ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁদপুরে জেলেদের চাল পাচারের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আটক


চাঁদপুরে জেলেদের চাল পাচারের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আটক

মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে নিষেধাজ্ঞার সময় চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৫ টন চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারের সময় চালবোঝাই পিকআপসহ জব্দ করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। ঘটনার দিন রাতেই সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমকে সদর মডেল থানার পুলিশ আটক করেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, চালগুলো নির্ধারিত স্থানে বিতরণ না করে গোপনে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই চাল লাকসামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মিনি পিকআপযোগে স্থানান্তরের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তৎপর হয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে চালভর্তি গাড়িটি হাজীগঞ্জ থেকে ঘুরিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪৯৩০ কেজি (প্রায় ৫ টন) চালসহ মিনি পিকআপটি জব্দ করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাসেম জানিয়েছেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জব্দকৃত চালগুলো পরবর্তীতে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে (সিএসডি গোডাউন) পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। সেই আলোকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৭০ জেলের জন্য বরাদ্দ হয় ১১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। কিন্তু ওই চাল নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিতরণ হয়নি।

চাল বিতরণ না হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম অভিযানের বিষয়ে বলেন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পাই জেলেদের বরাদ্দ চার জেলার বাহিরে যাচ্ছে। ওই চাল খুঁজে এবং অভিযান করে আটক করি। সেই আলোকে অভিযান করে সর্বশেষ শহরের বিপনীবাগ থেকে পিকআপসহ চাল জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি জানান, তার কাছে মেসেজ এসেছে এই চাল লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত। এই কাজে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জড়িত। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন জমা দেবে।

সরকারি এই চাল কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে পাচারের উদ্দেশ্যে ভিন্ন স্থানে নেওয়া হলো, তা তদন্তের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সিনেমা হল আধুনিকায়নে পদক্ষেপ নেবে সরকার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


‘সিনেমা হল আধুনিকায়নে পদক্ষেপ নেবে সরকার’

দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়ন, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং দর্শক ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি সোমবার (১২ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিনেমা হল মালিকদের সমস্যাগুলো জানার জন্য একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। হল মালিকদের উত্থাপিত কিছু দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিছু বিষয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন কিংবা হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হয়ে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। কারণ, সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্র উপভোগ করার অভিজ্ঞতা এবং ঘরে বসে বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকার সত্ত্বেও সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্স সফলভাবে চলছে। তাই বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিনেমা হলের দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক থাকবে। তবে আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয় এবং জনগণের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা বিবেচনা করে নিতে হবে।

চলচ্চিত্র রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের কতটা দেশের জনগণ ও অর্থনীতির উপকারে আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শকসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সিনেমা হলে পর্যাপ্ত দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু হলে একক স্ক্রিনে বিপুল আসনসংখ্যার বিপরীতে দর্শকের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হল মালিক, প্রযোজক ও পরিচালকদের যৌথভাবে আলোচনা করে দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে প্রযোজক, হল মালিক ও দর্শক—সব পক্ষই উপকৃত হবে।

চলচ্চিত্রে দক্ষ শিল্পী তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও প্রতিভাবান শিল্পী উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এরইমধ্যে বিএফডিসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি হল মালিকদের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসতে পারে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে হল মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিনেমা হলের আধুনিকায়নে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত সিনেমা হলগুলোর ক্ষেত্রেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের তাদের দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব দাবি পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের সিনেমা হলগুলোর সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ নভেম্বর

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ভাঙচুরের ঘটনার পর পদত্যাগ করেন সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১২ অক্টোবর সোমবার এ উপনির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করে ইসি।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর, ওই আসনে পরবর্তী সংসদ সদস্য কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সাবেক সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেত্রী, অঙ্গসংগঠনের নেত্রী এবং জেলা পর্যায়ের সংগঠকদের অনেকেই মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় বিএনপির পরিচিত ও অভিজ্ঞ নেত্রীদের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অনেক নেত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আগে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চেয়েও পাননি, আবার কেউ সরাসরি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মিষ্টির পদত্যাগের ফলে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের মতে, বর্তমানে দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় সংসদ সদস্য হওয়ার আগ্রহীদের সংখ্যা বেড়েছে। পরিচিত নেত্রীদের বাইরেও অনেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং বিভিন্নভাবে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে, শূন্য আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীদের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর রাজনৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তবে, হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি।

মিষ্টির পদত্যাগের ফলে তার সংরক্ষিত নারী আসনটি এখন শূন্য অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে রাজনৈতিক দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসন পেয়ে থাকে। ফলে শূন্য হওয়া আসনটি বিএনপির ভাগে পড়েছে। দলটি ঠিক করবে, নতুন করে কে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুসারে, আগামী ১২ নভেম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটগ্রহণ হবে বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৩০ এপ্রিল তাদের নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশিত হয় এবং ৩ মে তারা শপথ নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন মিষ্টি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুখু মিয়ার পাশে নরসিংদী জেলা প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুখু মিয়ার পাশে নরসিংদী জেলা প্রশাসন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নরসিংদী জেলা প্রশাসন দাঁড়িয়েছে জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়ার পাশে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে, সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের নগর পাঁচদোনা গ্রামে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার, সহকারী কমিশনার ভূমি এবং জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুখু মিয়ার শিক্ষাদানের বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর নজরে বিষয়টি আসার পর বিস্তারিত জানার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ের নিবন্ধন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ সময় জেলা প্রশাসক কিন্ডারগার্টেনের খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, ওয়াটার পট, বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী এবং ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন।

২০০৭ সালে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়া বলেন, "বর্তমান সরকার প্রধান আমার বিদ্যালয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন সেটা জানতে পেরে আমি আনন্দিত। আমার স্বপ্ন হচ্ছে এই কিন্ডারগার্টেনটিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা। আশা করছি সরকার ও প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিভা দুখু মিয়া বিদ্যালয়টি সমৃদ্ধ হবে।"

দুখু মিয়া, যার দুই হাত নেই, থেমে নেই তার পাঠদান। তিনি পা দিয়েই ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে প্রতিদিন শিশুদের পাঠদান করে চলেছেন। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪৫ শিশু পড়াশোনা করছে।

১৯৬২ সালে জন্ম নেওয়া আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শৈশবেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন।

বাবা পাতিলের কালি ও পানি মিশিয়ে কঞ্চি ও কলাপাতায় লেখার মাধ্যমে তাকে শেখান পা দিয়ে লিখতে। এরপর সেই পা দিয়েই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাস করেন তিনি।

শিক্ষাজীবন শেষ করার পর শুরু হয় কর্মসংস্থানের লড়াই। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং চাকরির আশায় ঘুরেছেন। হতাশা তাকে থামাতে পারেনি, বাবার দেওয়া জমি বিক্রির টাকা যোগ করে ২০০৭ সালে নিজের পৈতৃক জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর মাসের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট শুরু, জেনে নিন নির্ধারিত দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর মাসের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট শুরু, জেনে নিন নির্ধারিত দিন

যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর মাসের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্টের জন্য লাখো উপকারভোগী অর্থ পেতে যাচ্ছেন। নির্ধারিত মাসিক সময়সূচি অনুসারে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) অর্থ পাবেন যেসব উপকারভোগীর জন্ম মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। এরপর, জন্মতারিখের ভিত্তিতে অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতেও পর্যায়ক্রমে সুবিধাভোগীদের অর্থ বিতরণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। অনেক উপকারভোগী এই অর্থ দিয়ে বাড়িভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলসহ দৈনন্দিন খরচ মেটান। তাই, ঠিক কোন তারিখে অর্থ পাওয়া যাবে, তা জানা উপকারভোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যারা ১৯৯৭ সালের ১ মে বা তার পরে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পেতে শুরু করেছেন, তাদের অর্থের বিতরণ তারিখ জন্মতারিখের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। মাসের কোন তারিখে জন্ম, তার ওপর ভিত্তি করে সাধারণত মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ বুধবারে অর্থ প্রদান করা হয়।

অক্টোবর মাসের বাকি অর্থ বিতরণের সময়সূচি হলো—

১৪ অক্টোবর (বুধবার): যাদের জন্ম মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে।

২১ অক্টোবর (বুধবার): যাদের জন্ম মাসের ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে।

২৮ অক্টোবর (বুধবার): যাদের জন্ম মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে।

অর্থাৎ, ১৪ অক্টোবর যারা অর্থ পাবেন না, তাদের জন্যও মাসের পরবর্তী বুধবারগুলোতে নির্ধারিত কিস্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে, এই সময়সূচি মূলত জন্মতারিখভিত্তিক নিয়মের আওতায় থাকা উপকারভোগীদের জন্য প্রযোজ্য। কিছু সুবিধাভোগীর জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে।

যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের অনেকের অর্থ সাধারণত প্রতি মাসের ৩ তারিখে প্রদান করা হয়। তবে, যদি ওই তারিখ সপ্তাহান্ত বা সরকারি ছুটির দিনে পড়ে, তাহলে আগের কার্যদিবসে অর্থ পাঠানো হতে পারে। একইভাবে, যারা সামাজিক নিরাপত্তার অর্থের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পান, তাদের জন্যও আলাদা সময়সূচি প্রযোজ্য হতে পারে।

এসএসআই মূলত সীমিত আয় ও সম্পদসম্পন্ন যোগ্য প্রবীণ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম কার্যদিবসে এই অর্থ বিতরণ করা হয়। অক্টোবর মাসের এসএসআই অর্থ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিতরণ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের বাকি সময়ের এসএসআই অর্থ বিতরণের সূচিতেও রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। নভেম্বর মাসের অর্থ দেওয়া হবে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর)। কারণ, রবিবার (১ নভেম্বর) হওয়ায় নির্ধারিত অর্থ আগের কার্যদিবসে পাঠানো হবে। ডিসেম্বর মাসের অর্থ দেওয়া হবে মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর)। আর ২০২৭ সালের জানুয়ারির অর্থ দেওয়া হবে বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর)। ১ জানুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় জানুয়ারির এসএসআই অর্থ আগের দিন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, এসএসআইয়ের অর্থ পাওয়ার তারিখ এবং সাধারণ সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার তারিখ এক নয়। যদি কেউ দুই ধরনের সুবিধা পান, তাহলে তার সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ সাধারণত মাসের ৩ তারিখে এবং এসএসআইয়ের অর্থ মাসের প্রথম দিনে দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে, ছুটি বা সপ্তাহান্তের কারণে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।

উপকারভোগীদের নিজেদের অর্থ পাওয়ার তারিখ নিশ্চিত করতে তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক নিরাপত্তা অ্যাকাউন্টে থাকা পেমেন্টের তথ্য দেখা উচিত। নির্ধারিত তারিখে অর্থ না এলে ব্যাংক বা পেমেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে, নিজের সুবিধার ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য সময়সূচি মিলিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, অক্টোবর মাসে সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ বিতরণ চলবে জন্মতারিখ ও সুবিধার ধরন অনুযায়ী। ১৪, ২১ ও ২৮ অক্টোবর সাধারণ মাসিক কিস্তির গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। অন্যদিকে, এসএসআই সুবিধাভোগীদের জন্য নভেম্বরের অর্থ ৩০ অক্টোবরেই পাঠানো হবে। তাই সুবিধাভোগীদের নিজেদের পেমেন্টের ধরন বুঝে নির্ধারিত তারিখ জেনে রাখা প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%