১০:২৪ পি.এম
সামান্য বৃষ্টিতে লক্ষ্ণীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ফেরিঘাটে পড়ছেন যাত্রী এবং পরিবহন চালকরা। ফেরিঘাটসংলগ্ন বালুমহল থেকে সড়কে ছড়িয়ে পড়া বালু বৃষ্টির পানির কারণে কাদায় পরিণত হওয়ায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটের ওপর প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কার, বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং ফেরিঘাট এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থাপনা যদি নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে দক্ষিণাঞ্চলের এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দুর্ভোগ বেড়ে যাবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মজুচৌধুরীর হাট ফেরিঘাটের প্রবেশমুখে বালু ও কাদার কারণে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফেরিতে উঠার সময় অনেক যাত্রী পা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় বাসিন্দা এবং চালকরা নিজেদের উদ্যোগে নিচু স্থানে মাটি ফেলে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করছেন।
চট্টগ্রাম থেকে ভোলাগামী যাত্রী তাছলিমা আক্তার জানিয়েছেন, ফেরিতে উঠতে গিয়ে কাদায় পা পিছলে পড়ে পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা মালামালও কাদায় নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এমন অবস্থা হয়, তখন সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ নেই।’ স্থানীয় চা দোকানদার স্বপন এবং তারেক জানান, বৃষ্টির সময় পুরো ফেরিঘাট এলাকা কাদায় একাকার হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, যাত্রীদের চলাচল যেমন কষ্টকর হয়ে পড়ে, তেমনি ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করা ট্রাকচালক মিরাজ মিয়া এবং সবুজ জানান, বালুবাহী গাড়ি থেকে সড়কে বালু পড়ে থাকায় বৃষ্টি হলেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ে যেতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় বালু ব্যবসার কারণে এই সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা সরকারি অনুমতি নিয়েই বালু ব্যবসা পরিচালনা করছি। নিয়ম মেনেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।” তিনি বলেন, ‘আমিও আমার মতো আরও বালু ব্যবসায়ী আছি।’
লক্ষ্ণীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান জানিয়েছেন, সড়কের পাশে এভাবে বালু সংরক্ষণ ও ব্যবসা পরিচালনার ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এই বিষয়টি তাদের নজরে থাকলেও জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় তারা সরাসরি কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন