০৩:৪১ পি.এম
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপে কামড়ে মারা যাওয়া ৫৮ বছর বয়সী হাসনা বেগমকে দাফনের দুই দিন পর ‘জীবিত’ করার চেষ্টা করেছেন একজন ওঝা। ওই ওঝা কবরের একপাশ সামান্য খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে দাবি করেছেন, যদি লাশে পচন না ধরে, তবে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাকে জীবিত করা সম্ভব হতে পারে। এ ধরনের ঘটনার ফলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাসনা বেগম সখীপুর উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকায় তার নিজ বাড়িতে বাস করতেন। তার বাবা ছিলেন মৃত ওয়াজেদ আলী। হাসনা বেগম একজন স্বামী পরিত্যক্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাপে কাটার পর হাসনা বেগমকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসিজি করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে, উপজেলার চতলবাইদে তার মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এর মধ্যে, সাপে কাটার খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলার কৈলানপুর গ্রামের ওঝা গাজী মিয়া সেখানে হাজির হন। তিনি বলেন, হাসনা বেগম মারা যাননি। শনিবার, তিনি কবরের একপাশে সামান্য মাটি খুঁড়ে সুরঙ্গের মতো করে দেখেন এবং সেখান থেকে গন্ধ শুঁকতে থাকেন। তখন তিনি দাবি করেন, তিনি ‘তেলের গন্ধ’ পেয়েছেন। এমন একটি দাবির কারণে উৎসুক কিছু লোকও কবরের পাশে গিয়ে গন্ধ শোঁকার চেষ্টা করেন।
ওঝা গাজী মিয়া, হাসনা বেগমের মেয়েকে খালেদা বেগমকে জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার তিনি আবার কবরের পাশে আসবেন। তখন কবরের গন্ধ শুঁকে দুর্গন্ধ না পাওয়া গেলে মরদেহ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাকে জীবিত করা সম্ভব হবে। তবে, যদি লাশে পচন ধরে থাকে, তাহলে আর তাকে জীবিত করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।
খালেদা বেগম এই বিষয়ে বলেন, গতকাল আমার মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। আমি মাকে আবার জীবিত পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু আধা ঘণ্টা আগে ওই ওঝা আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, রাতে ধ্যানে বসে তিনি দেখেছেন মা বেঁচে নেই। এখন আমি আশাহত হয়ে পড়েছি।
শনিবার, কবরের পাশে ওঝার ঝাড়ফুঁক এবং গন্ধ শোঁকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে খালেদা বেগমের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে ওঝা গাজী মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, গতকাল তিনি জীবিত ছিলেন। কিন্তু এখন ওই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তিনি চলে গেছেন। এরপর তিনি এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, এটি একটি অকল্পনীয় বিষয়। একজন মৃত ব্যক্তিকে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেছেন এবং তাকে কবরও দেওয়া হয়েছে। এরপর ওই নারী আবার বেঁচে উঠবেন এমন দাবি হাস্যকর এবং অকল্পনীয়। ওই ওঝাকে পুলিশে সোপর্দ করা দরকার।
তিনি আরও বলেন, সাপে কাটার পর কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে কবর দেওয়ার পর ঝাড়ফুঁক করে তাকে জীবিত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমও রয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন