০৯:৩৫ পি.এম
জীবন চলার পথে আমরা কতকিছু হারিয়ে ফেলি। আবার কিছু জিনিস ফিরে পাই। দামি স্বর্ণালংকার হারালে সেগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। টাকা পয়সা হারালে পরিশ্রমের মাধ্যমে আবার উপার্জন করা সম্ভব। অসুস্থতায় যদি স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে, তবে চিকিৎসার মাধ্যমে আবার স্বাস্থ্য ফিরে পাওয়া যায়। কিন্তু সময়! জীবন থেকে যে মূল্যবান মুহূর্ত চলে যায় তা আর কোনোভাবেই ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই। প্রত্যেকের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান এবং অথচ অবহেলিত সম্পদ হচ্ছে সময়।
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বিশেষ কোনো বিষয়ের গুরুত্ব বোঝাতে সেই জিনিসের কসম বা শপথ করেছেন। সুরা আল আসরের শুরুতেই সময়ের কসম করে মানুষকে সতর্ক করেছেন। মহামান্য আল্লাহ সময়ের গুরুত্ব বোঝাতে যে কথা বলেছেন তা হলো,
وَالْعَصْرِ ۙ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ (উচ্চারণ : ওয়াল ‘আছর। ইন্ন্যাল ইনছানা লাফী খুছর।)
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এটির অর্থ হলো: সময়ের কসম। মানুষ চরম ক্ষতিতে নিমজ্জিত। (সুরা আসর, আয়াত : ১-২)
এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারবে শুধুমাত্র তারা, যারা ঈমান এনেছে, সৎ কাজ করেছে এবং একে অপরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে। মহান আল্লাহ সমস্ত মানুষের সামনে জীবনে সফল হওয়ার পথ ও পদ্ধতি বলেছেন। অর্থাৎ, সময়কে কাজে লাগিয়ে এই চার কাজে একজন মানুষ সফলতা লাভ করতে সক্ষম হবে।
প্রিয়নবি আমাদের সময়ের গুরুত্ব বোঝাতে এবং অবহেলা, অলসতা দূর করতে যা বলেছেন তা হলো,
نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এটির অর্থ হলো: দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ধোঁকায় রয়েছে। তা হলো, সুস্থতা ও অবসর। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১২)
সুস্থ ও অবসর সময়ে আমরা প্রায়ই ভাবি, এখন না, কাজটি পরে করবো। কিন্তু দেখা যায়, পরে আর কাজটি করা হয় না। এই অলস মানসিকতাই জীবনে ব্যর্থতার জন্ম দেয়।
জীবন বস্তুতঃ কিছু দিনের, ঘণ্টার আর সেকেন্ডের সমাহার মাত্র। তাই সময়কে নষ্ট করা মানে জীবন ধ্বংসের সবিশেষ।
হাশরের ময়দানে প্রতিটি মানুষকে তার জীবনের হিসাব দিতে হবে। বিশেষ করে সময়ের হিসাব দিতে হবে। নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلَاهُ
অর্থ : কেয়ামতের দিন কোনো বান্দার কদম একচুলও নড়াতে পারবে না যতক্ষণ না তাকে তার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। তার জীবন কোন কাজে নিঃশেষিত হয়েছে এবং তার যৌবনকাল কোন কাজে ক্ষয় করেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)
আমরা প্রতিনিয়ত নানা রকমের সফলতার গল্প শুনি। যে ব্যক্তি নিজের প্রতিটি মুহূর্তকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণে কাজে ব্যবহার করে, সে প্রকৃত সফল।
সোশাল মিডিয়া বা অনর্থক কাজ বাদ দিয়ে জীবনের সোনালি সময়গুলো কাজে লাগাই। আমাদের দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী জীবন পরিচালিত হোক। সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করলে জীবনে সফলতা অর্জন করব।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
লেখক: শিক্ষক, মাদরাসাতুল কোরআন, দক্ষিণখান, ঢাকা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন