শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৪ পি.এম
প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে ৩৭ বছর বয়সী এক চীনা যুবক দিনাজপুরের হাকিমপুরে এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পূর্বে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘মোহাম্মদ আলী’ রেখেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চীনের হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা পংফংয়ের সঙ্গে হাকিমপুর পৌরসভার মাঠপাড়া এলাকার রাইসা আক্তার তারার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। পরে গাজীপুর আদালতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘মোহাম্মদ আলী’ নাম ধারণ করেন। এরপর রাইসা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নবদম্পতি রাইসার বাড়িতে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
পংফং পেশায় গার্মেন্টস পণ্যের ক্রেতা। তার বাবার নাম ফাংলে জুন এবং মায়ের নাম শিয়ান চিং। অন্যদিকে রাইসা আক্তার হাকিমপুরের মাঠপাড়া এলাকার রিয়াজুল হকের কন্যা। তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত।
রাইসা আক্তার জানিয়েছেন, ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে পংফংয়ের এক চাচার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তিনি চীনে গিয়ে বিয়ে করার ইচ্ছার কথা ওই ব্যক্তিকে জানান। পরে ওই ব্যক্তি তার ভাতিজা পংফংয়ের সঙ্গে রাইসার পরিচয় করিয়ে দেন।
এরপর মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একসময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
রাইসা বলেন, "আমি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়। আমাকে বিয়ে করার জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসে। পরে গাজীপুর আদালতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। বর্তমানে তার নাম মোহাম্মদ আলী। এরপর সে আমাকে বিয়ে করেছে। এতে আমার পরিবার ও এলাকাবাসী সবাই খুশি।"
রাইসার নানা বাদল বলেন, "আমার নাতনি ঢাকায় থাকে। সেখানে তার সঙ্গে চীনা ওই যুবকের পরিচয় হয়। তারা একে অপরকে পছন্দ করেছে। পরে চীনা যুবক বাংলাদেশে এসে আমার নাতনিকে বিয়ে করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে তারা বাড়িতে এসেছে। এতে পরিবারের সবাই আনন্দিত।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্স নতুন অধ্যায় শুরু করেছে উয়েফা নেশন্স লিগে জয়ের মাধ্যমে। জিনেদিন জিদানের অধীনে, ফরাসি দলটি নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে। এই জয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে।
তবে, গোল করার পর উদযাপনটি সঠিকভাবে করতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এর ফলে চলতি ফিফা উইন্ডোতে ফ্রান্সের হয়ে আর খেলতে পারবেন না এমবাপে।
তুরস্কের বিপক্ষে গোল করার পরপরই এমবাপেকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কিছু সময় পর তিনি মাঠে ফিরে এলেও, অস্বস্তির কারণে আবারও মাটিতে পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত, ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় ৫৮তম মিনিটে কোচ জিনেদিন জিদান তাকে তুলে নেন।
ম্যাচ শেষে, এমবাপের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে মাদ্রিদে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জিদান। ফরাসি কোচ বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না। আমার মনে হয় তাকে (মাদ্রিদে) ফিরে যেতে হবে। আমরা কোনো ঝুঁকি নেব না। তার হাঁটুতে ফোলা ভাব রয়েছে। বিষয়টি আশাব্যঞ্জক নয়, তাই আমরা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না।"
এমবাপের হাঁটুর টেনডনে চোট লেগেছে বলে ফ্রান্সের এক কর্মকর্তা এপিকে জানিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাকে মাদ্রিদে ফেরত পাঠানো হবে। সেখানে মেডিকেল পরীক্ষার পর তার চোটের ধরন ও গুরুতরতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এমবাপের চোটের কারণে নেশন্স লিগে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ফ্রান্সকে তার ছাড়াই মাঠে নামতে হবে। আগামী সোমবার, বেলজিয়ামের মাঠে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলবে ফরাসিরা। এরপর ২ অক্টোবর ইতালির বিপক্ষে এবং তিন দিন পর ৫ অক্টোবর বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। শেষ দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ফ্রান্সের ঘরের মাঠ স্তাদে দ্য ফ্রান্সে।
এখন এমবাপের মেডিকেল রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দায় সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী একজন আবেদনকারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাইদুর রহমান, যিনি ‘সৈকত ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী এবং মৃত রহিম উদ্দীনের ছেলে, জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি নিজেও সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদনকারী।
অভিযোগের অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য ৩১ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আবেদনের শেষ সময় ছিল ১০ সেপ্টেম্বর। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। তবে অভিযোগকারী পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা করছেন। এ কারণে তিনি প্রক্রিয়াটির শুরু থেকেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩১ আগস্ট জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নে ৯৯ জন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে মান্দা উপজেলার ১৪ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
অভিযোগকারী সাইদুর রহমান বলেন, "যোগ্যতা ও বিধিমালা অনুসরণ করে যেন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়, সে দাবিতেই অভিযোগ করেছি।" তিনি আরও বলেন, "যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ ঘটে, তাহলে যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হবেন।" তিনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে বিতর্কের সৃষ্টি হবে না এবং সার কালোবাজারির সুযোগও কমবে বলে মনে করেন।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সুপারিশের সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন বলেন, "যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই তদন্ত করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্যদের মনোনীত করা উচিত।" তিনি বলেন, "কোনো অনিয়মের মাধ্যমে কেউ ডিলার হয়ে কৃষকের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করুক, আমরা তা চাই না।" তিনি অভিযোগকারীর কাছে প্রমাণ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শায়লা বলেন, "নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা পছন্দের কাউকে সুযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই।" তিনি জানান, "আমাদের মাত্র তিন দিন সময় ছিল।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে পরিদর্শনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, "যে প্রতিবেদন বা রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী পরবর্তীতে কার্যক্রম পাঠানো হয়েছে।"
অর্থনৈতিক লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।" তিনি চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত আছেন।
ডিসি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, "এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো চিঠিপত্র বা অভিযোগ তাদের দপ্তরে পৌঁছায়নি।"
এদিকে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, "নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা এখনও প্রমাণিত নয়।" তিনি বলেন, "নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।"
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে বলেন, "অনিয়ম নিয়ে আপনারা এত ইন্টারেস্ট দেখান কেন?" এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে আর ফোন না করার অনুরোধ জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আতিয়া খাতুন বলেন, "জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যার বরাবর একটি আবেদন বা অভিযোগ করা হয়েছিল।" তিনি বলেন, "বিষয়টি ডিসি স্যার আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন তদন্ত করার জন্য।" তিনি জানান, "আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে ও তদন্ত করে দেখছি।"
তিনি আরও বলেন, "এখন পর্যন্ত কোনো নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, "নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে কুমিল্লা থেকে আসা ট্রলার ডুবির ঘটনায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর একই পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বাবা হেলাল উদ্দিন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটায় বৈদ্যার বাজার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলার শ্রীমন্দী গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ে মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে গরু, ছাগলসহ ১৩ জন যাত্রী নিয়ে তারা বৈদ্যার বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে নদীর মাঝখানে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
এ সময় ৮ জন সাঁতরে পাড়ে উঠে যায়। পরে রাশিদাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের হেলাল, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া এবং শিশু ছেলে সামিন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আরও একজনের মরদেহ উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় নতুন করে ডেমোনেস্ট্রেশন বা ডেমো ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নিয়োগের যোগ্যতায় কিছু আংশিক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। তবে, চলমান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার অন্যান্য বিষয়গুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত এক সিন্ডিকেট সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডেমোনেস্ট্রেশন যুক্ত করা এবারের নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। প্রার্থীদের পাঠদানের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ডেমো ক্লাসের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে। শিক্ষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ এবং বিভাগের মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথম থেকে সপ্তম স্থানের মধ্যে থাকার শর্ত বহাল রয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যদি কোনো প্রার্থী স্নাতক (অনার্স) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে, তাহলে তিনি স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকলেও শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে, যদি স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকেন, তবে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম হলে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। তবে উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ বাধ্যতামূলক। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র অনার্স/মাস্টার্স পরীক্ষায় যারা প্রথম স্থান অর্জন করবেন, তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া, বিদেশ থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা প্রার্থীদের জন্য সহযোগী ও অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাক্রমের শর্ত প্রযোজ্য হবে না। সিন্ডিকেট সদস্য জানান, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে যোগ্য প্রার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় যদি সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা পরিকল্পনা কমিটি সুপারিশ করতে পারবে। পরে সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাবে এবং যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ থাকবে।
নতুন নীতিমালায় প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রেও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসির সমষ্টিগত জিপিএ ন্যূনতম ৯ এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৮ দশমিক ৫ হতে হবে। একই সঙ্গে যে-কোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ থাকতে হবে। শিক্ষক পদে আবেদনকারী থিসিস গ্রুপের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ওই নীতিমালায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ এবং বিভাগের মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথম থেকে সপ্তম স্থানের মধ্যে থাকা প্রার্থীদের শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানের দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ‘শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৭’-এ বিভিন্ন অনুষদের ক্ষেত্রে প্রথম থেকে সপ্তম স্থান পর্যন্ত থাকার শর্ত শিথিল করে আবেদনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়। কিছু অনুষদে আবেদনের ন্যূনতম সিজিপিএ কমিয়ে ৩ করা হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদ্যমান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় ডেমোনেস্ট্রেশন, থিসিস গ্রুপ ও পিএইচডি ধারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হলো শিক্ষক নিয়োগ। প্রশাসন ও উপাচার্যের নৈতিক অবস্থান শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তাই শুরু থেকেই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং গত ১৭ বছরের শিক্ষক নিয়োগের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়োগ নীতিমালায় প্রার্থীর অ্যাকাডেমিক ফলাফল, প্রকাশনা, ডিগ্রি ও ডেমনস্ট্রেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডেমোনেস্ট্রেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, কারণ ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতাও একজন শিক্ষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন নীতিমালার সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করে দুর্বলতাগুলো কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাই, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রশাসন কোনো ধরনের আপস করবে না। কোনো প্ররোচনা বা সুপারিশ কাজে আসবে না; প্রার্থীর নিজের যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে তিনি শিক্ষক হওয়ার যোগ্য কিনা। সম্প্রতি আইবিএর নিয়োগেও আমরা ডেমোনেস্ট্রেশন নিয়েছি এবং অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ