ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিলেন দলিল লেখক


প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিলেন দলিল লেখক

প্রবাসীর কেনা কৃষিজমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব এবং ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলী উভয়ের বাড়ি তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামে।

অভিযোগকারী, দলিল সম্পাদনকারী, দলিল লেখক, দলিলের সাক্ষী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর লিখিত বক্তব্য, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সরেজমিন তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পান তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম। পরে বিধি অনুযায়ী জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না, প্রকৃত মালিককে তার জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগম জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লিখিত হয়েছে যে, ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক ছিলেন। তাকে তার একমাত্র সম্বল সোয়া বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে হয়েছে। পরবর্তীতে ফরহাদ আলী বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় দেড় বিঘা কৃষিজমি ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কেনেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, জমির রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তাড়াশ দলিল লেখক অফিসের দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবকে নিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু চলমান ঘটনায় দেখা যায় যে, তিনি ফরহাদ আলীর বাবা-মায়ের অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি ক্রেতার নামে না করে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করেন।

ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম (৭৭) বলেছেন, বিদেশে আমার ছেলের আয় খুবই কম। ঠিকমতো টাকাও পাঠাতে পারে না। গত রমজানে পান্তা ভাত খেয়েও রোজা রেখেছি। বসতবাড়ি এবং ছেলের কেনা জমিটুকুই আমাদের শেষ সম্বল। জমি ফেরত না পেলে শোকে হয়ত আমি মারা যাব।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

জমির বিক্রেতা কহিত তেতুলিয়া গ্রামের মৃত সোলেমানের সন্তান বাবলু মিয়া, কালাম হোসেন, শামীমা খাতুন ও সুমি খাতুন জানিয়েছেন, তারা চার ভাই-বোন ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরহাদ আলীর কাছে দেড় বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করেন। কিন্তু পরে তারা সভ্যতার মাধ্যমে জানতে পারেন যে, প্রতারণার মাধ্যমে দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।

পরবর্তী সময়ে নুরুল ইসলাম দলিল লেখকের কাছে দলিলের জাবেদা নকল চাইলে তিনি দীর্ঘদিন তা দেননি। পরে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে দলিলের নকল সংগ্রহ করে পরিবারটি বিষয়টি জানতে পারে। এরপর খাজনা ও নামজারি করতে ভূমি অফিসে গেলে তাদের জানানো হয়, দলিল অনুযায়ী জমির মালিক মির্জা আব্দুর রব। যদিও দায়িত্বপূর্ণভাবে জানানো হচ্ছে যে, শুরু থেকেই জমিটি ভোগদখলে রয়েছে ফরহাদ আলীর পরিবারের।

জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগমের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই বিধি অনুযায়ী তাড়াশ দলিল লেখক অফিসে কর্মরত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা বিধবা নারী, গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা বিধবা নারী, গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলা করেন ওই নারী। মামলায় একজনকেই আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক শিরিন নিলা মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহারপূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।  

শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামাতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক।  

মামলার এজাহারে ওই নারী বলেন, প্রায় ৭ বছর আগে আমার স্বামী মারা যান। কিছুদিন পরে আমার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যাই। সেখানে আমাকে দেখার পর শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শহিদুল আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিয়েতে রাজি হলে শহিদুলের বোন আমাকে দেখবেন এই কথা বলে পটুয়াখালী শহরে নিয়ে যান। গত ২৪ মার্চ সকাল ৯টার দিকে শেরে বাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় গেলে রুমের মধ্যে আটকে আমাকে ধর্ষণ করেন শহিদুল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি।

অভিযোগে ওই নারী বলেন, শহিদুল আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাইলে আমি রাজি হইনি। গত ১৮ মে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর কথা বলে আমাকে ক্লিনিকে নিয়ে যান তিনি। সেখানে ওষুধ খেতে দেওয়া হয়, ওই ওষুধ খেতে না চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ওষুধ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে যাই। একদিন পরে জ্ঞান ফিরলে জানতে পারি ওষুধ খাইয়ে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছেন শহিদুল। আমি এর বিচার চাই।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির বলেন, ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরে নিয়ে আসা হয়। পরে শহিদুলের বোনের বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়েছেন। এজাহার গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।  

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু শহিদুলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে, এ বিষয়ে আমার কিছু বলা উচিত নয়। আদালত তার বিচার করবেন। আদালত দেখবেন ঘটনা সত্যি নাকি মিথ্যা। আদালতে দোষী হলে পরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত আদালতের আদেশের কপি হাতে পাইনি। আদেশের কপি হাতে পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপত্তা বলয় ভেঙে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কক্ষে হত্যাকারীরা কিভাবে ঢুকে পড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ পি.এম


নিরাপত্তা বলয় ভেঙে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কক্ষে হত্যাকারীরা কিভাবে ঢুকে পড়ে

৪৫ বছর আগে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে সংঘটিত সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল সেসময়; তবে জনসম্মুখে কখনও প্রকাশিত হয়নি সেই কমিশনের প্রতিবেদন। ডেইলি স্টার পেয়েছে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের একটি মুদ্রিত কপি।

৪৫ বছর আগের সেই প্রতিবেদনে বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু ইউসুফ মো. মাহফুজুর রহমানের কঠোর সমালোচনা করা হয়। কমিশনের জমা দেওয়ার আগেই সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন মাহফুজুর রহমান এবং ১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক সেনা কর্মকর্তা মেজর মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্রপতির এইড-ডি-ক্যাম্প (এডিসি) ক্যাপ্টেন মাজহারুল হকের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। মেজর মুজিবুর রহমানকেও ১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ফাঁসি দেয় সামরিক আদালত।

৪৫ বছর আগের প্রতিবেদনটি বলছে, সার্কিট হাউসে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত স্টাফদের একজন বা একাধিক সদস্যের কারণে তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল। ঘটনার রাতে সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানের কক্ষের পূর্ব পাশের কক্ষে অবস্থান করছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমান। কমিশনকে দেওয়া বক্তব্যে ক্যাপ্টেন মাজহারুল হক জানান, গুলিবর্ষণ থেমে যাওয়ার পর তিনি রুম থেকে বের হন। এরপর ৪ নম্বর রুমের দিকে যান, যেখানে জিয়াউর রহমান ছিলেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুরকে বারান্দার অন্য পাশ থেকে আসতে দেখা যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমান ক্যাপ্টেন মাজহারুল হককে বলেন যে, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তারা ৪ নম্বর রুমের সামনে রাষ্ট্রপতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত দেখতে পান। তার দেহ বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল এবং তার মুখের অংশ বিকৃত হয়ে গেছিল গুলির প্রভাবে।

ক্যাপ্টেন মাজহারুল জানান, তারা রাষ্ট্রপতির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএফএম মইনুল আহসান এবং প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খানের মরদেহ দেখেন। আহসানের মরদেহ করিডোরে এবং হাফিজ খানের মরদেহ সার্কিট হাউসের প্রথম তলার উত্তর বারান্দার পূর্ব দিকে নিথর অবস্থায় পড়ে ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগ রয়েছে— অভিযানের সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ, মইনুল আহসান এবং ক্যাপ্টেন হাফিজ তাদের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। হামলাকারীদের একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। তবে, অন্য দুই কর্মকর্তা মরতে থাকলেও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ কীভাবে বেঁচে গেলেন, তা রহস্য রয়ে গেছে।

কমিশন তদন্ত করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজের ঘরের ভেতরের গুলির চিহ্ন পরীক্ষা করে। তিনি বলেছিলেন যে দরজার বাইরে থেকে ছোড়া গুলিতে সেগুলো হয়েছে। তবে কমিশন বলেছে, সেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল—এটা সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

প্রতিবেদনের একটি অংশে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ ও ক্যাপ্টেন মাজহার তাদের ঘর থেকে বের হননি যতক্ষণ না তাদের দরজায় টোকা দেওয়া হয় এবং হত্যাকারীরা চলে যাওয়ার অনেক পরে একজন অপারেটর তাদের ডেকে বের করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা নিজেদের কক্ষে টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন দীর্ঘ সময় ধরে; তাদের আচরণ রাষ্ট্রপতির প্রতি দায়িত্ববোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

ক্যাপ্টেন মাজহারের বিষয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, তার কক্ষের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কক্ষের একটি সংযোগ দরজা ছিল, কিন্তু গোলাগুলির সময় তিনি সেটি খোলার চেষ্টা করেননি। তাকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতির কক্ষে পৌঁছানো ছিল সহজ কাজ। হত্যাকারীরা যখন রাষ্ট্রপতির কক্ষের দরজায় আঘাত করছিল, তখন এডিসির কক্ষ দ্বারা রাষ্ট্রপতিকে রক্ষা করা সম্ভব ছিল। তবে এই দরজা সামনে থেকে বন্ধ থাকলে কী ঘটত, তা অজানা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজকে সন্দেহ করার আরও কিছু কারণও রয়েছে। তদন্তে জানা যায় যে, মাহফুজ এনডিসি নাসিরউদ্দিনকে তালিকা সরবরাহ করতে বলেন। তদন্ত কমিশন আরও তথ্য খুঁজে পেয়েছে; যেখানে দেখা গেছে, রাতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ রাষ্ট্রপতির কক্ষের প্রহরীদের সরিয়ে নিতে বলেছেন। ফলে রাষ্ট্রপতির কক্ষের সামনে কোনো প্রহরী ছিল না।

কমিশন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলেছে এবং হিসাব করা হয়েছে তিনি কার্যত রাষ্ট্রপতির মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। হত্যার পর বিদ্রোহী সেনাদের একটি দল জিয়াউর রহমানের মরদেহ গোপন স্থানে দাফন করে। জানা গেছে, মরদেহ ঘটনাস্থলে অরক্ষিত পড়ে ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাহফুজ ৩০ মে ভোরে সেনা সদর দপ্তরে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যাতে রাষ্ট্রপতির মরদেহ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার চাওয়া হয়। তিনি জানতেন যে কারও উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল না এবং স্থানীয় বিমান বাহিনীর কমান্ডারের মাধ্যমে একটি হেলিকপ্টার চাইতে তার অসুবিধা হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ মে সকালে মাহফুজ সার্কিট হাউস থেকে ডিভিশনাল কমিশনারের বাসভবনে রাষ্ট্রপতির ওয়্যারলেস নিয়ে যান। তদন্ত বলছে, তিনি সেনা সদরদপ্তরে কোনো নির্দেশনা চাওয়ার চেষ্টা করেননি। মেজর রওশন ইয়াজদানি বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন ছিলেন যা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

কমিশন জানায়, সার্কিট হাউসে আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে হত্যাকারীরা বিনা বাধায় তাদের উদ্দেশ্য সাধনে সক্ষম হয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো প্রতিরোধ হয়নি; এটি ছিল ‘ভিনি, ভিডি, ভিচি’— অর্থাৎ ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রিকেটার যশস্বীর সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, ম্রুনালের ভিডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


ক্রিকেটার যশস্বীর সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, ম্রুনালের ভিডিও ভাইরাল

দক্ষিণী সুপারস্টার ধানুশকে কেন্দ্র করে প্রেম ও বিয়ের গুঞ্জন এখনো থামেনি। এই পরিস্থিতিতে এবার নতুন একটি জল্পনা তৈরি হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী ম্রুনাল ঠাকুরকে নিয়ে। একজন ভারতীয় তরুণ ক্রিকেটার যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে।

সম্প্রতি, ভারতের মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ওয়েস্ট এলাকার একটি ক্যাফেতে একসঙ্গে ম্রুনাল ঠাকুর ও যশস্বী জয়সওয়ালকে দেখা গেছে। সেখান থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, যশস্বী জয়সওয়াল, যিনি ২৪ বছর বয়সী, ক্যাফে থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ম্রুনাল তখনো ক্যাফের ভেতরে ছিলেন।

তবে ভিডিওটিতে কোথাও তাদের একসঙ্গে দেখা যায়নি। এমনকি তাদের মধ্যে কোনো কথোপকথন বা ঘনিষ্ঠ মুহূর্তও ধরা পড়েনি। এরপরও বিভিন্ন ফ্যান পেজে দাবি করা হচ্ছে যে, তারা একসঙ্গে ডেটে গিয়েছিলেন।

এদিকে, এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ সামনে আসেনি। একইভাবে, ভাইরাল ভিডিও কিংবা সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে ম্রুনাল ঠাকুর বা যশস্বী জয়সওয়াল প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, কাজের প্রসঙ্গে বলতে গেলে, ম্রুনাল ঠাকুর বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার অভিনীত সিনেমা 'পূজা মেরি জান' এর শুটিং শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে ছবিটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলমান। সিনেমাটির টিজারও প্রকাশ করা হয়েছে, তবে মুক্তির তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। পাশাপাশি তিনি তেলুগু সিনেমা 'রাকার' নিয়েও ব্যস্ত রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যার পানিতে ফটিকছড়ির তিন নদীর ২৩ পয়েন্টে ভাঙন, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


বন্যার পানিতে ফটিকছড়ির তিন নদীর ২৩ পয়েন্টে ভাঙন, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হালদা, ধুরুং ও সর্তা নদীর ২৩টি স্থানে নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে কয়েক হাজার বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হালদা নদীর পাঠিয়ালছড়ি, ফরহাদাবাদ ও উত্তর সুন্দরপুর, ধুরুং নদীর খয়রাতিপাড়া, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ও মানিকপুর এবং সর্তা নদীর হচ্চারঘাট, নুরনগরপাড়া, গোয়াজ মোহাম্মদ বাড়ি সংলগ্ন এলাকা ও প্রাচীন সমাধিখোলায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রায় ১০ একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বন্যায় উপজেলার মোট ২ হাজার ৪২০ মিটার নদীতীর ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে হালদা নদীতে ১ হাজার ৯৫ মিটার, ধুরুং নদীতে ১ হাজার ২০৫ মিটার এবং সর্তা নদীতে ১২০ মিটার অংশ ভেঙেছে। এসব স্থায়ীভাবে সংস্কারে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।

পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহাগ তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%