০৩:৪৯ পি.এম
বর্ষের সময়ে গাজীপুরের তুরাগ নদের দুই পাড়ে পলিমাটি জমা হতো, ফলে ফসলি জমি উর্বর হয়ে উঠতো। তবে কয়েক বছরের মধ্যে তুরাগ নদ বর্তমান হয়ে উঠেছে আগ্রাসী নদীতে। বর্ষার সময় প্রবল স্রোতে নদের বাঁকে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে পাড়ের বাসিন্দারা বসতভিটা, আবাদি জমি ও সড়ক হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বংশাই নদীর অববাহিকা থেকে প্রবাহিত তুরাগ নদের বিভিন্নস্থানে, যেমন কুতুবদিয়া, নামাশুলাই, গর্জনখালী, কালিয়াদহ, বড়ইবাড়ীসহ অন্তত ১০টি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, আবাদি জমি এবং স্থানীয় সড়ক। নদীর প্রস্থ বাড়তে থাকায় দুই তীরের শতাধিক গ্রামের মানুষ অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক যুগ আগেও তুরাগ নদকে ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল ছিল। যদিও বর্ষায় নদের দুই পাড় প্লাবিত হতো, তথাপি ক্ষতির পরিবর্তে বেশি লাভবান হতেন বাসিন্দারা। বর্ষায় নদীর পলিতে জমি উর্বর হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রচুর দেশীয় মাছ মিলে যেত। নদীর স্বচ্ছ পানি ব্যবহৃত হতো সেচের কাজে। কিন্তু অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীতীর কেটে মাটি বিক্রির ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর কারণে বর্ষায় পানির স্রোত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ভুক্তভোগীরা জানান, ভাঙনের ফলে তাদের বাড়িঘর এবং জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাদের অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। একসময় যেখানে তাদের বসতভিটা ছিল, এখন সেখানে নদীর পানি দেখা যাচ্ছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না গ্রহণ করা হলে পুরো জনপদ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদী ভাঙণের শিকার কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গত ৩ বছর ধরে বর্ষা এলেই তাদের বসতভিটা নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ, কাঠ ও ইট ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনো ফলাফল হয়নি। সরকারি উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে অনেক পরিবার রক্ষা পেতে পারে।
গাজীপুর জেলা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মোতালেব মিয়া বলেন, তুরাগ নদ একসময় তার সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত ছিল। বর্তমানে তা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। নদীর দুই তীর দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। নদী রক্ষায় দ্রুত পরিকল্পিত ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, তুরাগ নদের বিভিন্নস্থানে ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদী রক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন