১০:১৯ পি.এম
কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বারেক মোল্লার দখলে থাকা জমি নিজের দাবি করে আঃ আজিজ মুসুল্লী, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি, উদ্ধার করার জন্য প্রেস কনফারেন্স করেছেন। সংবাদ সম্মেলনটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় আঃ আজিজ মুসুল্লী অভিযোগ করেন যে, ওই জমির দাবিদার পৌর বিএনপির সহসভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূইয়া, পৌর যুবদলের সহসভাপতি মোঃ নুর আলম শেখ এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেলও উপস্থিত ছিলেন।
আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন, ‘আমাদের ভোগদখলীয় জমি, বিএনপির কার্যালয়, আওয়ামী সরকারের সময় দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া নিয়ে আসছেন আঃ বারেক মোল্লা। গত ১৭ বছর আমাদের ভোগদখল করতে দেয়নি। জোরজবরদস্তি করে ভোগ করে আসছেন। হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্টের পর কিংবা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের রেকর্ডীয় জমি উদ্ধার সম্ভব হতো। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আইনি ও সামাজিকভাবে সুরাহার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোন সুরাহা পায়নি। তাই গণমাধ্যমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতার দখলে থাকা জমি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা ১৭টি বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছি। মামলার শিকার হয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এসএ জেএল নং-৩৪, লতাচাপলী মৌজার এসএ ১২২৭ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এসএ ৫১৭৮, ৫১৮০ ও ৫১৮৪ নং দাগে মোট ১৭ একর ৫০ শতক জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন আরজ আলী শেখ। ১৯৬৫ সালে উক্ত আরজ আলী শেখের নিকট থেকে ১৮০৭ নং সাব-কবলা দলিলমূলে ১.৩৩ একর জমি ক্রয় করেন আঃ আলী শেখ। তিনি উক্ত জমির মালিক হিসেবে ভোগদখলে থাকেন। বিএস ৫৮৫ নং দলিলমূলে ২১ শতক জমি ক্রয় করেন আঃ আজিজ মুসুল্লী, আলী আহম্মেদ শেখ, আঃ মন্নান (ময়নুদ্দিন) ও নুর আলম শেখ গং যৌথভাবে। ২০০৯ সালের ১২ মার্চ ১২৯০ নং দলিল মূলে ৭৫ শতাংশ জমি নুর আলম শেখ মালিক হন। আমরা কুথাকাটা মহাসড়কের পাশ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত জমি ভোগদখল করি এবং সেখানে কয়েকটি দোকান ঘর নির্মাণ করি। পাশাপাশি বিএনপির অফিস স্থাপন করি। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা নেতৃত্বে আমাদের বিএনপির কার্যালয় দখল করে সেখানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় পরিচালনা করা হয়। আমাদের ভোগদখলীয় জমিতে অনুমতি ও আইনগত অধিকার ছাড়াই মাটি ভরাট করে জমির সামনের অংশে মার্কেট নির্মাণ করে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভুইয়া নির্দিষ্ট করেন যে, তিনি ২০০৫ সালের ২২ জুন ৩৬০৫নং সাব-কবলা দলিলমূলে ০.৩৬০০ একর এবং ২০০৫ সালের ৩০ জুন ৩৯১৭নং সাব-কবলা দলিলমূলে ০.৩৮৫০ একর জমি ক্রয় করে মার্কেট নির্মাণ করেন এবং সেখানে দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন। ২০০৯ সালে আব্দুল বারেক মোল্লা ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী আলমগীর উক্ত জমি ও মার্কেট দখল করে তাদেরকে উচ্ছেদ করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোন ধরনের সংঘাত কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার পক্ষে নই। আমরা আইন, ন্যায়বিচার এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে চলতে চাই। আমাদের একমাত্র দাবি সঠিকভাবে দলিল, রেকর্ড ও প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক।
কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ বারেক মোল্লা জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কোন মার্কেট নেই। আমি কারোর জমি দখল করিনি। যে জমি বা মার্কেটের কথা বলা হয়েছে, ওই জমি বা মার্কেটের মালিক তার ভাইয়ের বেল্লাল মোল্লা। ১৯৯৯ সালে সেকান্দর আলী শেখ এর কাছ থেকে সাবেক পৌর কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী ক্রয় করেন। তার কাছ থেকে বেল্লাল মোল্লা ক্রয় করে মার্কেট নির্মাণ করেছে। এই জমি নিয়ে আদালতের ৫টি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মামলা এখনও চলমান রয়েছে। বাবা না থাকায় ভাতিজার পাশে থেকে সহযোগিতা করছেন মাত্র। তিনি দাবি করেন, কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধের বাধের বাইরে বিএনপির কখনো কোন অফিস ছিল না। রাজনৈতিক হয়রানি এবং মার্কেট দখলে নিতে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন