ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রত্যাবাসনে তিন লাখ রোহিঙ্গা, প্রশ্ন বহুবিধ


প্রত্যাবাসনে তিন লাখ রোহিঙ্গা, প্রশ্ন বহুবিধ

বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সম্মতির ঘোষণা এসেছে। তবে, এই নিয়ে আশ্রিত রোহিঙ্গারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, শুধু তিন লাখ নয়, বাংলাদেশে আশ্রিত ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা, সময়সূচি ও পুনর্বাসনের স্থান স্পষ্ট করতে হবে মিয়ানমারকে। অন্যদিকে, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন জানিয়েছে, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মিয়ানমারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই, বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। বুধবার (২৯ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়, এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি যোগ করেছেন, মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘মানুষ বলে ওদের ফেরত পাঠাও, ফেরত পাঠাও। কিন্তু পাঠাব কোথায়? মিয়ানমার তো ওদের নিতে চায়নি। এ কারণেই মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখাটা জরুরি। এখন তারা প্রথমে ৫ হাজার জনকে নিতে সম্মত হয়েছে।’

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এছাড়া, আনোয়ার ইব্রাহিম আরও জানিয়েছেন, মিয়ানমার বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তবে, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।

সম্প্রতি, পেনাং রাজ্যের একটি আবাসন ছেড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) অফিসের সামনে জড়ো হওয়ার কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে, রোহিঙ্গাদের ওই দলটিকে কুয়ালালামপুর, সেলানগোর ও পেনাংয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ।

আনোয়ার ইব্রাহিম জোর দিয়ে বলেন, এই আঞ্চলিক শরণার্থী সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে মালয়েশিয়া।

এদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঘোষণা আসার পর, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩ ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের দাবি, বাংলাদেশে এখনও ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। তাই, শুধুমাত্র আংশিক নয়, সকল রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট সময়সূচি, নিরাপত্তা, পুনর্বাসনের স্থান এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার আবারও সময়ক্ষেপণের কৌশল নিতে পারে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে তিন লাখ নয়, বর্তমানে ১৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তাই, মিয়ানমারকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, বাকি রোহিঙ্গাদের কবে এবং কীভাবে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার যাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে, তারা আদৌ রোহিঙ্গা নাকি অন্য কোনো গোষ্ঠীর মানুষ- সেটিও পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি, আরাকানের প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চল এখন মিয়ানমার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। অথচ আরাকানই রোহিঙ্গাদের আদি নিবাস। তাই, তাদের কোথায় পুনর্বাসন করা হবে, সেটিও মিয়ানমারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোন মাসে, কোন তারিখে এবং কী প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হবে, সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দিতে হবে। মনে হয়, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলার চাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে মিয়ানমার নতুন করে নানা ধরনের তালবাহানা শুরু করেছে।’

রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলে জানিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন। কমিশনের ভাষ্য, প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সংকটের অন্য কোনো টেকসই সমাধান নেই। এ লক্ষ্যে, যে দেশ বা সংস্থাই উদ্যোগ নিক, বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। প্রত্যাবাসন ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের অন্য কোনো সমাধান আমরা দেখি না। সে লক্ষ্যে যে দেশ বা সংস্থাই উদ্যোগ নিক, বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। প্রত্যাবাসনের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার (ডাটাবেস) আমরা আগেই মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছি। যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) শেষে তারা যে তথ্য দিচ্ছে, সেগুলোর হালনাগাদ প্রয়োজন হতে পারে, তবে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।’

তিনি জানান, ‘২০১৮ সালে আমরা দুটি ট্রানজিট সেন্টার নির্মাণ করেছি। পরবর্তী সময়ে, সরকার আরও অর্থ ব্যয় করে আরও দুটি ট্রানজিট সেন্টার তৈরি করেছে। টেকনাফের যে ঘাটটি সংস্কারের প্রয়োজন ছিল, সেটিও এখন প্রস্তুত। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত (গ্রিন সিগন্যাল) পেলেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুত।’

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা কীভাবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেই কাজ করে। মিয়ানমার সরকার সম্মতি দিলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে নতুন কোনো তথ্য নেই। তবে এর আগে তৎকালীন রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার সরকার প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মতি দিয়েছে। সেই তথ্য আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

এছাড়া, এর আগে দুই লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মতি দিয়েছিল মিয়ানমার। কিন্তু নতুন এই ঘোষণার বাস্তবায়ন কবে এবং কীভাবে হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থানায় নেওয়ার পথে অবচেতন হয়ে পড়েন শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষক,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


থানায় নেওয়ার পথে অবচেতন হয়ে পড়েন শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষক,

১১ বছরের এক মক্তবপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মিজানুর রহমান থানায় নেওয়ার পথে অবচেতন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে, সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী গ্রামে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যে জানা যায়, তাদের মেয়ে প্রতিদিনের মতো মিজানুর রহমান হুজুরের কাছে মক্তবে পড়তে যায়। ঐ সময়ে তাঁকে মক্তবের ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে অন্য শিশুদের চলে যেতে বলা হয় এবং পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর শিশুটি যখন বাড়িতে এসে তার মাকে গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানালে গুরুতর বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর, তারা স্থানীয় কড়ৈতলী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমান, মেম্বার জিতু এবং চেয়ারম্যান রাজনের কাছে বিষয়টির বিচার চাইলে, এসবের পরিবর্তে শিশুর পরিবারকে থানায় জানাতে বলা হয় এবং বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাতেই অভিযুক্তের শ্যালক, সাবেক ইউপি সদস্য আলী হায়দার উজ্জ্বলের ঘরে সালিশি বৈঠক শেষে শিশুর দরিদ্র বাবাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে হুমকি-ধমকি প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার বুধবার রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ করে। এরপর, রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু থানায় নিয়ে আসার পথে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি মৃত অবস্থায় এসেছেন।

অভিযুক্তের শ্যালক সাবেক ইউপি সদস্য আলী হায়দার উজ্জ্বলকে একাধিকবার ফোন করে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে, ইউপি সদস্য সেলিম জিতু বলেন, যখন শিশুর বাবা-মা আমাদেরকে বিষয়টি জানায়, তখন আমরা জানি এটি শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে পড়ে, Chairperson এবং আমি বলেছি তাদের থানাতে যাওয়ার জন্য। তবে পরে আর আমাদের জানানো হয়নি কি হয়েছে।

মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁের মৃত্যু ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হার্টঅ্যাটাকজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা করার অভিযোগ তুলে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, সরকার অভিবাসনে প্রতারণা ঠেকাতে তৎপর। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে যে প্রকারে এজেন্সিগুলো গলাকাটা ফি নিচ্ছে, সেটি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন।

প্রতারিত অভিবাসী কর্মীদের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে 'অনলাইন কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউল' উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিএমইটি ও বেসরকারি সংস্থা রামরুর উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ সচিব আখতার আহমেদসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, দেশে ৩ হাজার লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। এগুলোর যাচাই বাছাই করে নিয়মের আওতায় আনা হলে, ৫০০ এর বেশী এজেন্সি কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাবে না। এর ফলে এজেন্সিগুলোকে নিয়ম-কানুন মেনে কর্মী পাঠানোর জন্য আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, চাহিদাপত্র নিষ্পত্তির জন্য দূতাবাসগুলোকেও একটি সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে। যারা বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তাদের অভিযোগ পেলে সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্মী পাঠানোর সুযোগ যাতে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি শ্রমবাজার আবার চালু হচ্ছে মালয়েশিয়ায়, আগস্টের শেষ সপ্তাহেই কর্মী পাঠানোর আশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


বাংলাদেশি শ্রমবাজার আবার চালু হচ্ছে মালয়েশিয়ায়, আগস্টের শেষ সপ্তাহেই কর্মী পাঠানোর আশা

দীর্ঘ জটিলতা ও স্থগিতাদেশ কাটিয়ে অবশেষে মালয়েশিয়ায় ফের শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি জনশক্তি রফতনি। গত দুই দিন ধরে মালয়েশিয়া সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী পাঠানো শুরু করা সম্ভব হবে, বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়টি জানিয়ে প্রতিনিধি দল জানায়, কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার, মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা এবং পেট্রোনাস থেকে গ্যাস আমদানির মতো বহুমাত্রিক বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটি দ্রুত উন্মুক্ত করতে দুই দেশই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সফরকালে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী আর রমাণন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়।

এর ফলে, সব খাত এবং উপক্যাটাগরিতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের পথ ফের উন্মুক্ত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে, শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান 'বোয়েসেল'র মাধ্যমে প্রথম ব্যাচের কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে একটি প্রভাবমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও সাশ্রয়ী প্রক্রিয়ায় জনশক্তি রফতানি নিশ্চিত করা।

অতীতের নানা অনিয়ম ও বিতর্কিত সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে সম্মেলনে স্পষ্ট এবং কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়। জানানো হয়, বিগত সরকারের আমলে অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত ও দুর্নীতিগ্রস্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। ফলে নতুন প্রক্রিয়ায় কোনো ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড কিংবা অনৈতিক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত এজেন্সির ঠাঁই হবে না। মালয়েশিয়া সরকারও নিজস্ব যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কেবল পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ এজেন্সিগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করবে।

একইসঙ্গে, শ্রমবাজার পুনরুত্থানের সুযোগে দেশে কোনো প্রতারক বা দালাল চক্র যেন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিঃস্ব করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিধি দল জানায়, কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনকে সম্পূর্ণ 'শ্রমবান্ধব' হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা স্মরণ করিয়ে দেয়, নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে বিএনপি সবসময় প্রবাসীদের কল্যাণ, সম্মান ও অধিকার রক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে থাকে। মূলত, দেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা, প্রবাসীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক বাংলাদেশিকে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


মালয়েশিয়ায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক বাংলাদেশিকে আটক

মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) ১২৯ জন অভিবাসীকে আটক করেছে। আটককৃত অভিবাসীদের মধ্যে ১০০ জন বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর প্রকাশ করেছে দ্য স্টার।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টায় কেদাহ রাজ্যের কুলিম জেলায় একটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণস্থলে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। 'অপস সাপু' নামের এই অভিযানে কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের ২০ সদস্যের একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট দল কাজ করে। অভিযানটি গোয়েন্দা তথ্য এবং জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন জানান, অভিযানে মোট ১৫৯ জনের পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৩০ জন মালয়েশিয়ান নাগরিক এবং ১২৯ জন বিদেশি ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১২৯ অভিবাসীকেই আটক করা হয়।

আটক অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা ওয়ার্ক পাস না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান (ওভারস্টে), এবং পাসের শর্ত লঙ্ঘনসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারার ভঙ্গ।

আটকদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং চারজন নারী রয়েছেন। জাতীয়তা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ১০০ জন বাংলাদেশি, ১১ জন পাকিস্তানি, ১০ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক।

অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু অবৈধ অভিবাসী পালানোর চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকজন নির্মাণাধীন ভবনের উঁচু অংশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকানোর চেষ্টা করেন। তবে অভিযানকারী সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সবার আটক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মোহদ রিদজুয়ান মোহদ জাইন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। পরবর্তী তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একইসাথে নিয়োগকর্তাদের বৈধ কাগজপত্র এবং কর্মঅনুমতিবিহীন বিদেশি কর্মী নিয়োগ বা আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%