা মাত্র চার মিনিটের মধ্যে পরপর ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় আতংক সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের গোপালচরণ এলাকায় বিস্ফোরণগুলো সংঘটিত হয়। তবে, হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে ফজরের সময় সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকারের বাসভবনের সামনে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। দুই মিনিট পর গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। এর দুই মিনিট পর স্কুলের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় তৃতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণগুলো চার মিনিটের মধ্যে ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিস্ফোরণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরপর বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ আতংকিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে, কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা বলেন, ফজরের আগে প্রথমে আমার বাড়ির সামনে বিকট শব্দ হয়। এর কিছুক্ষণ পর স্কুলের সামনে এবং পরে স্কুলের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় আরও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরপর তিনটি বিকট শব্দে আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। এই এলাকায় আগে কখনও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে আশপাশের লোকজনকেও বাইরে দেখতে পাই। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেলের খোসাগুলো নিয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের সংগঠন ‘চর্যাপদ একাডেমি সাহিত্য উৎসব-২০২৬’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উৎসবে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখার জন্য সাত সাহিত্যিককে দোনাগাজী পদক প্রদান করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর শহরের সাংবাদিক ক্লাবের রেডরোজ হলে বেলা ১১টায় ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক এবং বরেণ্য নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা।
একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে, মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি এবং জুড়িবোর্ডের সদস্য সচিব শিউলী মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক, দেশবরেণ্য কবি ও ডেইলি এক্সপ্রেস দেশের কন্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক নাসির আহমেদ।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ এবং জলধি সম্পাদক কথাসাহিত্যিক নাহিদা আশরাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান, ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর আলেয়া বেগম লাকী, কবি আসাদুল্লা কাহাফ এবং স্বাগত বক্তৃতা দেন উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব দিলীপ ঘোষ।
প্রধান অতিথি নাসির আহমেদ বলেন, "চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত পুরস্কারগুলো সম্পর্কে আমি আগে থেকেই অবগত। এই পুরস্কারের সুনাম আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি, এ পুরস্কার এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।"
এ সময় তিনি কবি সোহরাব পাশা, কিছু সাহিত্যিক স.ম শামসুল আলমসহ লেখকদের অভিনন্দন জানান এবং সাহিত্য শিল্প সাধনার বিষয় নিয়ে চর্যাপদ একাডেমি সাধক শিল্পী গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা বলেন, "চাঁদপুরের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মধ্যযুগের কবি দোনাগাজীকে থিয়েটারে আনা যায় কি না সেটা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, দোনাগাজীকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।"
একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি জানান, ২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিতভাবে এই পদক প্রদান করে আসছে। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চাঁদপুর শহর।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রণি বলেন, "মধ্যযুগের কবি দোনাগাজী ছিলেন চাঁদপুরের কৃতিসন্তান। তার নামে চাঁদপুরে স্থাপনা নির্মাণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে দোনাগাজীর স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানাচ্ছি।"
পরে সাহিত্য উৎসবে দেশের ৭ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয় চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির ‘দোনাগাজী পদক ২০২৫ ও ২০২৬’।
পদকপ্রাপ্তরা হলেন- সোহরাব পাশা (২০২৫-কবিতা), ইশরাত তানিয়া (কথাসাহিত্য), স. ম. শামসুল আলম (শিশুসাহিত্য), রনক রায়হান (সংগীত), শিবলী মোকতাদির (২০২৬-কবিতা), অমল সেনগুপ্ত (চারুকলা) এবং সৈয়দা আঁখি হক (লোক-গবেষণা)।
এছাড়া প্রশংসাপত্র পাঠ করেন জয়ন্তী ভৌমিক, কামরুন্নাহার বিউটি, দুখাই মুহাম্মাদ, মিজানুর রহমান স্বপন, রাসেল ইব্রাহীম ও ফেরারী প্রিন্স।
বেলাল শেখের বাঁশির সুরে কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী আবু বকর সিদ্দিক, দিপান্বিতা দাস ও মৃন্ময়ী মজুমদার।
অনুষ্ঠানে দোনাগাজীর বংশধর নাসিমা খাতুন লাকীসহ অন্যান্যদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক আইরিন সুলতানা লিমার তত্ত্বাবধানে একটি চমৎকার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চারটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩৬ জন শিশু। তবে এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮৮ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৪৮ জন। এই সময়ে মোট ১ হাজার ৩৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৮৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ জনে, যার মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ২০ হাজার ৫৬২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৫৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামের কারণে প্রাণ গেছে ১০১ শিশুর। ফলে এই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ৫৭ জনে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত সাত মাসে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন শিশু। চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ