০৫:২০ পি.এম
দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সরকার দ্বারা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ আগস্ট তারিখ থেকে নতুন যানবাহনের নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করার ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা দেখাতে হবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তি ব্যবহারে কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যাবে না। এতে কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারও আশা করতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
বর্তমানে দেশের সড়কে যাত্রী তোলার জন্য বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে, যার ফলে বেপরোয়া রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, পাশাপাশি স্বাভাবিক যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।
এ অবস্থায় সড়ক ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলা আনতে সরকার সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে ইতিমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকে সব যানবাহনে এটি শতভাগ কার্যকর করা সম্ভব হবে না বলে মনেকরেন তিনি। এজন্য কিছু অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকে, তাহলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন গাড়ি নিবন্ধনের জন্য আসলে সেটিতে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও এটি বাধ্যতামূলক। জিপিএস যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা তৈরি করছে, যাতে তা নিশ্চিত করা যায় যে কোনো গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না।
এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করে সুশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক, কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজনের মাধ্যমে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর নজরদারির ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন