০২:৩৯ পি.এম
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মালোপাড়া গ্রামে সামান্য বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
যেহেতু পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই, ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বৃষ্টির পানি কারণে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও চরম হুমকির মুখে চলে এসেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ির উঠান পানিতে তলিয়ে যায়। তারা ঘর থেকে বের হওয়ার পর হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে রাস্তায় যেতে বাধ্য হন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
অনেকে অভিযোগ করেন, অনেক বাড়ির আঙিনা, রান্নাঘর এমনকি বসতঘরের চারপাশও পানিতে ডুবে থাকে, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। মালোপাড়ার বাসিন্দা বিধান মালো (২৭) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এটি অনেক জায়গাকে ভাগাড়ের মতো পরিবেশে পরিণত করেছে।
স্থির ও নোংরা পানিতে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও বয়স্কদের প্রতিদিনের জীবনে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা তরুণ কুমার মৃধা (৪০) বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ এবং খাল-নালা সংস্কারের দাবি করেছেন।
কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তিতাস বলেন, মালোপাড়া গ্রামের জলাবদ্ধতা একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসী দুর্ভোগে পড়ছেন। তিনি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেনেজ প্রকল্পের প্রস্তাব ইতোমধ্যে ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে চলতি অর্থবছরেই বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আরও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং জনদুর্ভোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন