০২:৫৫ পি.এম
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি আশাবাদী। খবরটি বার্তা সংস্থা ইউএনবি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বারিধারায় আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান এবং কেট জারো খানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও ভারত কেবল সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, বরং বাস্তবে অভিন্ন স্বপ্নও ভাগাভাগি করে।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমেই কেবল সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব এবং আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’ তিনি আরও যোগ করেন, দুই দেশের মানুষের হৃদয় খুব কাছাকাছি, এবং তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি ‘সোনালি অধ্যায়’ দেখতে চান।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
ভারতীয় দূত বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুটি সার্বভৌম দেশ। আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। যদি কোনো চ্যালেঞ্জ না থাকে, তাহলে সেটি গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র যতই বিশৃঙ্খল হোক না কেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিজেদের জায়গা প্রয়োজন। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক আছে। সেটি ঠিক আছে। কিন্তু যতক্ষণ আমাদের লক্ষ্য একই থাকে, অর্থাৎ আমরা চাই কেবল এই দুই দেশের মানুষ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ মর্যাদা, সম্মান এবং একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিয়ে বেঁচে থাকুক। আর আমরা সেটিই অর্জনের চেষ্টা করছি। আমি আন্তরিকভাবে চাই…… আমার মূল লক্ষ্য হলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সোনালি সময় প্রতিষ্ঠা করা।’
হাইকমিশনার তার প্রচেষ্টা সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের নেতা’ বলে গণ্য করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও একইভাবে জনগণের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘দুজনই জনগণের নেতা এবং তাদের উদ্দেশ্যও একই। আর এ কারণেই আমি বহু বার গণমাধ্যমে, যেখানে আমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, বলেছি যে এমন দুই নেতা যখন একসঙ্গে বসেন এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন এমন কোনো সমস্যা বা ইস্যু নেই, যা আলোচনা করা যায় না এবং যার সমাধান করা যায় না।’
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সাবেক কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং সাবেক বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এর পূর্বে, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়া এবং বাংলাদেশ-ভারতের ব্যতিক্রমী বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও লালন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা স্বীকার করি, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগই এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রকৃত স্পন্দিত হৃদয়।’
ত্রিবেদী দুই দেশকে অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাণিজ্য ও যোগাযোগ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত তাদের অংশীদারত্ব এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি সমাপ্তি বক্তব্যে বলেন, ‘আসুন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের এই অসাধারণ বন্ধনকেও আমরা অব্যাহতভাবে লালন করি এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে হাত মিলিয়ে কাজ করি।’
তিনি হাইকমিশনার হিসাবে সম্পর্কের ভিত্তি তুলে ধরে বলেন, দুই দেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের অভিন্ন ইতিহাসের বন্ধনে আবদ্ধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ভিত্তির উপর তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ত্রিবেদী বলেন, ‘স্বাধীণতা সংগ্রামের ইতিহাসের কারণে আমাদের বন্ধন গভীর ভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারিত্বের এই দৃঢ় ভিত্তির ওপর আমাদের সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে।’
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। আমাদের আমন্ত্রণ রয়েছে। আমরা ইতিবাচকভাবে বিশ্বাস করি, যদি দুই নেতা একসঙ্গে বৈঠক করেন, তাহলে আলোচনা হবে। গণতন্ত্রে সমস্যা থাকবেই। সমস্যা না থাকলে সেটি গণতন্ত্র নয়। তবে জনগণের একমাত্র ইস্যু হলো ভালো সম্পর্ক। ভালো সম্পর্ক থাকলে সেটি সবার জন্যই উইন-উইন পরিস্থিতি।’
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন