ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুমিল্লার ৩০০ বছরের পুরোনো মসজিদ সংরক্ষণের দাবি


কুমিল্লার ৩০০ বছরের পুরোনো মসজিদ সংরক্ষণের দাবি

কুমিল্লার গোমতী নদীর উত্তর তীরে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো নুরজাহান মসজিদ সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইতিহাস, জনশ্রুতি এবং অবহেলায় জীর্ণ এই স্থাপনাটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। বিশাল বটগাছের শেকড় যেন মসজিদটির অস্তিত্বকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই মসজিদে কোনো দিন আজান দেওয়া হয়নি। এমনকি জামাতের সঙ্গে নামাজও আদায় হয়নি। কারণ, এর নির্মাতা ছিলেন ত্রিপুরা মহারাজা দ্বিতীয় ধর্ম-মানিক্যের রাজদরবারের একজন নর্তকী।

অবহেলায় ক্ষয়ে যাওয়া এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে রক্ষায় স্থানীয়দের সাথে সক্রিয় হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। ভূমির তফশিল নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছে সংস্থাটি। একই দাবিতে আবেদন করেছেন শিক্ষানুরাগী মোশাররফ খান চৌধুরী।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, গোমতীর উত্তরপাড়ের মাঝিগাছা গ্রামে তিন বোন— নুরজাহান, মোগরজান ও ফুলজান বাস করতেন। শৈশবে সাপে কাটা নুরজাহানকে ভেলায় তুলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার পর ত্রিপুরা রাজদরবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার পর রাজদরবারের মেনেকার তত্ত্বাবধানে তিনি নাচ-গান শেখেন এবং সময়ের অন্যতম খ্যাতিমান নর্তকীতে পরিণত হন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর রাজদরবারে কাটানোর পর তিনি মধ্যবয়সে নিজ গ্রাম মাঝিগাছায় ফিরে আসেন। একজন জমিদারের বিধবা স্ত্রী পরিচয়ে জীবনের পদযাত্রা শুরু করেন। বিদায়ের সময় ত্রিপুরার মহারাজা তাকে কিছু একর জমি, বিপুল অর্থ ও স্বর্ণালংকার উপহার দেন। সেই সম্পদ কাজে লাগিয়ে তিনি গ্রামের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসেন। অতীত জীবনের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে ১৭১৪ থেকে ১৭৩৪ সালের মধ্যে তিনি নির্মাণ করেন একটি মসজিদ।

মসজিদ নির্মাণ শেষের পর নামাজ শুরুর দিন নির্ধারণে গ্রামবাসীকে নিয়ে বৈঠক করার উদ্যোগ নেন নুরজাহান। কিন্তু তার পূর্বে তার অতীত জীবন নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়ে যায়। পরে গ্রামের প্রভাবশালীরা সিদ্ধান্ত নেন, তার অর্থে নির্মিত মসজিদে কেউ নামাজ আদায় করবে না। সেই সিদ্ধান্তই আজও জনশ্রুতির অংশ হয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এরপর থেকে এই মসজিদে আর কখনো আজান দেওয়া হয়নি এবং নামাজও অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নুরজাহান। কয়েক বছর নিভৃতে জীবন কাটানোর পর তিনি এলাকাটি ছেড়ে চলে যান বলে একটি প্রচলিত মত রয়েছে। আবার অন্য একটি জনশ্রুতি বলছে, সামাজিক অপবাদ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে মসজিদের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লা নগরীর চাঁনপুর গোমতী সেতু পার হয়ে মাঝিগাছা-নন্দীর বাজার সড়কের বাম পাশে ঐতিহাসিক মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এটি দেখতে এলেও চারপাশে গড়ে ওঠা স'মিল ও দোকানপাটের কারণে স্থাপনাটি অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

মসজিদের গম্বুজের একাংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে এবং দেয়ালজুড়ে বড় বড় ফাটল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। কিছু জায়গায় বটগাছের শেকড় ইটের গাঁথুনিকে ভেদ করে নেমে এসেছে। ভেতরে জমে থাকা পানি এবং অযত্নে পুরো স্থাপনাটি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি কবরস্থান।

শিক্ষানুরাগী মোশাররফ খান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন এই পথে যাতায়াতের সময় মসজিদটির করুণ অবস্থা চোখে পড়ে। দ্রুত সংরক্ষণ না করলে এটি একসময় হারিয়ে যাবে। আশপাশের দখল বন্ধ করতে হবে। যদি যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার সজিব মিয়া বলেন, গোমতী নদীর তীরের এই ঐতিহাসিক মসজিদ প্রত্ন-পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি স্থাপনা। ভূমির তফসিল নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংরক্ষণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম মশিউজ্জামান জানান, মসজিদের ভূমি নির্ধারণ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত আবেদন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুকুরে ডুবে মৃত্যু হল ২ বছরের শিশুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


পুকুরে ডুবে মৃত্যু হল ২ বছরের শিশুর

লালমনিরহাটে পুকুরের জল ডুবিয়ে দুই বছর বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নামুড়ী চন্দ্রপুর গ্রামে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।

নিহত রুকাইয়া খাতুন ওই গ্রামের মো. রতন মিয়া ও রেহেনা বেগমের কন্যা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে, রুকাইয়া খাতুন বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলছিল। একপর্যায়ে সবার অজান্তে সে পুকুরের জলে পড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে যখন স্থানীয়রা ওই ঘটনাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে, তখন পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।

এ ঘটনার পর শিশুটির নানা মজিদুল হক সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যু সংক্রান্ত লিখিত আবেদন জমা দিয়ে জানান, মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং তারা মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের জন্য অনুমতি চান।

এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব গণমাধ্যমকে বলেন যে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: বিগত সরকারের অনিয়মে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


স্বাস্থ্যমন্ত্রী: বিগত সরকারের অনিয়মে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছিল

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ লুটপাটের কারণেযার ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আমরা জনগণের দ্বারপ্রান্তে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে ৫০ শয্যা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ১০১ শয্যার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম শুরু হবে।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালে লক্ষাধিক টাকার মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধসহ বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়াও, এ সময় তিনি পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি ক্লিনিকও পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মো. নাসের রিকাবদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি, মোড়লগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ সহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক ৩০ ফুট উঁচু মই থেকে পড়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক ৩০ ফুট উঁচু মই থেকে পড়ে গেছে

রাজশাহীতে প্রশিক্ষণের সময় তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন, হযরত আলী সরদার (৩৫) নামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এই গাড়িচালক প্রায় ৩০ ফুট উঁচু মই থেকে পড়ে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনে।

ঘটনার পর, হযরত আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর, তাকে সিটি স্ক্যানের জন্য রেডিওলজি বিভাগে পাঠানো হয়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, হযরত আলী প্রায় ৩০ ফুট উঁচু মই থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে হাঁটতে পারছেন না। সিটি স্ক্যানের জন্য তাকে রেডিওলজি বিভাগে পাঠানো হয়েছে, তবে এখনই তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এনায়েতুল হক এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে বিশিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক দিন পর ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, এবং সেই প্রতিযোগিতার জন্য কর্মীদের যাচাই-বাছাই চলছে। এর অংশ হিসেবে রাজশাহীতে দ্রুত সময়ে মইয়ে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। যদিও হযরত আলী গাড়িচালক, কর্মকর্তারা তাকে মইয়ে ওঠার জন্য নির্দেশ দেন।

দ্রুত ওপরে ওঠার সময় তিনি প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতা থেকে হঠাৎ নিচে পড়ে যান।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাজশাহীর উপপরিচালক মনজিল হক বলেন, তিনি বাইরে থাকায় ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন এবং সহকারী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরে সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্র্যাকটিসের সময় হযরত পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। গাড়িচালক হওয়ার পরও তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, চাকরি করলে সবই করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাঙনের কবলে তুরাগের দুই তীর, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


ভাঙনের কবলে তুরাগের দুই তীর, আতঙ্কে স্থানীয়রা

বর্ষের সময়ে গাজীপুরের তুরাগ নদের দুই পাড়ে পলিমাটি জমা হতো, ফলে ফসলি জমি উর্বর হয়ে উঠতো। তবে কয়েক বছরের মধ্যে তুরাগ নদ বর্তমান হয়ে উঠেছে আগ্রাসী নদীতে। বর্ষার সময় প্রবল স্রোতে নদের বাঁকে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে পাড়ের বাসিন্দারা বসতভিটা, আবাদি জমি ও সড়ক হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বংশাই নদীর অববাহিকা থেকে প্রবাহিত তুরাগ নদের বিভিন্নস্থানে, যেমন কুতুবদিয়া, নামাশুলাই, গর্জনখালী, কালিয়াদহ, বড়ইবাড়ীসহ অন্তত ১০টি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, আবাদি জমি এবং স্থানীয় সড়ক। নদীর প্রস্থ বাড়তে থাকায় দুই তীরের শতাধিক গ্রামের মানুষ অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক যুগ আগেও তুরাগ নদকে ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল ছিল। যদিও বর্ষায় নদের দুই পাড় প্লাবিত হতো, তথাপি ক্ষতির পরিবর্তে বেশি লাভবান হতেন বাসিন্দারা। বর্ষায় নদীর পলিতে জমি উর্বর হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রচুর দেশীয় মাছ মিলে যেত। নদীর স্বচ্ছ পানি ব্যবহৃত হতো সেচের কাজে। কিন্তু অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীতীর কেটে মাটি বিক্রির ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর কারণে বর্ষায় পানির স্রোত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভাঙনের ফলে তাদের বাড়িঘর এবং জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাদের অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। একসময় যেখানে তাদের বসতভিটা ছিল, এখন সেখানে নদীর পানি দেখা যাচ্ছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না গ্রহণ করা হলে পুরো জনপদ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নদী ভাঙণের শিকার কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গত ৩ বছর ধরে বর্ষা এলেই তাদের বসতভিটা নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ, কাঠ ও ইট ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনো ফলাফল হয়নি। সরকারি উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে অনেক পরিবার রক্ষা পেতে পারে।

গাজীপুর জেলা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মোতালেব মিয়া বলেন, তুরাগ নদ একসময় তার সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত ছিল। বর্তমানে তা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। নদীর দুই তীর দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। নদী রক্ষায় দ্রুত পরিকল্পিত ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, তুরাগ নদের বিভিন্নস্থানে ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদী রক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%