ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বগুড়ায় অভিযানে আওয়ামী লীগের ৭ নেতাকর্মী আটক


বগুড়ায় অভিযানে আওয়ামী লীগের ৭ নেতাকর্মী আটক

বগুড়ার শেরপুর এবং ধুনট উপজেলায় নাশকতা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের ৭ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা রয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীরা হলেন শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. মোমিনুর রহমান (৫০), সীমাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আব্দুল হাকিম (৫০), ধুনট উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা লাবলু খন্দকার এবং নজরুল ইসলাম মিঠু।

অপরদিকে ধুনটে বিএনপি ও যুবদল নেতার দায়ের করা পৃথক দুটি নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৩ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এর আগে বুধবার রাতে তারা নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ও গোসাইবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আরিফুর রহমান দুলাল (৫২), ধুনট পৌর এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে ও পৌর যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুমন (৩৬) এবং বিশ্বহরিগাছা গ্রামের তাহের তালুকদারের ছেলে ও চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল তালুকদার (৪২)।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধুনট শহরের কলাপট্টি এলাকায় বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ফলে দুটি জিপ, দুটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং ১০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহীন ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ধুনট শহরের শহীদ মিনার চত্বরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মশাল মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর ১৯ ফেব্রুয়ারি ধুনট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন সেখ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯৬ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার আসামিদের ধুনট থানা হাজত থেকে বগুড়ার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালোমাথা কাস্তেচরা পাখি ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


কালোমাথা কাস্তেচরা পাখি ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়

প্রকৃতির বিশাল ভুবনে সমাজবদ্ধ জীবনযাপন ও একাকী পথচলা দুটিরই অস্তিত্ব রয়েছে। কেউ কেউ একাকী পথচলা পছন্দ করে, আবার কেউ খাদ্যের নিরাপত্তা ও স্বস্তির জন্য দলবদ্ধ জীবনযাপনে খোঁজে সন্তুষ্টি। প্রাণিজগতের মধ্যে এমন বৈচিত্র্যও দেখা যায়। এই একই দলবদ্ধ জীবনযাপনের আলাদা উদাহরণ রূপে রয়েছে কালোমাথা কাস্তেচরা পাখি।

বাংলাদেশের জলাভূমিতে এদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, তারা একসঙ্গে বিচরণ করতে বিশেষভাবে পছন্দ করে। প্রয়োজনবোধে তারা অন্য প্রজাতির পাখির সঙ্গেও মিশে যায়।

সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জে একসঙ্গে দলবদ্ধ কালোমাথা কাস্তেচরার উপস্থিতি দেখা গেছে। এই বিরল মুহূর্তের ছবি বন্দী করেছেন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী, কবি ও লেখক রানা মাসুদ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর একসাথে একাধিক পাখির ছবি তুলতে পেরে তিনি তার আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

কালোমাথা কাস্তেচরার বৈজ্ঞানিক নাম হলো থ্রেস্কিওর্নিস মেলানোসেফালাস। এটি কাস্তেচরা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি বড় আকারের জলচর পাখি। এর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ‘কৃষ্ণমস্তক পবিত্রপক্ষী’। এজন্য অনেকেই একে ‘ধার্মিক পাখি’ বলে উল্লেখ করে থাকেন।

বিশ্বজুড়ে কালোমাথা কাস্তেচরার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এই প্রজাতিকে প্রায় বিপদগ্রস্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনেও এটি সংরক্ষিত। পাখিবিদদের ধারণা, বর্তমান পৃথিবীতে মাত্র ১০ থেকে ২০ হাজার কালোমাথা কাস্তেচরা টিকে আছে।

এরা মিঠাপানি ও লোনাপানি- উভয় পরিবেশে স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারে। সাধারণত কাদা ও অগভীর পানিতে তাদের লম্বা বাঁকানো ঠোঁট ডুবিয়ে খাবার খুঁজতে দেখা যায়। মাঠে গরু, ছাগল কিংবা অন্যান্য প্রাণির চলাচলে বের হয়ে আসা পোকামাকড়ও তাদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে।

দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই পাখির দেহের প্রধান অংশ সাদা হলেও, তাদের মাথা, গলা ও ঘাড় সম্পূর্ণ কালো এবং পালকহীন। তাদের লম্বা কালো ঠোঁটটি নিচের দিকে কাস্তের মতো বাঁকানো, যা তাদের নামকরণের উৎস। পূর্ণবয়স্ক পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তাদের চোখ লালচে, পা কুচকুচে কালো এবং বুকে হালকা হলুদ আভা দেখা যায়।

পুরুষ ও স্ত্রী পাখির মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য খুবই নগণ্য। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও ঘাড়ের নিচের অংশে কোমল কালো পালক থাকে। প্রজনন মৌসুমে তাদের মাথায় নীলাভ আভা এবং ডানার নিচে লালচে পট্টি দেখা যায়, যা তাদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈচিত্র্য। তারা প্রধানত মাছ, ব্যাঙ, শামুক, কেঁচো, পোকামাকড় এবং নরম জলজ উদ্ভিদ খায়। উড়ার সময় তারা বকের মতো গলা ভাঁজ করে না। শীতকালে সাধারণত তারা নীরব থাকে, কিন্তু গ্রীষ্মে বাসার কাছাকাছি শূকরের মতো কর্কশ স্বরে ডাকতে শোনা যায়।

খাবারের সন্ধানে তারা প্রায়ই স্থান পরিবর্তন করে। তাই অনেক পাখিবিদ কালোমাথা কাস্তেচরাকে যাযাবর স্বভাবের পাখি মনে করেন। সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে তাদের প্রজনন মৌসুম দেখা যায়। ছোট মাচার মতো বাসায় স্ত্রী পাখি দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। ২৩ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে ছানা বের হয় এবং প্রায় ৪০ দিন বয়স না হওয়া পর্যন্ত তারা উড়তে পারে না।

কালোমাথা কাস্তেচরা পাখির আলোকচিত্রী রানা মাসুদ বলেন, “খাদ্য ও আবাসস্থল সংকটের কারণে কালোমাথা কাস্তেচরা এখন আর সহজে চোখে পড়ে না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দলবদ্ধ এই পাখিগুলোর ছবি তুলতে পেরেছি, যা আমার কাছে অসাধারণ এক প্রাপ্তি।”

তিনি আরও বলছেন, “নির্দিষ্ট সময়ের আগে কিছুই হয় না, অতএব অপেক্ষার কোনো বিকল্প নেই।” প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য অপেক্ষা করতে জানা প্রয়োজন।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই বিরল এই কালোমাথা কাস্তেচরাকে টিকিয়ে রাখতে জলাভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণের বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন। তা না হলে একদিন হয়তো দলের সঙ্গে উড়ে বেড়ানো এই পাখিটি শুধুমাত্র স্মৃতির পাতায় নিজের জন্য জায়গা করে নেবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণপরিবহনে নজরদারি বাড়াতে কাল থেকে চালু হচ্ছে জিপিএস বাধ্যতামূলক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


গণপরিবহনে নজরদারি বাড়াতে কাল থেকে চালু হচ্ছে জিপিএস বাধ্যতামূলক

দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সরকার দ্বারা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ আগস্ট তারিখ থেকে নতুন যানবাহনের নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করার ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা দেখাতে হবে।

সরকারের লক্ষ্য হলো গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তি ব্যবহারে কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যাবে না। এতে কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারও আশা করতে হবে।

বর্তমানে দেশের সড়কে যাত্রী তোলার জন্য বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে, যার ফলে বেপরোয়া রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, পাশাপাশি স্বাভাবিক যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।

এ অবস্থায় সড়ক ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলা আনতে সরকার সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে ইতিমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকে সব যানবাহনে এটি শতভাগ কার্যকর করা সম্ভব হবে না বলে মনেকরেন তিনি। এজন্য কিছু অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকে, তাহলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন গাড়ি নিবন্ধনের জন্য আসলে সেটিতে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও এটি বাধ্যতামূলক। জিপিএস যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা তৈরি করছে, যাতে তা নিশ্চিত করা যায় যে কোনো গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না।

এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করে সুশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক, কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজনের মাধ্যমে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর নজরদারির ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদেশি পণ্যের বড় চালান জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদেশি পণ্যের বড় চালান জব্দ

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালংকার, নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম ও বিদেশি মদ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ সময় শুল্ক-করসহ আটক পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা বলে জানানো হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট এ-শিফটের কর্মকর্তারা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৮-এ আগত যাত্রীদের ব্যাগেজ সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার সময় ১ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় তিনটি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে ওই ব্যাগগুলো তল্লাশি করে 'মন্ড' ব্র্যান্ডের ৩৭০ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

এ সময় অন্যান্য ফ্লাইট থেকে আগত বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে আরও ১১১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ৪৮১ কার্টন বিদেশি সিগারেট আটক করা হয়েছে।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। তবে প্রযোজ্য শুল্ক-কর এবং ৬২১ শতাংশ টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স (টিটিআই) যোগ করলে এর মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা দাঁড়ায়।

একই ফ্লাইটে আগত যাত্রী মো. তাজুল ইসলামের হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পাসপোর্ট যাচাই করে কাস্টমস কর্মকর্তারা দেখতে পান, ওই যাত্রী গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার এনেছিলেন। ব্যাগেজ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী একই বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত স্বর্ণালংকার শুল্কমুক্তভাবে আনার সুযোগ না থাকায় নতুন করে আনা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। আটক স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৫ টাকা হলেও শুল্ক-করসহ এর মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

অভিযানে আরও ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া কলকাতা থেকে আগত বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১ লিটার বিদেশি মদ বা হুইস্কি জব্দ করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রযোজ্য ৬১০ দশমিক ৩০ শতাংশ শুল্ক-করসহ মোট মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা বিদেশি সিগারেটের মূল্য ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকারের মূল্য ৩০ লাখ টাকা, নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিমের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বিদেশি মদের মূল্য ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে শুল্ক-করসহ আটক পণ্যের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, আটক পণ্যগুলোর বিষয়ে কাস্টমস আইন, ব্যাগেজ বিধিমালা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে চোরাচালান, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনাজপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে একজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


দিনাজপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে একজন গ্রেপ্তার

দিনাজপুর, ৩১ জুলাই ২০২৬ : জেলা সদরে আজ দুই হাজার পিস ‘ইয়াবা’ ট্যাবলেট সহ সোহরাব হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে দিনাজপুর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গোশাইপুরে জেলা ট্রাক ও ট্রাকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন ভবনের সামনে থেকে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, এমন খবর পুলিশ সুপার মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত বাস চালক সোহরাব হোসেন দিনাজপুর সদর উপজেলার বরাইপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্যামলী পরিবহনে কোচের চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গোশাইপুরে, দিনাজপুর-দশমাইল মহাসড়কে জেলা ট্রাক ও ট্রাকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন ভবনের সামনে অভিযানকালে, হাতে থাকা একটি ব্যাগে দু'টি প্লাস্টিকে মোড়ানো প্যাকেটের ভেতরে কুডিয়ে নীল জিপার পলিব্যাগে এসব ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দিনাজপুর সদর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুন নবী জানান, আটক ব্যক্তিকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%