বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:০৭ পি.এম
রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নাম জড়ানোয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি, সেই নির্দেশ মেনে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে— এমন তথ্যও দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে। ঘটনার পর দলীয় পর্যায়ে মিষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অবশ্য ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। বুধবার রাতে মহানগর উত্তরের ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।
এছাড়া, ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও বিতর্ক ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার পাশাপাশি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করতে হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীতে দিনব্যাপী সফরে পৌঁছেছেন। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সোয়া একটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে এসে পৌঁছান। বর্তমানে তার গাড়িবহর পরশুরামের দিকে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। ফেনীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে অবস্থিত। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি রয়েছে। এ আসন থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি ছাদ ভিত্তিক (রফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করবেন।
ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এ ছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক সংগঠন এভরিটাউন ফর গান সেফটি ( everytown.org ) নতুন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সহিংসতার পরিকল্পনা এবং আত্মহত্যায় উৎসাহ পাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু হামলার ঘটনায় হামলাকারীরা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থার সাহায্য গ্রহণ করেছে। এসব ঘটনার তথ্য ও আদালতের নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ফ্লোরিডা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফিনিক্স ইকনারের মামলার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত গুলির ঘটনায় দুজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। এই ঘটনায় ইকনারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।
আদালতের নথির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার পূর্বে ইকনার এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকেন্দ্রে কখন সবচেয়ে বেশি মানুষ থাকে, কোন ধরনের গুলি বেশি ক্ষতি করতে পারে এবং আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।
ইকনারের শিকার হওয়া তিরু চাব্বার পরিবারের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থাটি তাকে কিছু ব্যবহারিক তথ্য প্রদান করেছিল। পরিবারের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব কথোপকথন ইকনারের বিভ্রান্ত ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাকে উৎসাহিত করেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, ওই কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা সহিংসতার নিন্দা করেছে এবং ইকনারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে এমন তথ্য প্রদান করেছে, যা অন্যান্য প্রকাশ্য উৎস থেকেও পাওয়া সম্ভব।
এভরিটাউনের প্রতিবেদনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত গুলির ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জেসি ভ্যান রুটসেলার আটজনকে হত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, আগের একটি হিসাব বন্ধ করে দেওয়ার পর নতুন হিসাব খুলে তিনি আবারও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কয়েকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্তত পাঁচটি মামলায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আত্মহত্যার চিন্তায় থাকা ব্যক্তিদের সেই চিন্তাকে আরও উসকে দিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আটটির মধ্যে প্রায় ছয়টি ব্যবস্থাই কিশোর সেজে সহিংস হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা চাওয়ার জন্য গবেষকদের সহায়তা করতে রাজি হয়েছিল। তবে সব ব্যবস্থা একইভাবে সাড়া দেয়নি। কিছু ব্যবস্থা সহিংস হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা করতে ধারাবাহিকভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এভরিটাউন বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, পরিবর্তন বা সংগ্রহের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান বন্ধ করা, কেউ নিজের বা অন্যের ক্ষতি করার ইঙ্গিত দিলে সংশ্লিষ্ট কথোপকথন মানব কর্মীদের দিয়ে পর্যালোচনা করা এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হলে প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাস্টিন ওয়াগনার বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা বর্তমানে মানুষের তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তার মতে, বিশেষ করে সংকটময় পরিস্থিতিতে এসব ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুনে প্রকাশিত পিউ গবেষণা কেন্দ্রের এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেন এবং প্রতি ১০ জন ব্যবহারকারীর একজন মানসিক সহায়তার জন্যও এসব ব্যবস্থার কাছে যান।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে দুই শিক্ষার্থী আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে মেডিকেল সেন্টারের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল (আইসিই) বিভাগের ছাত্র। তারা বুধবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে চিকিৎসার জন্য মেডিকেল সেন্টারে আসেন। পরে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে মেডিকেল সেন্টারের স্টাফ ও চিকিৎসকরা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় তাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা সেখানে অবস্থান করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মনোবিজ্ঞানী মুহাম্মদ আবু তারেক তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন।
শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌসুমি আক্তার জানান, সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দুই শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টারে আসেন। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে স্টাফ ও চিকিৎসকরা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় তাদের সদর হাসপাতালে বা বাসায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। কিন্তু বারবার বলার পরও তারা সেখানে অবস্থান করায় বিষয়টি প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও সাইকোলজিস্টকে জানানো হয়।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানান, এর আগে বেশ কয়েকবার তৃতীয় তলার কক্ষ ও বাথরুমে শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে বাথরুমে তালা দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিতে হয়েছে। মেডিকেল সেন্টার মূলত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য, তাই এখানে চিকিৎসাসেবা ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি হওয়া কাম্য নয়। চিকিৎসক ও স্টাফরা একটি সুস্থ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ চান। এদিকে কর্মস্থলের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী মুহাম্মদ আবু তারেক বলেন, মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থীদের এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা এখানকার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হওয়ায় সবারই এর পরিবেশ ও শালীনতা বজায় রাখা উচিত। মেডিকেল সেন্টারে এ ধরনের ঘটনা কমাতে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা বা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ছাড়া শিক্ষার্থীদের এখানে অবস্থান করা উচিত নয়। মেডিকেল সেন্টারকে আড্ডা, রিহার্সেল, ক্লাবের সভা কিংবা ব্যক্তিগত সময় কাটানোর স্থান হিসেবে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, মেডিকেল সেন্টার থেকে তারা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত গাজী নজরুল ইসলামকে যদি দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান পদত্যাগে বাধ্য করতেন, তাহলে মরিয়ম খাতুনের মাত্র ১৯ বছর বয়সে দুনিয়া ছাড়া লাগতো না, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
তিনি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই মন্তব্য করেন।
মূলত, মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ধ্বংসের ঘটনায় ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই প্রসঙ্গে বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুলের নাম উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটি আবারও প্রমাণিত হলো।"
এরপর তিনি লেখেন, ‘জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকেও যদি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য করতেন, তাহলে হয়তো ছোট্ট মেয়ে মরিয়মের দুনিয়া ছাড়া লাগতো না।’
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, "প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে যারা অপচেষ্টা করবে এবং যারা নিজের স্বার্থের জন্য দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হবে, তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে।"
তিনি বলেন, "দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করুন। তার উদ্যোগ ও ভালো কাজ কোনো ব্যক্তির অপরাধে মলিন হওয়ার সুযোগ নেই; তিনি সুযোগ দেবেন না, ইনশাআল্লাহ।"
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে।
এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। বুধবার রাতে মহানগর উত্তরের ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও বিতর্ক ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার পাশাপাশি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করতে হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ