ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভাঙনের কবলে তুরাগের দুই তীর, আতঙ্কে স্থানীয়রা


ভাঙনের কবলে তুরাগের দুই তীর, আতঙ্কে স্থানীয়রা

বর্ষের সময়ে গাজীপুরের তুরাগ নদের দুই পাড়ে পলিমাটি জমা হতো, ফলে ফসলি জমি উর্বর হয়ে উঠতো। তবে কয়েক বছরের মধ্যে তুরাগ নদ বর্তমান হয়ে উঠেছে আগ্রাসী নদীতে। বর্ষার সময় প্রবল স্রোতে নদের বাঁকে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে পাড়ের বাসিন্দারা বসতভিটা, আবাদি জমি ও সড়ক হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বংশাই নদীর অববাহিকা থেকে প্রবাহিত তুরাগ নদের বিভিন্নস্থানে, যেমন কুতুবদিয়া, নামাশুলাই, গর্জনখালী, কালিয়াদহ, বড়ইবাড়ীসহ অন্তত ১০টি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, আবাদি জমি এবং স্থানীয় সড়ক। নদীর প্রস্থ বাড়তে থাকায় দুই তীরের শতাধিক গ্রামের মানুষ অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক যুগ আগেও তুরাগ নদকে ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল ছিল। যদিও বর্ষায় নদের দুই পাড় প্লাবিত হতো, তথাপি ক্ষতির পরিবর্তে বেশি লাভবান হতেন বাসিন্দারা। বর্ষায় নদীর পলিতে জমি উর্বর হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রচুর দেশীয় মাছ মিলে যেত। নদীর স্বচ্ছ পানি ব্যবহৃত হতো সেচের কাজে। কিন্তু অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীতীর কেটে মাটি বিক্রির ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর কারণে বর্ষায় পানির স্রোত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ভুক্তভোগীরা জানান, ভাঙনের ফলে তাদের বাড়িঘর এবং জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাদের অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। একসময় যেখানে তাদের বসতভিটা ছিল, এখন সেখানে নদীর পানি দেখা যাচ্ছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না গ্রহণ করা হলে পুরো জনপদ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নদী ভাঙণের শিকার কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গত ৩ বছর ধরে বর্ষা এলেই তাদের বসতভিটা নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ, কাঠ ও ইট ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনো ফলাফল হয়নি। সরকারি উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে অনেক পরিবার রক্ষা পেতে পারে।

গাজীপুর জেলা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মোতালেব মিয়া বলেন, তুরাগ নদ একসময় তার সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত ছিল। বর্তমানে তা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। নদীর দুই তীর দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। নদী রক্ষায় দ্রুত পরিকল্পিত ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, তুরাগ নদের বিভিন্নস্থানে ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদী রক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭৭ বছর পর এক হলো ১৯৪৯ সালে বিচ্ছিন্ন দুই পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


৭৭ বছর পর এক হলো ১৯৪৯ সালে বিচ্ছিন্ন দুই পরিবার

চীনে ভ্রমণের সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে বহু বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এমন এক আত্মীয়ের সন্ধান পেয়েছেন এক ব্যক্তি। এই ঘটনা শুরু হয়েছিল শুধুমাত্র একজন অচেনা পর্যটকের ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধের মাধ্যমে।

পরে সেই কথোপকথনে জানা যায়, তারা আসলে একই পরিবারের সদস্য। কয়েক কয়েক দশক পর আবারও এক হতে যাচ্ছে দুই পরিবার। এই তথ্য জানিয়েছে 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট'।

সাংহাইয়ের বাসিন্দা চেন জিয়ে চলতি জুলাইয়ের প্রথমে কাজের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে যান। কাজের ফাঁকে তিনি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লুগু হ্রদে ঘুরতে যান। ৯ জুলাই ভোর ৬টার সময় তিনি হ্রদের পাশেই সূর্যোদয় উপভোগ করছিলেন। এই সময়ে, এক বয়স্ক পর্যটক তাকে অনুরোধ করেন তার একটি ছবি তুলে দিতে। ছবি তোলার পর দুজনের মধ্যে সাধারণ কথাবার্তা শুরু হয়।

এই কথা বলতে বলতে তারা জানতে পারেন, তাদের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত পারিবারিক সম্পর্ক বিদ্যমান। আলাপের এক পর্যায়ে চেন জানতে পারেন, পর্যটকের পদবি ফেই। তিনি তাইওয়ানের কাওশিউং শহরের বাসিন্দা। তবে তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি ছিল চীনের চেচিয়াং প্রদেশের থুংশিয়াং এলাকার ছোট শহর পুইউয়ানে। এই তথ্য শুনে চেন বিস্মিত হন, কারণ তার নিজের বাড়িও একই শহর পুইউয়ানে। এরপর তারা একসঙ্গে একটি ছবি তোলেন এবং একে অপরের যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন। পরে ওই পর্যটক সম্পর্কে আরো তথ্য জানার সময়, চেনের মনে সন্দেহ হয়, তারা হয়তো আত্মীয় হতে পারেন।

চেন বিষয়টি তার বাবাকে জানান। তখন তার বাবা জানতে চান, ওই ব্যক্তির বাবার নাম ফেই ইউনফেং কি না। চেন বিষয়টি ফেইকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সেটি নিশ্চিত করেন। এরপর পরিবারের পুরোনো তথ্য মিলিয়ে, চেন নিশ্চিত হন, ফেই আসলে তাদের পরিবারের সদস্য। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুই পরিবারের মধ্যে কোনো যোগাযোগ সংলাপ ছিল না।

চেন জানান, ফেইয়ের বাবা এবং তার দাদা ছিলেন আপন ভাই। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার আগে, ফেইয়ের বাবা কুওমিনতাং বাহিনীর সঙ্গে তাইওয়ানে চলে যান। এর পর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, চেনের দাদাকে পরে চেন পদবির এক দম্পতি দত্তক নেন, যার ফলে তার পদবিও বদলে যায়। এই কারণেই এত বছর ধরে দুই পরিবারের সদস্যরা একে অপরের খোঁজ পাননি। চেন বলেন, পারিবারিক সম্পর্ক অনুযায়ী, ফেই তার চাচা হন।

চেন বলেন, প্রায় ২০ সদস্যের তাদের বড় পরিবারকে তিনি পুরো ঘটনাটি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, পরিবারের সবাই মনে করছেন, এটি ছিল একটি অবিশ্বাস্য কাকতালীয় ঘটনা, যেন জাদুর মতো। অন্যদিকে, ফেইও এই ঘটনাটিকে নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যটনকেন্দ্রে তখন অনেক মানুষ ছিলেন, কিন্তু ছবি তোলার জন্য শুধু চেন জিয়েকেই কেন তিনি বেছে নিয়েছিলেন। ফেই বিশ্বাস করেন, তাদের দেখা হওয়ার মতো ঘটনাই ঘটেছে।

তিনি জানান, আগামী মাসে তিনি পুইউয়ান সফরে যাবেন। সেখানে চেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দেখা করবেন। চেন মন্তব্য করেন, এত বছর পর দুই পরিবারের সম্পর্ক আবার তৈরি হয়েছে। এখন সেই সম্পর্ক ভবিষ্যতে ধরে রাখার দায়িত্ব হয়তো তাদের প্রজন্মের ওপরই থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে আইনজীবী কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


বাগেরহাটে আইনজীবী কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

বাগেরহাট সদর উপজেলার একটি স্থানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতের কারণে নিহত হয়েছেন আইনজীবী নিজাম উদ্দিন (৪২)। এ ঘটনা ঘটে শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায়।

নিহত আইনজীবী নিজাম উদ্দিন সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ এলাকার একজন বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পৈতৃক বাড়ি গোপালগঞ্জে অবস্থিত। নিহত নিজাম উদ্দিন দ্বিতীয় স্ত্রী ও তিনটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আনুমানিক একটার দিকে নিজাম উদ্দিন মোটরসাইকেলে করে বাগেরহাট শহর থেকে নিজ বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। যখন তিনি হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় পৌঁছান, তখন অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন নিজাম উদ্দিন।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় এক মাস আগে নিহত হন নিজাম উদ্দিনের বাবা তোরাফ আলী। আরও জানা যায়, তিনি তার মা এবং প্রথম স্ত্রীকেও হারিয়েছেন বলে জানান নিহতের পরিবারবর্গ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের প্রকোপে আরও ৬ শিশুর প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


হামের প্রকোপে আরও ৬ শিশুর প্রাণহানি

হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৬৯১ শিশু।

শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হালনাগাদ হাম পরিস্থিতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গের কারণে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। তবে হাম আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে হাম আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫টি শিশু মারা গেছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮১৬টি শিশু মারা গেছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছে, এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৬১৩। এই সময়ে ৫৮১ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ৪৭৯টি শিশু ছাড়া পেয়েছে।

এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩, যেখানে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ২৭২। এর মধ্যে হাসপাতলে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ রোগী ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই আন্দোলনে পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা জানালেন দুদু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


জুলাই আন্দোলনে পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা জানালেন দুদু

বাঙালি জাতি কখনো অন্যায় সহ্য করে না, এই মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণির মানুষের অবদান রয়েছে। তিনি এ কথা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (ডিইএব) সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

‘রক্তাক্ত জুলাই এবং পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ডিইএব ডিপিডিসি শাখা। আলোচনার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারী (মিলন) এবং পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান জুয়েল। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রকৌশলী তরিকুল হক, প্রকৌশলী রেজাউল করিম, শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আবুল মনসুর, প্রকৌশলী এএসএম তারেক তুষার, প্রকৌশলী ওবায়দুল আলম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদুকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা প্রকৌশলী মো. মীর হোসেন পাটোয়ারীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাঙালি জাতি কখনো অন্যায় সহ্য করে না। সে জন্যই গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। কেননা, সার্বজনীন না হলে সেটা আন্দোলন হয়ে ওঠে না। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সব শ্রেণির মানুষ আমাদের পেছনে ছিল। চব্বিশে আমরা ছিলাম তরুণদের পেছনে।

তিনি আরো বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দাবিগুলো যৌক্তিক। যারা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনগণের সেবা দেয় তাদের কথা সরকারের অবশ্যই শোনা এবং বোঝা দরকার। সেই সাথে দাবিগুলো সমাধানে উদ্যোগী হওয়া উচিত। যারা ভোট দিয়ে, রাস্তায় আন্দোলন করে জীবন দিয়ে শ্রম দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন তাদের তো দাবি দাওয়া থাকবেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেগুলো ইতিবাচকভাবে নেবেন। কারণ তিনি নিজেও নির্যাতিত। তার বাবা ও মা এদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সুতরাং তিনি পেশাজীবীদের কথা অবশ্যই ভাববেন। এই সরকার জনগণের সরকার, আমাদের স্বপ্নের সরকার।

এ সময় সভাপতির বক্তব্যে মীর হোসেন পাটোয়ারী মিলন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে ডিইএব‘র প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি অসহায় সহযোদ্ধাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখার জন্য সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সাথে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এখন বলছেন বিদ্যুৎ খাত বেসরকারি খাতে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বক্তারা সতর্ক করেন, এটা হবে বড় ভুল এবং এতে বিদ্যুৎ খাতে কর্মরত সবার মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে। বরং সিস্টেম লস কমিয়ে এবং গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি করে কিভাবে আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া যায় সে দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রীকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%