ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাণিসম্পদ খাতে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি


বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাণিসম্পদ খাতে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি

সাম্প্রতিক বন্যার ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি চট্টগ্রাম জেলায় হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ টাকা।

বন্যার কারণে মারা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩৯৪টি গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪২টি গবাদিপশু এবং ১০ হাজার ৯৯১টি খামার। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি জেলার ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়নে এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। জেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজারে ক্ষতির পরিমাণ ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১০ টাকা, রাঙামাটিতে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা, খাগড়াছড়িতে ৩৭ লাখ ১ হাজার টাকা এবং বান্দরবানে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার ৯৯১টি খামারের মধ্যে ৪ হাজার ৭৫৬টি গবাদিপশুর খামারে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার এবং ৬ হাজার ২৩৫টি হাঁস-মুরগির খামারে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, ৯১০ টন দানাদার পশুখাদ্যে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ১৪ হাজার ২৬৫ টন খড়ে ২১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৯ হাজার ১২৯ টন ঘাসে ৮ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। মৃত্যু ঘটেছে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির কারণে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৭৪০ টাকার।

শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই ১৫টি উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ২১৮টি গবাদিপশুর খামারে ১২ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার ৬৭৪টি হাঁস-মুরগির খামারে ১৭ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৬২ টন পশুখাদ্যে ৯২ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৬ হাজার ৯৬০ টন ঘাসে ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার ১৪০ টাকার ক্ষতি বেড়েছে।

বন্যার পানিতে চট্টগ্রামে ১ হাজার ১ একর, কক্সবাজারে ৭ হাজার ৮৪০ একর, বান্দরবানে ৫১০ একর এবং রাঙামাটিতে ১ হাজার ১২৯ একর চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে মারা গেছে ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল, ৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি এবং ২ হাজার ৫০৮টি হাঁস। এর মধ্যে চট্টগ্রামে মারা গেছে ৩৯টি গরু, ৯৫টি ছাগল, ৪২টি ভেড়া, ১ লাখ ৪২ হাজার ১৩৭টি মুরগি এবং ১ হাজার ৩০০টি হাঁস।

বন্যার কারণে চিকিৎসা পেয়েছে ১১ হাজার ৮৯৭টি পশু এবং ৮৪ হাজার ৬৫০টি হাঁস-মুরগি। পাশাপাশি ১০ হাজার ৬৮৯টি পশু ও ১৯ হাজার ২৭টি হাঁস-মুরগিকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

বন্যার পানিতে চট্টগ্রামের তিনটি, কক্সবাজারের একটি এবং বান্দরবানের চারটি প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সম্পর্কিত কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপপরিচালক (ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ) ডা. মুহাম্মদ ইজমাল হাসান। তিনি জানান, মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও চলছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষক বদলির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ পি.এম


কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষক বদলির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষসহ সাত শিক্ষককে একযোগে বদলির প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে 'কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাত শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, কলেজে আগে থেকেই শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ কারণে নতুন শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়ন না করেই একযোগে সাত শিক্ষককে বদলি করায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী ও আত্মঘাতী উল্লেখ করে অবিলম্বে বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দ্রুত ওই সাত শিক্ষককে পুনর্বহাল করা এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক পদায়নের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ায় গত ১৩ জুলাই টানা ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হাঁটুরও বেশি পানি মাড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয় এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষসহ সাত শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন জেলায় বদলির আদেশ জারি করা হয়। এরপর থেকেই ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পাইডার-ম্যান সাজে ফিরছিলেন, পথেই সুপারহিরো হয়ে উঠলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ পি.এম


স্পাইডার-ম্যান সাজে ফিরছিলেন, পথেই সুপারহিরো হয়ে উঠলেন

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস রাজ্যের জোনসবোরো শহরের অত্যন্ত ব্যস্ত একটি ছয় লেনের রাস্তার ঘটনা এটি। সেখানে হুইলচেয়ারে বসা একজন ব্যক্তি সড়ক পার হওয়ার সময় প্রচণ্ড বিপদের মধ্যে পড়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে, অবিশ্বাস্য এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে, এক সুপারহিরো তার কাছে এসে দাঁড়ালেন। লাল রঙের একটি জিপ গাড়ি যখন ট্রাফিক সিগনালে থামল, তখন ভেতর থেকে লাফিয়ে নামলেন স্বয়ং ‘স্পাইডার-ম্যান’!

পোশাক পরিহিত ২০ বছর বয়সী তরুণটির নাম ক্রিস্টোফার হেলেনথাল। তিনি স্থানীয় একটি ট্রাম্পোলিন পার্কে কর্মরত, যেখানে একটি সুপারহিরো-থিমভিত্তিক ইভেন্ট শেষে তিনি নিজের গাড়িতে ফিরছিলেন। মধ্যাহ্নের ব্যস্ত ট্রাফিকে হুইলচেয়ারে থাকা ওই লোকটিকে বিপদে দেখার পর, তিনি দ্রুত ছুটে যান এবং বলেন, "আমি আপনাকে সাহায্য করছি।"

ট্রাফিক সিগন্যালের বাতি সবুজ হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে ও সারি সারি গাড়ি চালু হওয়ার আগেই, তিনি লোকটিকে নিরাপদে রাস্তা পার করাতে সক্ষম হন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি শহরের রাস্তার সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে, স্থানীয় পুলিশ তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি শেয়ার করে, হেলেনথালকে ধন্যবাদ জানায় লোকটিকে নিরাপদে রাস্তা পার করতে সাহায্য করার জন্য।

ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট হওয়ার সাথে সাথে ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজারো লাইক অর্জন করে। এক নেটিজেন আফসোস করে লিখেছেন, সাহায্য করার পর ঐতিহ্যবাহী স্পাইডি পোজ দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল!

জোনসবোরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র স্যালি স্মিথ জানান, "ডিপার্টমেন্টে আমার সাত বছরের কাজের অভিজ্ঞতায় আমি কখনও এমন ঘটনা দেখিনি।" পুলিশ হুইলচেয়ারে থাকা ওই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেনি।

হেলেনথাল বলেন, "আমার শরীরে তখন প্রচুর অ্যাড্রেনালিন রসায়ন বইছিল। আমাকে দ্রুত ট্রাফিকের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আমি শুধু ভাবছিলাম, আমি তো স্পাইডার-ম্যানের পোশাক পরে আছি, দৃশ্যটা দেখতে বেশ মজার হবে!"

লোকটিকে নিরাপদে পৌঁছানোর পর, তিনি আবার দৌড়ে নিজের গাড়িতে চলে যান কারণ সিগন্যাল খুব দ্রুতই সবুজ হয়ে গিয়েছিল।

লেকে সিটির বাসিন্দা হেলেনথাল ছোটবেলা থেকেই স্পাইডার-ম্যানের ভক্ত। তিনি এমনকি প্রয়াত ক্যারেক্টার স্রষ্টা স্ট্যান লি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগও পেয়েছিলেন।

হেলেনথালের সহকর্মী ও আলটিমেট এয়ার ট্রাম্পোলিন পার্কের ম্যানেজার পাকি ম্যাগেল বলেন, "সুপারহিরোর মুখোশ থাকা সত্ত্বেও, আমি হেলেনথালকে চিনতে পেরেছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "পোশাক পরে থাকা অবস্থায় এমন একটি কাজ করা পুরোপুরি ওর স্বভাবসুলভ।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তে ৫১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


সীমান্তে ৫১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির একটি অভিযানে প্রায় ৫১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত থেকে শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে বিজিবি- ৬০ ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে এই অভিযানটির আয়োজন করা হয়, যেখানে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

জব্দ হওয়া পণ্যের মধ্যে বাসমতি চাল, ফুচকা, চকলেট, গরু, পটকা, শাড়ি, তেল, ইমামী সেভেন অয়েল, ভ্যাসমল, স্কিন সাইন ক্রিম এবং মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত। এই সব পণ্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম আরও জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মাদলা ও খাদলা এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল ও খাড়েরা এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানে পাচার হয়ে আসার সময় মোট ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৪০০ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-আইওএমের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-আইওএমের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ১১ লাখ ২৫ হাজার ইউরোর একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং আইওএম বাংলাদেশের মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসনে সমন্বিত পদ্ধতির প্রসার’ শীর্ষক তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

ইআরডি’র সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে এ চুক্তির স্বাক্ষর করেন, যা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের প্রসার, জলবায়ু কার্যক্রমে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনগণের সহনশীলতা বৃদ্ধিসহ জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইআরডি’র সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানব অভিবাসনের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু অভিযোজন কৌশলের সঙ্গে জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসনকে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যাতে জনগণের সহনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া যায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ নিরাপত্তা পায়।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, অভিবাসন সুশাসন জোরদার, তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়নের জন্য প্রমাণভিত্তিক উপাত্ত তৈরি করাসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগণকে সহায়তা ও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে আইওএমের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

ইআরডি সচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন এই উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে, জ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে, প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদার আর্থিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার জন্য ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম দুই পক্ষই জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের সক্ষমতা আরও জোরদারে যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। আশা প্রকাশ করা হয়, এই প্রকল্প বাংলাদেশের জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে পারে, একইসাথে দক্ষিণ এশিয়াতে আঞ্চলিক শিক্ষা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইং প্রধান এ কে এম সোহেল, ইআরডির যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান, ইআরডির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিবুল আলম, আইওএম বাংলাদেশের জাতীয় কর্মসূচি কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান খান, আইওএমের সরকারি সংযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম মোরশেদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%