০৯:৫১ পি.এম
রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের বিষয়কে কেন্দ্র করে ভারতের অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তিনি সোমবার (২৯ জুন) বিজনোরে এক সমাবেশে সমালোচনা করে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যদি রাম মন্দির ট্রাস্ট থেকে অর্থ আত্মসাতে কোনো মুসলিম জড়িত থাকতেন, তাহলে এতক্ষণে তাকে এনকাউন্টার করে হত্যা করা হতো এবং তার বাড়িতে বুলডোজার চালানো হতো।’ খবরটি এনডিটিভি প্রকাশ করেছে।
মামলার ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ তুলে ওয়াইসি জানান, পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই বহুল আলোচিত মামলার অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা করেনি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ট্রাস্টে যদি একজন মুসলিমের উপস্থিতি থাকতো, তাহলে পরবর্তীতে তার এনকাউন্টার করে এবং বাড়িতে বুলডোজার চালিয়ে মামলার নিষ্পত্তি করা যেত। কিন্তু এখনকার অভিযুক্তরা আরামে রয়েছেন।’
রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়কে লক্ষ্য করে ওয়াইসি আরও জানান, ‘চম্পত আরামে আছেন।’ উল্লেখ্য যে, অনুদান আত্মসাতের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় নিজের দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন।
এনডিটিভির খবরে আলোকিত হয়েছে যে, কয়েক দিন আগে ওয়াইসি উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে গুলি চালানোর বা বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে, এই মামলার অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও কি একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং এতে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন সূচনা হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ সরকারের কঠোর সমালোচনা করছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার পরে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। পরে রাজ্য সরকারের বিশেষ তদন্ত দল তদন্ত করতে শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বাসভবনে তল্লাশি, হিসাববহির্ভূত নগদ অর্থ উদ্ধার এবং মন্দিরের কর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি মন্দিরের ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি তুলেছে। গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়, যেখানে আটজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। তারা সবাই রাম মন্দিরের অনুদান গণনার দায়িত্বে ছিলেন।
গত ২৬ জুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, জনগণের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করবে। তবে, এখন পর্যন্ত আত্মসাৎ হওয়া অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, মন্দিরের হিসাব থেকে প্রায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ কোটি রুপি নগদ অর্থের গরমিল রয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন