ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাতে মুসলিম জড়িত থাকলে এতক্ষণে এনকাউন্টার হতো


রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাতে মুসলিম জড়িত থাকলে এতক্ষণে এনকাউন্টার হতো

রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের বিষয়কে কেন্দ্র করে ভারতের অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তিনি সোমবার (২৯ জুন) বিজনোরে এক সমাবেশে সমালোচনা করে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যদি রাম মন্দির ট্রাস্ট থেকে অর্থ আত্মসাতে কোনো মুসলিম জড়িত থাকতেন, তাহলে এতক্ষণে তাকে এনকাউন্টার করে হত্যা করা হতো এবং তার বাড়িতে বুলডোজার চালানো হতো।’ খবরটি এনডিটিভি প্রকাশ করেছে।

মামলার ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ তুলে ওয়াইসি জানান, পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই বহুল আলোচিত মামলার অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা করেনি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ট্রাস্টে যদি একজন মুসলিমের উপস্থিতি থাকতো, তাহলে পরবর্তীতে তার এনকাউন্টার করে এবং বাড়িতে বুলডোজার চালিয়ে মামলার নিষ্পত্তি করা যেত। কিন্তু এখনকার অভিযুক্তরা আরামে রয়েছেন।’

রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়কে লক্ষ্য করে ওয়াইসি আরও জানান, ‘চম্পত আরামে আছেন।’ উল্লেখ্য যে, অনুদান আত্মসাতের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় নিজের দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন।

এনডিটিভির খবরে আলোকিত হয়েছে যে, কয়েক দিন আগে ওয়াইসি উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে গুলি চালানোর বা বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে, এই মামলার অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও কি একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং এতে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন সূচনা হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ সরকারের কঠোর সমালোচনা করছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার পরে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। পরে রাজ্য সরকারের বিশেষ তদন্ত দল তদন্ত করতে শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বাসভবনে তল্লাশি, হিসাববহির্ভূত নগদ অর্থ উদ্ধার এবং মন্দিরের কর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি মন্দিরের ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি তুলেছে। গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়, যেখানে আটজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। তারা সবাই রাম মন্দিরের অনুদান গণনার দায়িত্বে ছিলেন।

গত ২৬ জুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, জনগণের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করবে। তবে, এখন পর্যন্ত আত্মসাৎ হওয়া অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, মন্দিরের হিসাব থেকে প্রায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ কোটি রুপি নগদ অর্থের গরমিল রয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেনবাগে চিলাদী-ছাতারপাইয়া সড়ক সংস্কারের জন্য মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


সেনবাগে চিলাদী-ছাতারপাইয়া সড়ক সংস্কারের জন্য মানববন্ধন

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত চিলাদী-ছাতারপাইয়া সড়কটিকে দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেন স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সেনবাগের ছাতারপাইয়া বাজারে চিলাদী-ছাতারপাইয়া সড়কের মুখে এই মানববন্ধন কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে, যার কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বর্ষাকালে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত এবং কাদার সৃষ্টি হওয়ায় চলাচল করা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বক্তারা দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানালেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন আবদুল হক মডেল মাদরাসার শিক্ষক মাস্টার কামরুল হাছান, আলোর কাফেলার পরিচালক হাসিব ভূঁইয়া, সমাজসেবী মাসুদ, এ কে আজাদ এবং আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং জনদুর্ভোগ দূরীকরণের জন্য সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরাইলের সংঘর্ষে নাসিরনগরের যাত্রীদের ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


সরাইলের সংঘর্ষে নাসিরনগরের যাত্রীদের ভোগান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার টানা তৃতীয় দিনের সংঘর্ষের ফলে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়ক অচল হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং উত্তেজনার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ট্রাক, বাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা হয়ে যায় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রোববার সন্ধ্যায় কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডা ঘটে। এর ফলস্বরূপ রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল মিয়ার ছেলে হাদিম মিয়া (৫৫) নিহত হন।

সোমবার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় হাদিম মিয়ার দাফন করা হয়। দাফনের পরপরই ধর্মতীর্থ গ্রামের হাজার হাজার লোক কালীকচ্ছ বাজারে সূর্যকান্দি গ্রামের লোকজনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করে। সন্ধ্যা ৭টার সময় দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন হলে একপর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি অবস্থানে আসে। এক সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন, যার মধ্যে ওসিও রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক শতাধিক পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালীকচ্ছ এলাকায় আঞ্চলিক বিজিবি সদর দপ্তর এবং সরাইল বিজিবি ব্যাটালিয়নের আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করায় পরিস্থিতি থমথমে। কালীকচ্ছ বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ আছে, এবং অনেক দোকানের শাটার খোলা হলেও ভেতরে কোনো মালামাল পাওয়া যাচ্ছে না।

সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা নগরীতে নাগরিক অধিকার ফোরামের মাদকবিরোধী মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


কুমিল্লা নগরীতে নাগরিক অধিকার ফোরামের মাদকবিরোধী মানববন্ধন

‘মাদককে বর্জন করি, সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লাকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয়ে মানববন্ধন করেছে নাগরিক অধিকার ফোরাম, কুমিল্লা। 

সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় নগরীর কান্দিরপাড় টাউন হল গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে মাদকের গডফাদার, অর্থের জোগানদাতা ও রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

কুমিল্লা নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেছেন, মাদক আজ শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাজী মোস্তাক মিয়া বলেন, বিগত ১৭ বছরে রাজনীতির নামে বিরাজনীতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন এলাকায় গডফাদারভিত্তিক প্রভাব বিস্তার লাভ করার কারণে মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে। এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বজনীন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে শুধু মুখের জিরো টলারেন্স নয়, দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

এ সময় মানববন্ধনে নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সভাপতি ডা. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লার নায়েবে আমীর মোসলেহ উদ্দিন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি আলহাজ্ব শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান, নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম, কুমিল্লা ইবনে না, ব্রাহ্মণপাড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খলিল উদ্দিন আখন্দ, বাপা কুমিল্লার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম, কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর সাজ্জাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কুমিল্লার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত দাস টিটু, মানবাধিকার সংগঠক তরিকুল ইসলাম লিটন, মাদকবিরোধী জোট কুমিল্লার আহ্বায়ক মো. আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কুমিল্লার সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মমিন, এনসিপি কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি সিরাজুল হক প্রমুখ।

বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইথান গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, ইথান আজ শয্যাশায়ী। এমন ঘটনা পুরো কুমিল্লাবাসীর জন্য লজ্জার। মাদককে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস, অস্ত্রের ব্যবহার, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে মাদক এখন জাতীয় দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, এর নেপথ্যের মূল হোতাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অধিকাংশ সময় মাদক বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও প্রকৃত গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। সরকার পরিবর্তন হয়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, কিন্তু মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকদের খুব কমই বিচারের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে না। তারা মাদক চক্রের অর্থদাতা, আশ্রয়দাতা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, সমাজে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক সহিংসতা এমনকি অনেক হত্যাকাণ্ডের পেছনেও মাদকের ভয়াবহ প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব চোর ও ছিনতাইকারী আটক হয়েছে, তাদের অনেকেই মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে। তাই মাদক নির্মূল করা গেলে সমাজে অপরাধের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন। এ সময় সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ মাদক প্রবেশ বন্ধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, মাদকের উৎস বন্ধ না করলে কেবল মাঠপর্যায়ের অভিযান কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আন্তঃজেলা মাদক চক্র ভেঙে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরেও গুরুত্বারোপ করেন তারা। এ সময়, মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন লিটনের নেতৃত্বে কলেজটির প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এবং প্রভাষক শরীফের নেতৃত্বে রেসিডেন্সিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সংহতি প্রকাশ করেন ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম ভূইয়াসহ আরো অনেকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ হারালেন মা-ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ হারালেন মা-ছেলে

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় একটি প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর তার ফলে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) রাতের এই দুর্ঘটনাটি সয়াসপুর এলাকায় ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বড়দল গ্রামের শাহ ইদ্রীস আলীর স্ত্রী ফরিদা বেগম এবং তার ছেলে জুবের মিয়া।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন মা-ছেলে। ওই সময় গয়াসপুরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সাথে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এই সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় অটোরিকশার চালকসহ ৬ জনকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এই ৬ জনের মধ্যে ফরিদা বেগম এবং তার ছেলে জুবের মিয়া মৃত্যু বরণ করেন।

অন্যদের চিকিৎসা চলছে এবং আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ গাড়িটি জব্দ করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%